জাতীয়শিক্ষাঙ্গনসীমানা পেরিয়ে

ভেড়ামারায় প্রবাসীর বউকে ধর্ষণের অভিযোগ

মোঃ মেহেদী হাসান(জ্যাকি)
ভেড়ামারা প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় প্রবাসীর স্ত্রী কে মারপিট, অর্থ আদায় ও গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসী এবং লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভেড়ামারা পৌর শহরের ৯ ওয়ার্ডের বামন পাড়া এলাকায় অভিযুক্ত ইয়ামিন গ্যাং কর্তৃক ১৪ ফেব্রুয়ারী রাত ১০ টায় ৩ সন্তানের জননীকে মারপিট রেপ, মোবাইল ফোন নগদ ২০ হাজার টাকা ও স্বর্ণের চেইন ছিনতাই এর ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে একশ্রেণীর কুচক্রী মহল অপচেষ্টা করে এবং নানা ভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। অবশেষে গতকাল সোমবার রাতে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ এর সামনে পুলিশ প্রশাসন মামলা গ্রহণ করেন। এ ঘটনায় ৫জনকে আসামী করে ভেড়ামারা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং ২৩। তারিখ ২২/২/২০২১। আসামিরা হলো ১। মোঃ ইয়ামিন খান(২৮) পিতা-জানারুল, ২। আঃ করিম(৩০), পিতা- মৃত রিয়াজ,৩। মোঃ নাইম(২০) পিতা- মোঃ হাপি, ৪। মোঃ স্মরণ (২২), পিতা মোঃ বিপ্লব ড্রাইভার, সর্ব সাং বামনপাড়া ৫। মোঃ তুর্য (২৩) পিতা-ইয়াদুল সাং চন্ডিপুর, থানা-ভেড়ামারা, জেলা- কুষ্টিয়া।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টার দিকে উক্ত গৃহবধূ নিজ ঘরে দূরসম্পর্কের খালাতো ভাই তানজিরের সাথে কথা বলার সময় উল্লেখিত আসামিরা জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করে তানজিরকে বাইরে বের করে এনে আটকে রেখে গৃহবধূকে জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষন করেন।

এসময় তাঁর মোবাইল ফোন এবং ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায় আসামিরা। গৃহবধূ আরো জানান, জোর করে তানজিরের সাথে অন্তরঙ্গ অবস্থা সৃষ্টি করে মোবাইল ফোনে ছবি তুলে ও ভিডিও ধারণ করেন তাঁরা এবং ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি প্রদান করেন আসামিরা।

ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহজালাল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াসির আরাফাত বলেন, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা হবে।

এদিকে, সোমবার রাতে আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে ফাঁসির দাবিতে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে বিক্ষুব্ধ এলাকা বাসী। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের আশ্বস্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বামনপাড়া নিবাসী আলমগীর বলেন, ইয়ামিন স্হানীয় জাসদ নেতা এবং ক্যাডার। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় নানা অপকর্মে জড়িত কিন্তু তার ভয়ে এলাকাবাসী মুখ খুলতো না। আজ এলাকাবাসী নারী ধর্ষণের ঘটনায় সোচ্চার। তারা ইয়ামিনসহ সকল আসামির অবিলম্বে গ্রেফতার এর জোর দাবী জানান।

0Shares

Comment here