জাতীয়লাইফস্টাইলশিক্ষাঙ্গনসীমানা পেরিয়েস্বাস্থ্যপাতা

লকডাউনের প্রথম দিনে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ

এম এ জাহান : চলমান লকডাউনে মার্কেট খুলে দেয়ার দাবিতে লকডাউনের প্রথম দিন সোমবারও (৫ এপ্রিল) নিউমার্কেট এলাকায় বিক্ষোভ করছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিন সকাল থেকে রাস্তায় বিক্ষোভ করছেন নিউমার্কেট, গাউছিয়া, হকার্স মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোডসহ মিরপুর রোডের ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, সকল প্রকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মার্কেট খোলা রাখার জন্য সরকারের অনুমতি চান।

গত এক বছরে করোনায় যে ক্ষতি হয়েছে তা সামনের রমজানে মার্কেট খোলা রাখলে কিছুটা পোষাতে পারবে বলে জানান তারা।

গাউছিয়া মার্কেটের সভাপতি কামরুল হাসান বলেন, আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা সীমিত পরিসরে আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

এর আগে গতকাল একই দাবিতে নিউমার্কেট এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ব্যবসায়ীরা।

এছাড়াও রাজধানীর ইসলামপুর, চাঁদপুর, সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড় ও মাগুরায় লকডাউনে ব্যবসায়িক ক্ষতির প্রতিবাদে মিছিল করেছেন ব্যবসায়ীরা।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় ইসলামপুর-পাটুয়াটুলি রোডে কয়েকশ’ ব্যবসায়ী রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। ব্যবসায়ীরা বলেন, গরীব মারার লকডাউন আমরা মানিনা, মানবোনা। আগে মানুষের পেটে ভাত দিন, তারপরে লকডাউন। গত বছর লকডাউনের কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে ক্ষতি এখনো পূরণ করা সম্ভব হয়নি। সামনে ঈদ, তাই ঈদ উপলক্ষে দোকান খুলে দিতে হবে।

কোতোয়ালী থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ব্যবসায়ীরা সকাল থেকে রাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভ করছিলো। তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খোলা রাখার দাবি জানায়। আমরা তাদেরকে বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিয়েছি।

সোমবার বেলা ১২টার দিকে সরকার ঘোষিত লকডাউনেরর প্রথম দিনে চাঁদপুরে ‘লকডাউন মানি না’ স্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

এ সময় চাঁদপুর শহরের হাকিম প্লাজা, হকার্স মার্কেটসহ বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে পৌরসভার সামনে অবস্থান নেয়। সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি পুনরায় হর্কাস মার্কেট সংলগ্ন চাঁদপুর টাওয়ারের সামনে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।

খবর পেয়ে মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুর রশিদ ও অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেন। এরপর দুপুর ১টার দিকে ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ ও সমাবেশ শেষ করে।

লকডাউনের প্রথম দিন সোমবার বেলা ১১টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড় হাজী আসহান উল্লাহ সুপার মার্কেটের সামনের সড়ক অবরোধ করে শতাধিক ব্যবসায়ী এ বিক্ষোভ করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।

এসময় মিজানুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, লাখ লাখ টাকা আমরা বাকিতে মালামাল এনেছি। এভাবে মার্কেট বন্ধ থাকলে পাওনাদার কে কি বলবো? কিভাবে আসছে ঈদে কর্মচারীদের বেতন দিবো। তারপর আমাদের পরিবারের কি হবে। যেভাবে কল কারখানা চালু রেখেছেন, সেই ভাবে আমাদের মার্কেটগুলোকে খোলার অনুমতি দেওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান তিনি।

বিল্লাল হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা কোনো লকডাউন চাই না। পবিত্র রমজান মাস ও ঈদ সামনে রেখে লকডাউনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান খোলা রাখার দাবি জানান।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান বলেন, কয়েকজন লোক জড়ো হয়েছিল। তাদেরকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও প্রয়োজন ছাড়া মানুষকে রাস্তায় বের না হওয়ার অনুরোধও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

সরকার ঘোষিত লকডাউনের প্রথম দিন মাগুরায় ব্যবসায়িক ক্ষতির প্রতিবাদে মিছিল করে শহরের ব্যবসায়ীদের একটি অংশ।

লকডাউনের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের মিছিলের বিষয়ে মাগুরা ব্যবসায়িক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান লিটন জানান, লকডাউনের কারণে শহরের বেবিপ্লাজার ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান বন্ধ করে দোকানের সামনে বসে ছিলো। এসময় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে থাকা আনসার সদস্যরা ব্যবসায়িদের সাথে দুর্ব্যবহার করে। এতে ব্যবসায়িরা ক্ষুব্ধ হয়ে লকডাউনের প্রতিবাদে শহরে মিছিল করে। মিছিল শেষে তারা মাগুরা পৌর মেয়রের বাসভবনে গিয়ে তাদের ব্যবসায়িক ক্ষতির কথা জানিয়ে আসেন।

0Shares

Comment here