জাতীয়ধর্মকর্মপ্রযুক্তি

পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের জয়জয়কার

দিগন্তর ডেস্ক রিপোর্ট || ভোট উৎসবে ফিরছে জনগণ। গতকাল অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। পৌর ও উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনে নৌকার মনোনীত প্রার্থীদের জয়জয়কার। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদের ভিত্তিতে যে ফলাফল পাওয়া গেলো।

  • পঞ্চম ধাপে নৌকায় ধরাশায়ী ধানের শীষ
  • উপজেলা পরিষদের চারটিতেই নৌকার জয়
  • অধিকাংশ স্থানে ভোট বর্জন করেছে বিএনপি
  • কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে একজন নিহত
  • সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ভোটগ্রহণ —দাবি ইসির

পঞ্চম ধাপের পৌরসভা নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীদের জয়জয়কার। ক্ষমতাসীন দলটির প্রার্থীদের কাছে ভোটের মাঠে পাত্তাই পায়নি দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীরা। পঞ্চম ধাপে অনুষ্ঠিত ২৯টি পৌরসভার মধ্যে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে দলটি। এর আগে প্রথম চার ধাপের পৌরসভা নির্বাচনেও নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীরা।

ছোটখাটো কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে গতকাল শেষ হয়েছে পঞ্চম ধাপের পৌরসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যদিয়ে দিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন সাধারণ ভোটাররা। এ ধাপের ভোট গ্রহণের শুরু থেকেই কেন্দ্রের বাইরে নারী-পুরুষ ভোটারের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। তারা সবাই নিজ নিজ পছন্দের প্রতীক ও প্রার্থীকে ভোট প্রয়োগ করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ভোটারের সংখ্যা। যদিও কারচুপির অভিযোগ তুলে বেশ কিছু পৌরসভায় ভোটবর্জন করেছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সমর্থকরা। তবে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে বলে দাবি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের মাঠে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে ছিলো বিজিবি, র্যাব, পুলিশ, আনসার ও নির্বাহী  এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর অবস্থান থাকলেও বেশ কিছু স্থানে ছোটখাটো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেছেন, ২৯টি পৌরসভা, চারটি উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচন এবং জেলা পরিষদের উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোনো কেন্দ্রের ভোট বন্ধ করা হয়নি। আমাদের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও মনিটরিং সেল ঘণ্টায় ঘণ্টায় যে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে তাতে এখন পর্যন্ত যা বুঝতে পেরেছি দেশে যে নির্বাচনটি হয়েছে, তা উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।

সৈয়দপুরে একজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সচিব বলেন, কোনো মৃত্যুই কাঙ্ক্ষিত নয়। এজন্য আমরা সবাই দুঃখিত। সৈয়দপুরে সরকারি মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের পাশে, কেন্দ্র থেকে দূরে, দুটি গাড়ির মধ্যে, ছোটন অধিকারী নামের একজন ব্যক্তি আহত অবস্থায় ছিলেন। তাকে পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। তার শরীরে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন কোনো ছিল না। সুরতহালে এরকমই পাওয়া গেছে। কোনো আঘাতে চিহ্ন নেই। তার মৃত্যুর কারণটি জানতে গেলে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে আমরা বলতে পারবো।

পঞ্চম ধাপেও নৌকার জয়জয়কার

ভোলা সদর পৌরসভা নির্বাচনে ১৬ হাজার ৯৯ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী (নৌকা প্রতীক) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনির। এ নিয়ে তৃতীয় বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী হারুন-অর-রশিদ ট্রুম্যান পেয়েছেন ২ হাজার ৩৪ ভোট।

ভোলার চরফ্যাশন পৌরসভা নির্বাচনে ১৪ হাজার ৯১৮ ভোট পেয়ে প্রথম বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী (নৌকা প্রতীক) মো. মোরশেদ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ হোসেন পেয়েছেন ৭৮৮ ভোট। এখানে বিএনপির প্রার্থী হুমায়ুন কবির পেয়ছেন ৭৪৬ ভোট।

হবিগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও জেলা যুবলীগের সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম। তিনি নৌকা প্রতীকে ১৩ হাজার ৪৪৩ ভোট পেয়েছেন। দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র মিজানুর রহমানের চেয়ে ২ হাজার ৬৫৩ ভোট বেশি পেয়ে তিনি বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

জয়পুরহাট পৌরসভায় মেয়র পদে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক। তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে ২৪ হাজার ৪৯০ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুল হক। তিনি ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে পেয়েছেন ৪ হাজার ১৬১ ভোট।

মানিকগঞ্জের সিংগাইর পৌরসভায় মেয়র পদে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবু নাঈম মোহাম্মদ বাসার। তিনি নৌকা প্রতিক নিয়ে ১৪ হাজার ৩২২ ভোট পেয়েছেন । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খোরশেদ আলম ভূঁইয়া জয়। তিনি পেয়েছেন ১ হাজার ৭১৯ ভোট।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল পৌরসভায় নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আব্দুর রশিদ খান (ঝালূ)। তিনি নৌকা প্রতীকে ৪ হাজার ৫৩২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী) রেজাউল করিম বাবু চামচ প্রতীকে পান ২ হাজার ৮৯২ ভোট।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আশরাফুল আলম আশরাফ আবারো নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ১৯ হাজার ৩২৭ ভোট পেয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন মাহাবুবার রহমান। তিনি পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৪ ভোট।

মহেশপুর পৌরসভায় মেয়র পদে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আব্দুর রশিদ খান। ১৩ হাজার ৫৯৮ ভোট দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম খান চুন্নু ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ হাজার ৫৫ ভোট পেয়েছেন।

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন রুবেল ভাট ৮ হাজার ৪০২ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবিএম জিলানী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৪৪১ ভোট। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক মনির পেয়েছেন ৩০৭ ভোট।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র হিসেবে জয়লাভ করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী মিসেস নায়ার কবির। ২৮ হাজার ৫৫৪ ভোট পেয়ে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাহমুদুল হক ভূঁইয়া মোবাইল প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৩৬১ ভোট। এছাড়া বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জহিরুল হক পেয়েছেন ৮ হাজার ১৩২ ভোট।

চাঁদপুরের মতলব ও শাহরাস্তি পৌরসভা নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. আওলাদ হোসেন ও আবদুল লতিফ। তারা দুজনেই বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। মতলব পৌরসভায় নৌকার মনোনীত প্রার্থী মো. আওলাদ হোসেন পেয়েছেন ৯৭৯ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম (হাতপাখা) প্রতীকে পেয়েছেন ৭৫৭ ভোট ও দেওয়ান মহাম্মদ আলাউদ্দিন কবির (লাঙল) প্রতীকে পেয়েছেন ১৯৭ ভোট।

চাঁদপুরের শাহরাস্তি পৌরসভায়  নৌকার মনোনীত প্রার্থী আবদুল লতিফ ১২ হাজার ৯৬৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোস্তফা কামাল (মোবাইল) প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ১৩২ ভোট।  বিএনপি মনোনীত ফারুক হোসেন মিয়াজী (ধনের শীষ) প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৮শ ৩৫ ভোট।

সৈয়দপুর পৌরসভায় নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রথম নারী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন রাফিকা আকতার জাহান বেবী। তিনি ২৮ হাজার ২৭৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ রশিদুল হক সরকার পেয়েছেন ১০ হাজার ৯৭৫ ভোট।

রাজশাহীর দুর্গাপুর পৌরসভায় মেয়র পদে হ্যাটট্রিক জয় পেয়েছেন বর্তমান মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন। নৌকা প্রতিক নিয়ে তিনি ৮ হাজার ৮০৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জার্জিস হোসেন সোহেল (ধানের শীষ) প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৪০১ ভোট।

রাজশাহীর চারঘাট পৌরসভায় জয়ে পেয়েছেন একরামুল হক। তিনি আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতিক নিয়ে ১৪ হাজার ৯৮১ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির জাকিরুল ইসলাম বিকুল ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৮১২ ভোট।

জামালপুর পৌরসভায় মেয়র জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ছানোয়ার হোসেন ছানু। তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৫৯৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির (ধানের শীষ) অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন পেয়েছেন ২ হাজার ১৫৬ ভোট।

ইসলামপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী আব্দুল কাদের শেখ বিজয় লাভ করেছেন। তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে ১৪ হাজার ১৯১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির রেজাউল করিম ঢালী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৫১ ভোট।

মাদারগঞ্জ পৌরসভায় জয় পেয়েছেন মির্জা গোলাম কিবরিয়া কবির। তিনি নৌকা প্রতিক নিয়ে ১১ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল গফুর। তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১৪ হাজার ৫ ভোট পেয়েছেন ।

গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে জয়লাভ করেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী এস এম রবীন হোসেন। তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে ১৩ হাজার ৭৮৪ ভোট পেয়ে প্রথমবারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী নারিকেল গাছ প্রতীকের লুৎফুর রহমান পেয়েছেন ১০ হাজার ২২৫টি ভোট। এ পৌরসভায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফরিদ আহমেদ ১ হাজার ২৯৭ ভোট পেয়েছেন।

কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌরসভায় মেয়র পদে নির্বাচিত হয়েছেন ইফতেখার হোসেন বেনু। তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে ৩৭ হাজার ৮৪৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হাজী শাহীন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯ হাজার ৬৮৯ ভোট।

মাদারীপুর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী খালিদ হোসেন ইয়াদ মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি নৌকা প্রতীকে ২২ হাজার ৫৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়া ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৫ হাজার ২৫৬ ভোট।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় মাদারীপুর শিবচর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. আওলাদ হোসেন খান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। গতকাল রোববার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মো. মনিরুজ্জামান তাকে বেসরকারিভাবে বিজয়ীর ঘোষণা করেন।

যশোরের কেশবপুর পৌরসভায় নৌকা প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে বিজয় লাভ করেছেন রফিকুল ইসলাম মোড়ল। তিনি ১১,৮৮৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপির আব্দুস সামাদ আজাদ। তিনি  পেয়েছেন ২৩১৩ ভোট।

ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভা নির্বাচনে টানা দ্বিতীয় বারের মত জয়ী হয়েছেন মো. রফিক উদ্দিন ভূইঁয়া। তিনি ক্ষমতাসীণ আওয়ামী লীগের নৌকার প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১০ হাজার ৫৭ ভোট। আর বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আজিজুল ইসলাম পিকুল পেয়েছেন ৬ হাজার ৭ শত ৪৯ ভোট পেয়েছেন।

নরসিংদী পৌরসভা নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে স্থগিত চার কেন্দ্রের ফলাফলে মেয়র পদে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আমজাদ হোসেন বাচ্চু বিজয়ী হয়েছেন। গতকাল চার কেন্দ্রের পুনঃনির্বাচনে তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোবাইল প্রতীকের এসএম কাইয়ুমের কাছ থেকে ১ হাজার ২৮ ভোট বেশি পেয়ে এ বিজয়ী হন। এর আগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ ধাপে অনুষ্ঠিত নরসিংদী পৌরসভা নির্বাচনে ৩৬ কেন্দ্রের ফলাফলে আমজাদ হোসেন ১ হাজার ১৭৬ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। এনিয়ে আমজাদ হোসেন বাচ্চু মোট ২ হাজার ২০৪ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া মেয়র পদে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. শাহজাহান সিকদার। তিনি ভোটে পেয়েছে ৪৮৯৮টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী  দদারুল আলম ধানের শীষ প্রতিক ভোট পেয়েছেন  ১৩১ ভোট।

বিএনপির একটি পৌরসভায় জয়

পঞ্চম ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে শুধু মাত্র বগুড়া পৌরসভায় জয় পেয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা। তিনি ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে ৮২ হাজার ২১৭টি ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মান্নান আকন্দ। তিনি পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৯০টি ভোট। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবু ওবায়দুল হাসান ববি।

একটি পৌরসভায় আ.লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয়

রংপুরের হারাগাছ পৌরসভায় জয়ে পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এরশাদুল হক। তিনি  নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১৭ হাজার ২৯৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র হাকিবুর রহমান নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৭ হাজার ১৭৩ ভোট। এছাড়া বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে মোনায়েম হোসেন ফারুক পেয়েছেন ৪ হাজার ৯২১ ভোট।

শরীয়তপুরের ডামুড্যা পৌরসভায়  জয়ী হয়েছেন রেজাউল করিম রাজা ছৈয়াল। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জগ প্রতিকে নির্বাচনের অংশগ্রহণ করেন । রজাউল করিম রাজা পাঁচ হাজার ৮৬৮ ভোট পেয়েছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কামাল উদ্দিন আহমদ (নৌকা) পেয়েছেন দুই হাজার ৩৭৩ ভোট।  বিএনপি মনোনীত নাজমুল হক সবুজ মিয়া (ধানের শীষ) প্রতীকে পেয়েছেন ৪৪০ ভোট।

উপজেলা পরিষদে উপনির্বাচন

রাজশাহীর পবা উপজেলা পরিষদ উপনির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছেন নৌকার মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াসিন আলী। তিনি ৭৭ হাজার ৬৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ইয়াসিন আলীর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মামুনুর সরকার জেড। তিনি ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে ৬ হাজার ৩১৫ ভোট পেয়েছেন।

কুমিল্লার দেবিদ্বারে উপজেলা পরিষদ উপনির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. আবুল কালাম আজাদ বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ৯৫ হাজার ৫৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী এএফএম তারেক মুন্সি। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ৫৯ হাজার ১৪২ ভোট পেয়েছেন।

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতিকের প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম। তিনি পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৭শ ৭৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বনিন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী গোলাম মনসুর নাননু পেয়েছেন ১৪ হাজার ৫২ ভোট।

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শিকদার শেফালী বেগম। তিনি নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লক্ষ ৮৮ হাজার ৮১৬ ভোট। ধানের শীষ প্রতীকের হুমায়ুন বাবর ফিরোজ ভোট পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৩৩টি।

গতকাল সারা দেশে অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চম ধাপের পৌরসভা নির্বাচন। এ ধাপে সব পৌরসভায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হয়। এ ধাপের ভোট গ্রহণের শুরু থেকেই কেন্দ্রের বাইরী নারী-পুরুষ ভোটারের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। তারা সবাই নিজ নিজ পছন্দের প্রতীক ও প্রার্থীকে ভোট দেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ভোটারের সংখ্যা। পঞ্চম ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে ভোট কারচুপি, অনিয়ম, ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে না ও ধানের শীষের এজেন্টদের বের করে দেয়াসহ বেশ কিছু অভিযোগ তুলে জয়পুরহাট পৌরসভায় পুনঃনির্বাচনের দাবি করে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী অধ্যক্ষ শামছুল হক। এ দিন দুপুরে তার নির্বাচনি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এ দাবি জানান। এ সময় পুনঃনির্বাচন দাবি করেন তিনি।  কেন্দ্রের পাশে ককটেল বিস্ফোরণের পর রাজশাহীর চারঘাট পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী জাকিরুল ইসলাম বিকুল ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। গতকাল দুপুর নিজ বাসভবনে তাৎক্ষণিক এক সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন তিনি। এ সময় বিকুল অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান সরকার প্রহসনের নির্বাচন করছে। সব কেন্দ্র থেকে তার পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া বিএনপির সমর্থক ও ভোটারদের আঙুলের ছাপ নিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রতিপক্ষের নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়ারও অভিযোগ করেন তিনি। তার ওপর ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সংশয় প্রকাশ করে ভোট বর্জনের পর তার ও তার পরিবারের জীবনের নিরাপত্তাও চেয়েছেন তিনি।

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভা নির্বাচনে গোপন বুথে একটি বিশেষ দলের পক্ষে ওপেন ভোট প্রদান, বিএনপির এজেন্ট বের করে দেয়া ও অন্যের ভোট দিয়ে দেয়াসহ নানা অভিযোগ তোলেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী। এছাড়া রায়পুর মার্চেন্ট একাডেমি কেন্দ্রে ওপেন ভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। বিএনপির মেয়র প্রার্থী এ বি এম জিলানী বলেন, প্রতিটি কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের এজেন্ট বের করে দিয়ে নৌকায় ওপেন ভোট দেয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌরসভার বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম চুন্নু নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। গতকাল দুপুরে তিনি মহেশপুর উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভোট বর্জন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রে কেন্দ্রে তার এজেন্টদের রেব করে দেয়া হয়েছে। তার ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা দিয়েছে সরকার দলীয় প্রার্থীর লোকজন। তাছাড়া প্রতিটি কেন্দ্র ও তার আশেপাশে দলীয় লোকজন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। বিএনপির সমর্থিত কাউকে আসতে দেখলেই তাকে হুমকি ধামকি দিয়ে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রে গিয়ে দেখতে পাই প্রতিটি বুথের ভেতরে নিয়োজিত ব্যক্তি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। এসব বিষয়ে নির্বাচনে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা পাইনি। যে কারণে অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু নির্বাচন হচ্ছে না। যার ফলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।  নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভা নির্বাচনের ভোটে অনিয়ম, কর্মীদের পিটিয়ে তাড়িয়ে দেয়া ও প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান জাতীয় পার্টির (এরশাদ) মেয়র প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম।

নিজ নির্বাচনি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন তিনি। সিদ্দিকুল আলম বলেন,  আমরা বিরোধী দলে আছি। সরকারের ভালো কাজে সহযোগিতা দিচ্ছি। অথচ সৈয়দপুর পৌরসভা নির্বাচনে আমাদের কর্মীদের নির্যাতন করা হচ্ছে। এ থেকে নারী কর্মীরাও বাদ যায়নি। ৪১টি ভোটকেন্দ্র থেকে আমাদের পোলিং এজেন্ট ও কর্মীদের বের করে দেয়া হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসন সরকার দলীয় কর্মীদের সহযোগিতা দিয়েছে। তারা পক্ষপাতিত্ব করেছে। যদি একতরফা নির্বাচনই হবে, তাহলে কেন এ নির্বাচনি নাটক। এছাড়া আরও বেশ কিছু স্থানে নির্বাচনের অনিয়ম তোলেন বিএনপিসহ সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও সমর্থকরা। এদিকে নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌর নির্বাচনে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হন। এ সময় আহত হয় আরও পাঁচজন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল দুপুর ২টার দিকে উপজেলার মুন্সিপাড়ার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটকেন্দ্রের বাইরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম ছোটন অধিকারী। তিনি উপজেলার মুন্সিপাড়া এলাকার বাসিন্দা।  নোয়াখালীর সেনবাগের কেশারপাড় ইউনিয়ন পরিষদের একটি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য পদে উপনির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। গতকাল সকালে উপজেলার কেশারপাড় ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের লুদুয়া কলাবড়িয়া ভোটকেন্দ্রে ওই বৃদ্ধ ভোট দিতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. খোরশেদ আলম (৬৫)। সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল বাতেন মৃধা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খোরশেদ আলম ভোট দিতে গিয়ে ভোট কেন্দ্রের বুথে হ্যার্ট অ্যাটাক করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে একপর্যায়ে ভোটকেন্দ্রের বুথে তার মৃত্যু হয়।

পঞ্চম ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে কিছু স্থানে সংঘর্ষ, হামলা ও ভোট কারচুপির অভিযোগে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীরা ভোটবর্জন করলেও অধিকাংশ স্থানে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রধম চার ধাপে অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনের তুলনায় এ ধাপে ভোটার উপস্থিতি ছিলো অনেক বেশি। সকাল থেকেই ভোট দিতে আসেন সাধারণ মানুষ। ভোটের মাঠের এমন পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোস প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

গতকাল রোববার পঞ্চম পৌরসভা নির্বাচনের পাশাপাশি ঝিনাইদহের শৈলকূপা, ফরিদপুরের মধুখালী, রাজশাহীর পবা ও কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি স্থানেই চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীরা। তবে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কোথাও কোনো বড় ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। একই অবস্থা ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের। গতকাল অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। পৌর ও উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনে নৌকার মনোনীত প্রার্থীদের জয়জয়কার।

0Shares

Comment here