জাতীয়রাজনীতিরুপসী বাংলা

চট্টগ্রামে চাঁদাবাজির অভিযোগে ৬ পুলিশ গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের আনোয়ারায় আব্দুল মান্নান নামে এক ব্যক্তিকে অপহরণের পর জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারের দেহরক্ষীসহ ছয় পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে আদালত ও পুলিশ সূত্র।

অভিযুক্তরা হলেন- সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীরের দেহরক্ষী কনস্টেবল মোরশেদ বিল্লাহ, নগর পুলিশের উপকমিশনার গোয়েন্দা (পশ্চিম) মনজুর মোরশেদের দেহরক্ষী কনস্টেবল মো. মাসুদ, নগরের দামপাড়া রিজার্ভ ফোর্স অফিসে কর্মরত কনস্টেবল শাকিল খান ও এস্কান্দর হোসেন, নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার কর্ণফুলী কার্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর কনস্টেবল মনিরুল ইসলাম ও নগর গোয়েন্দা পুলিশে (উত্তর) কর্মরত কনস্টেবল আবদুল নবী।

গ্রেপ্তার হওয়া ছয় পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি এ ঘটনার পর রোববার তাদের গ্রেপ্তার করা হলেও সোমবার তা প্রকাশ পায়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক বলেন, আনোয়ারা থানার একটি চাঁদাবাজি মামলায় সিএমপির পুলিশের ছয় কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

আদালতে মামলার নথি থেকে জানা গেছে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে চারটি মোটরসাইকেলযোগে ৮ তরুণ আনোয়ারা থানাধীন পূর্ব বৈরাগ গ্রাম থেকে আবদুল মান্নানকে তুলে নিয়ে যায়। এসময় তারা নিজেদের পুলিশের লোক বলে পরিচয় দেয়। এমনকি একজনের গায়ে ডিবি লেখা জ্যাকেটও ছিল। পরে ওই তরুণরা আবদুল মান্নানকে পটিয়ার ভেল্লাপাড়া এলাকায় নিয়ে আটকে রাখে।

তরুণদের দাবি, আবদুল মান্নানের বিরুদ্ধে থানায় অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ থেকে মুক্তি পেতে হলে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে। পরবর্তীতে তাদের ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেয়া হলে তারা তাকে ছেড়ে দেয়। তরুণদের কথোপকথনে মোর্শেদ নামে একজনের নাম জানতে পারেন আবদুল মান্নান।

পুলিশ সদস্য পরিচয়ে অপহরণ এবং মুক্তিপণের অভিযোগ জানিয়ে আবদুল মান্নান রোববার আনোয়ারা থানায় ছয় পুলিশ সদস্যের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। এজাহারে সরকারি কর্মচারীর ছদ্মবেশ ধারণ করে অপহরণ, টাকা দাবি ও হত্যার হুমকি দিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে পুলিশ এ ঘটনার সাথে ৬ পুলিশ কনস্টেবলের সম্পৃক্ততা পেয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

সিএমপির কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, অপরাধের সঙ্গে যে জড়িত হোক না কেন কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। সে পুলিশ সদস্য হলেও, আইন সবার জন্য সমান। যারাই অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবেই।

কমিশনার আরও জানান, তাদের সাময়িকভাবে চাকরি থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং বিভাগীয় মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন।

এর আগে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর অস্ত্র বিক্রি করার সময় চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের কনস্টেবল স্বরূপ বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। এর একদিন আগে সীতাকুণ্ডে মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে এক ড্রাইভারের কাছ থেকে দুই লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সীতাকুণ্ড মডেল থানার এস আই সাইফুল ইসলাম ও কনস্টেবল সাইফুল আলম।

0Shares

Comment here