জাতীয়লাইফস্টাইলশিক্ষাঙ্গনসীমানা পেরিয়ে

জাতির পিতার আজ শুভ জন্মদিন

এসকে জামান : আজ সেই ১৭ মার্চ। ১৯২০ সালের এদিনে হাজার বছরের শৃঙ্খলিত বাঙালির মুক্তির দিশা নিয়ে জন্ম নিয়েছিল মুজিব নামের এক দেদীপ্যমান আলোক শিখা। মহাকালের আবর্তে অনেক কিছুই হারিয়ে যায়। হারিয়ে যাওয়া এ নিয়মের মধ্যেও ব্যতিক্রম হয় কিছু স্মৃতি, গুটিকয়েক নাম। বাংলা ও বাঙালির কাছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নামটি যেমন। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ এ বাঙালির অবদানের পাশাপাশি তার জন্মের তিথিও চিরজাগরূক থাকবে বাঙালির প্রাণের স্পন্দনে। আজ তার ১০১তম জন্মবার্ষিকী।

২১ বছর পর ক্ষমতায় এসে ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনকে ‘জাতীয় শিশু দিবস’ এবং ‘সরকারি’ ছুটি ঘোষণা করে। কিন্তু ২০০১ সালে যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে ক্ষমতায় এসেই বিএনপি ছুটি বাতিল করে দেয়। ২০০৯ সালে ভূমিধস মহাবিজয় নিয়ে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার আবারো সরকারি ছুটি ঘোষণা করে। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। তাই আজ বুধবার জাতীয় শিশু দিবস ও সরকারি ছুটির দিন। বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলাদা বাণী দিয়েছেন।

জাতির পিতার জন্মবার্ষিকী এমন এক সময় উদযাপিত হচ্ছে তার কিছুদিন আগে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে তিন বছরের স্থলে পাঁচ বছরের প্রস্তুতিকাল সুপারিশ করা হয়েছে। অর্থাৎ ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটাকে মুজিববর্ষের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে অভিহিত করেছেন।

আগে থেকেই মুজিববর্ষ ঘিরে শতস্বপ্ন ছিল বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার। তাই গত বছর নেয়া হয়েছিল নানা কর্মসূচি। বিশেষ করে জনকল্যাণমূলক নানা আয়োজন। কিন্তু মহামারী করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯)-এর জন্য স্থগিত করা হয় আয়োজন। তার পরেও পালন করা হয় কিছু কর্মসূচি বছরজুড়ে। চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুজিববর্ষের নানা আয়োজন।

মুজিববর্ষে ৬৬ হাজার ১৮৯টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে দুই শতাংশ খাসজমির মালিকানাসহ দুই কক্ষবিশিষ্ট গৃহ উপহার দেয়া হয়। একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে বিনামূল্যে ঘর করে দেয়ার মধ্য দিয়ে বিশ্বে অনন্য নজির সৃষ্টি করে বাংলাদেশ তথা শেখ হাসিনা সরকার। বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরও ঘর দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, মূল মন্ত্রকে ধারণ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের মধ্যেই শতভাগ বিদ্যুতায়নও করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম: টুঙ্গিপাড়ায় শেখ পরিবারে জন্ম নেয়া খোকা নামের শিশুটি কালের আবর্তে হয়ে উঠেছিলেন নির্যাতিত-নিপীড়িত বাঙালির ত্রাণকর্তা ও মুক্তির দিশারি। পরিণত বয়সে তিনি হয়ে ওঠেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা। বর্ণাঢ্য সংগ্রামবহুল জীবনের অধিকারী এই নেতা অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্ব ইতিহাসে ঠাঁই করে নেন স্বাধীন বাংলাদেশের রূপকার হিসেবে। তিনি বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি। বাবা শেখ লুৎফর রহমান ছিলেন গোপালগঞ্জ দেওয়ানি আদালতের সেরেস্তাদার। মুজিব ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তৃতীয় ছিলেন।

স্কুল জীবন থেকেই মুজিবের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলির বিকাশ ঘটে। তিনি যখন গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুলের ছাত্র সেসময় একবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক ওই স্কুল পরিদর্শনে আসেন। শোনা যায়, ওই অঞ্চলের অনুন্নত অবস্থার প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তরুণ মুজিব বিক্ষোভ সংগঠিত করেন। রাজনীতিতে তিনি ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর একজন একনিষ্ঠ অনুসারী। ১৯৪৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে মুসলিম লীগ শেখ মুজিবকে ফরিদপুর জেলায় দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণার দায়িত্ব অর্পণ করে।

১৯৪৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ গঠনে প্রধান সংগঠকদের একজন ছিলেন শেখ মুজিব। বস্তুত জেলে অন্তরীণ থাকা অবস্থায় নবগঠিত পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের যুগ্ম সম্পাদকের তিনটি পদের মধ্যে একটিতে নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে শেখ মুজিবের সক্রিয় রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কাজে পুরোপুরি আত্মনিয়োগের জন্য শেখ মুজিবুর রহমান মুখ্যমন্ত্রী আতাউর রহমান খানের মন্ত্রিসভায় মাত্র ৯ মাস কাজের পর মন্ত্রী পদে ইস্তফা দেন।

১৯৬৪ সালে জেনারেল আইয়ুব খানের শাসনামলে আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করার মতো সাহসিকতা দেখিয়েছেন শেখ মুজিব, যদিও তার রাজনৈতিক গুরু সোহরাওয়ার্দী রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ রেখে পাকিস্তানে সাংবিধানিক শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট নামে একটি রাজনৈতিক মোর্চার ব্যানারে কাজ করার স্বপক্ষে ছিলেন।

শেখ মুজিব ছিলেন ভাষা আন্দোলনের প্রথম কারাবন্দিদের একজন। বিশ শতকের ষাটের দশকের প্রথমদিকে শেখ মুজিবুর রহমান রাজনীতিতে প্রাধান্য লাভ করেন। অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতার দ্বারা শেখ মুজিব আওয়ামী লীগকে আন্তঃদলীয় রাজনীতি থেকে মুক্ত করে দলের মূল স্রোত থেকে কিছু কিছু উপদলের বেরিয়ে যাওয়া রোধ করতে সক্ষম হন। সম্মোহনী শক্তিসম্পন্ন সংগঠক শেখ মুজিব দলের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব স্থাপন করতে পেরেছিলেন।

১৯৬৬ সালে তিনি তার বিখ্যাত ছয়দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন এবং এই ছয় দফাকে আখ্যায়িত করেন ‘আমাদের (বাঙালিদের) মুক্তি সনদ’ রূপে। প্রকৃতপক্ষে ছয়-দফা কর্মসূচির অর্থ ছিল কার্যত পূর্ব পাকিস্তানের জন্য স্বাধীনতা। মুজিব কর্তৃক ছয়দফা কর্মসূচির চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়ার পর আইয়ুব সরকার তাকে কারারুদ্ধ করে। শেখ মুজিব এবং আরো ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে একটি রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করা হয়। সরকারিভাবে এ মামলাটির নাম দেয়া হয় ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য’।

এ মামলায় শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় যে তিনি অন্যান্য আসামির যোগসাজশে পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। অভিযোগ মতে শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য আসামি ভারতের সহায়তায় পূর্ব পাকিস্তানকে বলপূর্বক বিচ্ছিন্ন করার গোপন পরিকল্পনা করছিলেন। পাল্টা আঘাত হানার এ চালটি অবশ্য বুমেরাং হয়েছিল।

ঢাকা কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলাটির বিচার চলছিল যেটা পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পাকিস্তানের আধিপত্যবাদী মনোভাবের বিরুদ্ধে বাঙালিদের আবেগ অনুভূতিকে প্রবলভাবে আলোড়িত করে। সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে পরিষদের সভাপতি তোফায়েল আহমদ শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন। মুজিবের মধ্যে তারা এমন একজন ত্যাগী নেতার প্রতিফলন দেখতে পান যিনি ২৩ বছরের পাকিস্তানি শাসনামলের প্রায় ১২ বছর জেলে কাটিয়েছেন। ১২ বছর জেলে এবং ১০ বছর কড়া নজরদারিতে থাকার কারণে শেখ মুজিবের কাছে পাকিস্তানকে নিজের স্বাধীন বাসভ‚মির পরিবর্তে বরং কারাগার বলেই মনে হতো।

১৯৭০ সালের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের একমাত্র মুখপাত্র হিসেবে আবিভুত হন। তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসনে (নারীদের জন্য সংরক্ষিত ৭টি আসনসহ) জয়লাভ করে।

আপামর জনগণ তাকে ছয় দফা মতবাদের পক্ষে নিরঙ্কুশ ম্যান্ডেট প্রদান করে। ছয় দফা বাস্তবায়নের দায়িত্ব তার উপরই বর্তায়। ১৯৭১ সালের ৩ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের সব প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে রমনা রেসকোর্সে একটি ভাব-গম্ভীর অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন এবং শপথ নেন, পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র প্রণয়নের সময় তারা কথনো ছয় দফা থেকে বিচ্যুত হবেন না।

এ পরিস্থিতিতে জেনারেল ইয়াহিয়ার সামরিক জান্তা এবং পশ্চিম পাকিস্তানের নির্বাচিত নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কেন্দে সরকার গঠন করতে না দেয়ার জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সালের ১ মার্চ এক ঘোষণায় ৩ মার্চ ঢাকায় অনুষ্ঠেয় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন একতরফাভাবে স্থগিত করেন। এ ঘোষণার ফলে পূর্ব পাকিস্তানে সর্বাত্মক বিক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠে।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ মুজিব রেসকোর্স ময়দানে দশ লাখ লোকের বিশাল জমায়েতে তার ঐতিহাসিক ভাষণ দেন যা বাঙালি জাতির ইতিহাসে যুগ সন্ধিক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত আছে। বক্তৃতা শেষে মুজিব ঘোষণা করেন- ‘প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে… মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব, এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ… এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।

এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান এবং পশ্চিম পাকিস্তানের অন্যান্য নেতা বঙ্গবন্ধু এবং তার দলের সাথে আলোচনা শুরু করতে ১৫ মার্চ ঢাকায় আসেন। পরদিন থেকে আলোচনা শুরু হয়, যা মাঝে-মধ্যে বিরতিসহ ২৫ মার্চ সকাল পর্যন্ত চলে। এ সময়ে পূর্ব পাকিস্তানে অসহযোগ আন্দোলন এবং লাগাতার হরতাল চলছিল। মার্চের ২ তারিখ থেকে ছাত্র এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা স্বাধীনতা ঘোষণা করতে থাকেন এবং এ ধারা অব্যাহতভাবে চলে।

এ পটভূমিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী অপারেশন সার্চলাইটের নামে ২৫ মার্চ মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে পৈশাচিক তাণ্ডব চালিয়ে ছাত্র-শিক্ষক এবং নিরীহ লোকদের গণহারে হত্যা করে। এভাবে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী দীর্ঘ ৯ মাস ধরে গণহত্যা চালিয়ে যায়। শেখ মুজিবকে ২৫ মার্চ রাতে গ্রেফতার করে ঢাকা সেনানিবাসে আটক রাখা হয় এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও বিদ্রোহে উসকানি দেয়ার অভিযোগে বিচারের জন্য পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়।

২৫ মার্চ কালরাত্রিতে পাকবাহিনীর হামলার পর থেকে যে স্বাধীনতার সংগ্রাম শুরু হয় সেসময় বঙ্গবন্ধু যদিও পাকিস্তানিদের হাতে বন্দি ছিলেন তথাপি তাকে তার অনুপস্থিতিতে মুজিবনগর সরকার নামে অভিহিত অস্থায়ী সরকারের রাষ্ট্রপতি করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য জনপ্রতিনিধিরা ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠন করে। তাকে সশস্ত্রবাহিনীর সর্বাধিনায়কও করা হয়েছিল। স্বাধীনতা যুদ্ধের গোটা অধ্যায়ে শেখ মুজিবের অনন্য সাধারণ ভাবমূর্তি মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা এবং জাতীয় ঐক্য ও শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে।

পাকিস্তানি জান্তা বঙ্গবন্ধুর বিচার করে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিলে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ তার জীবন বাঁচাতে উদ্যোগী হন। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি দখলদারী থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর শেখ মুজিবকে পাকিস্তানি কারাগার হতে মুক্তি দেয়া হয় এবং ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি তিনি লন্ডন হয়ে বিজয়ীর বেশে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। সমাজের সর্বস্তরের লাখো জনতা তেজগাঁ পুরাতন বিমানবন্দরে তাকে বীরোচিত অভ্যর্থনা জানায়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে নৃশংসভাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে ঘাতক। খুব অল্প সময়ের মধ্যে বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের ১৮ জনকে এই পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।

মুজিববর্ষে আরো কিছু অর্জন: মুজিববর্ষের মূল ফোকাস বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কর্ম ও জীবন দেশে-বিদেশে তুলে ধরা। করোনার কারণে বহু অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়। তার পরেও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আয়োজন সম্পন্ন করা হয়। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মদিনে মুজিববর্ষ শুরু হয় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যেখানে দাঁড়িয়ে ১৯৭১ সালে ৭ মার্চ ভাষণ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

একই বছর ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে মুজিববর্ষের ক্ষণ গণনা শুরু হয়। করোনা মহামারীর মধ্যেও এই এক বছরে সব মাধ্যমেই বঙ্গবন্ধুকে তুলে ধরা হয়। গত বছরের ১৫ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, ‘মুজিববর্ষ পালনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বঙ্গবন্ধুর কর্মময় জীবন আরো ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। তাই হয়েছে।

বিশেষ করে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নানা আয়োজনে মুজিববর্ষ পালন করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয় বরং সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করে ইউনেস্কো। বঙ্গবন্ধুর অবিচল সংগ্রাম ও ত্যাগের বিষয়গুলো বিশেষভাবে বিবেচনা করে ইউনেস্কোতে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০ তার নামে উৎসর্গ করা হয়েছিল। এ বছরের বইমেলাতেও ছিল নানা আয়োজন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর নামে একাধিক পুরস্কার প্রবর্তন দেশি-বিদেশি সুহৃদকে সম্মাননা দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধুর ওপর ২৪ ঘণ্টার ভিডিও চিত্র নির্মাণও করা হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে নানা ওয়েব সিরিজ, স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও শিশুতোষ অ্যানিমেটেড চলচিত্র। বঙ্গবন্ধুর নির্বাচিত ভাষণ ইংরেজি ছাড়াও আরো ১২টি হিন্দি, উর্দু, ফরাসি, জার্মান, চায়নিজ, আরবি, ফার্সি, স্প্যানিশ, রুশ, ইটালিয়ান, কোরিয়ান ও জাপানি ভাষায় অনুবাদ করা হয়। প্রকাশিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর জীবনীভিত্তিক শতাধিক বই।

0Shares

Comment here