জাতীয়রাজনীতিসীমানা পেরিয়ে

সেবার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত ডিএমপির প্রতিটি থানা, ডিএমপি কমিশনার

এসকে জামান : আত্মপ্রচারবিমুখ, কর্মপ্রবল-প্রেরণাদীপ্ত, ব্যক্তিত্বের পরিপূর্ণ অবয়ব ও বৈশিষ্ট্য দ্যুতিদীপ্ত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহাঃ শফিকুল ইসলাম।

যিনি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেই বর্তমান সরকারের প্রথম মেয়াদে নেয়া কল্যাণ ও গণমুখী এবং জনবান্ধব পুলিশবাহিনী গড়ার উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আইনের শাসন নিশ্চিত ও উন্নয়ন টেকসই করতে সততা, দেশপ্রেম, পেশাদারিত্ব ও অসীম সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পুলিশকে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে এবং আত্মবিশ্বাসের স্থান হবে থানা, এমনকি প্রতিটি থানাই হবে সুন্দর ও দর্শনীয় স্থান— প্রধানমন্ত্রীর সেই মনোবাসনা বাস্তবায়নেও ইতোমধ্যেই সফলতার জানান দিয়েছেন তিনি।

এ ছাড়াও বহুমুখী উদ্যোগ আর ‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার’ স্লোগান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও ডিএমপির অন্যান্য কর্মকর্তাসহ মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের ‘পরিচর্যা’র উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে পুলিশের বিরুদ্ধে জনতার নেতিবাচক মনোভাব দূরীকরণেও সফলতার পথে অনেক দূর এগিয়েছেন তিনি।

২০১৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ৩৪তম কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেই অদ্যাবধি ডিএমপি নিয়ন্ত্রণাধীন থানাগুলোকে সেবার কেন্দ্রবিন্দুতে রূপ দেয়ার কারিগর কমিশনার মোহাঃ শফিকুল ইসলামের কথাই দিগন্তর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো—

মানবসেবার উদ্দেশ্য নিয়েই পুলিশবাহিনীতে যোগ দেয়া কমিশনার চাকরি জীবনের শুরু থেকেই সর্বোচ্চ সাধ্যমতো চেষ্টা করে আসছেন মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং এরই মধ্য দিয়ে পুলিশবাহিনীর সুনাম, দক্ষতা এবং পেশাদারিত্ব প্রমাণের জন্যও পুলিশের প্রতিটি সদস্য যাতে ঠিকমতো কাজ করতে পারে সে লক্ষ্যেও নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তদারকিও করছেন অধীনস্তদের সব কার্যক্রম। এর প্রভাবেই ডিএমপির প্রতিটি পুলিশ সদস্যই এখন মানুষের নেতিবাচক ধারণার চেয়েও অনেক বেশি স্বচ্ছ এবং ভালো কাজ করছেন। যার প্রমাণ মেলে মানুষের জীবন ও সম্পত্তির বর্তমান নিরাপত্তা নিশ্চিতের ব্যবস্থাপনা দেখে। ডিএমপির আওতাধীন প্রতিটি থানা এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুলিশ সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কমিশনারের নেতৃত্বে ইতোমধ্যেই মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী সেবা দেয়ার পর্যায়ে পৌঁছাতেও সক্ষম হয়েছে ডিএমপি। তারা বলছেন, দায়িত্ব গ্রহণ করেই ডিএমপির সকল থানার অফিসার ইনচার্জ ও সংশ্লিষ্ট ডিসিদের কঠোর ভাষায় যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন, সে নির্দেশনার বাস্তবায়ন অগ্রগতিও নিয়মিত মনিটরিং করার মাধ্যমে প্রতিটি থানাকে ইতোমধ্যে গণমুখী ও জনবান্ধব করতে সক্ষমতার জানান দিয়েছেন তিনি। এছাড়া সেবার পরিধি বাড়াতেও গতিশীল করেছেন বিট পুলিশিং ও কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম।

জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ দমনেও তার নির্দেশনা মেনে পুলিশের পক্ষ থেকে মানুষকে বুঝাতে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন ডিএমপির সদস্যরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসায় গিয়েও জঙ্গিবিরোধী প্রচার চালানো হয়েছে এবং হচ্ছে। ধর্মগুরুদের দিয়ে জঙ্গিবাদ থেকে মানুষকে বেরিয়ে আনার প্রচেষ্টা এখনো অব্যাহত রেখেছেন ডিএমপি কমিশনার। এ ছাড়াও নতুন করে যাতে জঙ্গি তৈরি না হয় সেদিকে নজরদারি বৃদ্ধি করেছেন, জড়িয়ে যাওয়াদেরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করছেন, যা এখনো চলমান। সার্বিক উদ্যোগের বাস্তবায়নেই সফলতার জানান দিয়েছেন তিনি। মাদকের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানে থেকে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। পুলিশি কার্যক্রমের পাশাপাশি তিনি অভিভাবকদেরও সন্তানদের প্রতি খেয়াল রাখার পাশাপাশি কেউ আসক্ত হয়ে গেলে পুলিশের সহযোগিতা নেয়ার ঘোষণাও দেন। সবসময় মাদকের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতিতে থাকা ডিএমপি কমিশনার পুলিশ সদস্যদেরও মাদকের সাথে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ে ইতোমধ্যে কঠোর ভূমিকা গ্রহণ করেছেন।

কমিশনার শফিকুল ইসলাম (বিপিএম-বার) জন্মগ্রহণ করেন ১৯৬২ সালের ৩০ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায়। বাবা মৃত মো. শওকত আলী, মা মোছা. সুফিয়া খাতুন। কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করার পর বাংলাদেশ কৃষি ইনস্টিটিউট (বর্তমানে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে ১৯৮৬ সালে লাভ করেন স্নাতক ডিগ্রি। অষ্টম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৮৯ সালে যোগ দেন বাংলাদেশ পুলিশে। এরপর থেকেই একজন আদর্শ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে রেখে আসছেন অগ্রণী ভূমিকা। সততা, দক্ষতা, সংযম-সহমর্মিতার কারণে অধঃস্তন সদস্যদের কাছ থেকে পেয়েছেন বিশেষ শ্রদ্ধার আসনও। কর্মজীবনে বিভিন্ন সময়ে বেশ কয়েকটি জেলায় পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক হিসেবে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এবং পরে কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ঢাকা ও চট্টগ্রাম রেঞ্জে উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ছিলেন। তিনি অতিরিক্ত আইজি হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ও সিআইডির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ দু’বার অর্জন করেন বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ডিএমপির ৩৪তম কমিশনার হিসেবে যোগ দিয়েই জনবান্ধব ডিএমপি গড়ার প্রত্যয়ে নিরলস কাজ করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ পুলিশের সর্ববৃহৎ ইউনিট ডিএমপিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সক্ষমতার জানান দিয়েছেন তিনি। কমিয়ে এনেছেন অভ্যন্তরীণ দুর্নীতিও। প্রায় দুই কোটি লোকের ঢাকা মহানগরীর একেকটি থানা নিয়ন্ত্রণে বিরামহীন কাজ করেন মূলত তিনজন কর্মকর্তা। আর সে কারণেই কমিশনার শফিকুল ইসলাম কমিউনিটি পুলিশ এবং বিট পুলিশিং চালু করায় বর্তমানে প্রতিটি বাড়িতেই যেতে পারছে পুলিশ। ডিএমপি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেবার মানোন্নয়নে আইজিপি বেনজীর আহম্মেদের দেয়া পরিকল্পনায় কাজ করছেন ডিএমপির এই কমিশনার। তার মধ্যে অন্যতম একটি দুর্নীতি। যতটা সম্ভব দুর্নীতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সচেষ্ট শফিকুল ইসলামের নজরদারিতে এখন ডিএমপিতে নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলির ক্ষেত্রে এক কাপ চা পর্যন্ত খাওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে। থানায় কেউ জিডি করার পর তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এ ছাড়াও অন্যান্য যাবতীয় কার্যক্রমও কমিশনার কার্যালয় থেকে মনিটর করা হচ্ছে। এছাড়া বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে প্রতিটি ঘরে মানুষের কাছে পুলিশ যাচ্ছে। কে কী করছে— সবই এখন নজরদারিতে রয়েছে। এতে করে ভালো কিছু করা সম্ভব বলেই মনে করছেন তিনি।

শুধু তাই নয়- সম্প্রতি কিছুসংখ্যক অপরাধী গ্রেপ্তার করে ডিএমপি। সিআইএমএসে তাদের ব্যাপারে কোনো তথ্য না পাওয়ায় কমিশনারের নির্দেশে ফের ‘নাগরিক তথ্য সংগ্রহ পক্ষ’ শুরু করছে ডিএমপি। গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া তথ্য সংগ্রহের এ কার্যক্রম চলবে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীতে থাকা সব নাগরিককে তথ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট থানার বিট অফিসারদের সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। জানা গেছে, করোনায় ঢাকা মহানগরীর অনেক ভাড়াটিয়া পরিবারসহ ঢাকা শহর ছেড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের পরিবর্তে ‘ব্যাচেলর’দের (অবিবাহিত) বাসা ভাড়া দেয়া হয়েছে। নাগরিক তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি অপরাধ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তাছাড়া কোনো অপরাধ ঘটলেও নাগরিক তথ্য কাজে লাগিয়ে ঘটনার রহস্য সহজেই উদঘাটন করা যায়। এবারের ‘নাগরিক তথ্য সংগ্রহ পক্ষে’ প্রতিটি বিটে নতুন ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালাদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। সেক্ষেত্রে যেসব ভাড়াটিয়া বাসা বদলেছেন, তাদের তথ্য হালনাগাদ করা হবে। বিভিন্ন অপরাধী ও জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা বাড়ির মালিককে ভুয়া নাম-ঠিকানা দিয়ে বাসা ভাড়া নিচ্ছে কি-না, সে ব্যাপারে বাড়ির মালিকদের সচেতন করাও এই পক্ষের উদ্দেশ্য। তা ছাড়া, প্রতিটি বিটে পেশাদার খুনি, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, ডাকাত, চোর, ছিনতাইকারী, মাদকসংক্রান্ত অপরাধী, নারী উত্ত্যক্তকারী, জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নাম হালনাগাদ করা হবে।  ২০১৬ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করছে ডিএমপি। ২০১৯ সালের ১৩ জুন পর্যন্ত সিআইএমএস সফটওয়্যারে বাড়িওয়ালা ছিলেন দুই লাখ ৪১ হাজার ৫০৭ জন, ভাড়াটে ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯৪, মেসের সদস্য এক লাখ ২১ হাজার ৪০, অন্যান্য এক হাজার ১০০, পরিবারের সদস্যসংখ্যা ৩১ লাখ ৬৬ হাজার ৮২১, চালক ও গৃহকর্মী আট লাখ ৮৩ হাজার ৯৮৪ জনসহ মোট ৬২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৪৭ জনের তথ্য সংরক্ষিত আছে। এই সিস্টেমে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একটি ইউনিক ইনডেক্স নম্বর রয়েছে। ওই নম্বর দিয়ে সিস্টেমে সার্চ দিলে কাঙ্ক্ষিত নাগরিকের বিস্তারিত তথ্য জানারও ব্যবস্থা রয়েছে।

এর আগেও নভেল করোনা ভাইরাসে মানুষের মৃত্যুর পর দাফনকাজ সম্পন্ন করেনি যেখানে পরিবার, সেখানে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই এগিয়ে এসেছিল পুলিশ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপির নির্দেশনায় করোনা মোকাবিলায় সম্মুখসারিতে উত্তীর্ণ হয়ে ডিএমপিতে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। ধারাবাহিক কার্যক্রমে পুলিশের উজ্জ্বল ভাবমূর্তিও তৈরি হয় সে সময়। বাহিনীর প্রতি মানুষের ভালোবাসাকে ধরে রাখতেও প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের প্রতি দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান কমিশনার শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘মানুষ পুলিশকে আপন করে নিয়েছে। মানুষের এ ভালোবাসাকে ধরে রাখতে হবে। আমরা মানুষের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। এ সুযোগ আমাদের যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।’ ডিএমপির প্রতিটি সদস্য সেই সুযোগ কাজেও লাগিয়েছে এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা। করোনা প্রতিরোধের প্রথম দিন থেকেই জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে গিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের বীর সদস্যরা সম্মুখযোদ্ধার দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গিয়ে জীবনও বিলিয়ে দিয়েছেন। যে আত্মত্যাগের জন্য তারা পুলিশ সদস্যদের কাছে আদর্শ ও অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবেন। এছাড়াও তিনি করোনাকালীন সময়ে একাধিকবার মিটিং করে মানুষকে বুঝিয়েছেন, আশ্বস্ত করেছেন যে— মৃতদেহ পুলিশই নিয়ে আসবে এবং দাফনও করবে পুলিশ। আর পুলিশ যদি মৃতদেহ নিয়ে আসে, তাহলে তারা রোগাক্রান্ত হয়ে নিজেরা মারা যাবেন না— এমনটা আশ্বস্ত হওয়ার পরই ঝুঁকি নিয়েই পুলিশ মানুষের পাশে থেকে কাজ করেছে। সর্বোপরি ডিএমপির এই কমিশনার ঢাকা শহরকে সবার জন্য একটি বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছেন।

0Shares

Comment here