জাতীয়লাইফস্টাইলশিক্ষাঙ্গনসীমানা পেরিয়ে

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবাষির্কীতে বিশ্বনেতারা বাংলাদেশে কে কবে আসছেন

* পৃথক স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করবেন হাসিনা-মোদি

* নেপালের রাষ্ট্রপতির প্রথম সফরে থাকছে বিভিন্ন আয়োজন।

দিগন্তর ডেস্ক : স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবাষির্কী উদযাপন উপলক্ষে ১০ দিনের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বর্ণিল এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশিদের শুভেচ্ছা জানাতে আসছেন বিশ্বনেতারা। অনেক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ভিডিও বার্তায় জানাবেন শুভেচ্ছা। ইতোমধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পাঁচটি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান সশরীরে অংশ নেয়ার সম্মতি দিয়েছেন।

১০ দিনের কর্মসূচির বিভিন্ন সময়ে অংশ নেবেন এসব বিশ্বনেতারা। একই সঙ্গে বিশ্বনেতারা টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পরিদর্শনে যাবেন, বিশেষ সামরিক কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করবেন, রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেবেন এবং বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

উদযাপন জাতীয় কমিটি সূত্র মতে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকা আসছেন আগামী ২৬ মার্চ। ১০ দিনের অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে তিনি অংশ নেবেন। ২৭ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের দ্বিতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। তাদের বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থান পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর গ্রামে তার মাজার পরিদর্শনে যাবেন। এছাড়া তিনি ঢাকার বাইরে গোপালগঞ্জ ও সাতক্ষীরায় দুটি হিন্দু মন্দির পরিদর্শন করবেন। এই মন্দিরগুলো বিশেষত হিন্দু মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রার্থনার স্থান। এদের একটি বড় অংশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বাস করে।

 

মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইবরাহিম মোহাম্মদ প্রথম শীর্ষ বিদেশি আমন্ত্রিত সম্মানিত অতিথি হিসেবে ১৭ মার্চ ঢাকায় পৌঁছাবেন। তিনি তিনদিনের সফরে বাংলাদেশে আসছেন। এরপর ১৯ মার্চ দুদিনের সফরে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে বাংলাদেশে আসবেন। নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারি দুদিনের সফরে ২২ মার্চ ঢাকা পৌঁছাবেন। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং ২৪ ও ২৫ মার্চ ঢাকা সফর করবেন। এছাড়া চীন, কানাডা ও ফ্রান্সের সরকার প্রধান এবং জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের কয়েকজন নেতা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠান উপলক্ষে সরকার ও বাংলাদেশিদের অভিনন্দন জানিয়ে ভিডিও বার্তা দেবেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সফরকারী সব রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করবেন। তবে তাদের এ সফরের মূল লক্ষ্য হচ্ছে উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগদান করা। বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনার সম্ভাব্য বিষয় নিয়ে অনুমান-ভিত্তিক খবর প্রকাশ না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গত বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী বর্ণাঢ্যভাবে উদযাপন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল সরকার। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে স্বাস্থ্যসুরক্ষা বিবেচনায় পরিকল্পনাটি পরিবর্তন করা হয়। পরে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে ১০ দিনের মূল কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এছাড়া বছরব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হবে।

0Shares

Comment here