অর্থনীতিজাতীয়ধর্মকর্মপ্রযুক্তিশিক্ষাঙ্গন

লাগামহীন বাড়ছে নিত্যপণ্যের বাজার, অস্বস্তিতে ক্রেতারা

বিশেষ প্রতিনিধি :করোনার প্রভাবে লাখ লাখ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার। অনেকে সঞ্চয়ের শেষ অংশটুকু হারিয়ে পথে বসেছে। তাদের এখন নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। এমন সময় মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছে। কারণ ছাড়াই লাগামহীন বাড়ছে নিত্যপণ্যের বাজার, অস্বস্তিতে ক্রেতারা। সপ্তাহ ব্যবধানে বাজারে চাল-ডালের সঙ্গে যোগ হয়েছে ভোজ্যতেল, ডিম,  পেঁয়াজ, রসুন, পাশাপাশি বাড়ছে শীতের শাক-সবজির দামও, মানুষকে ভোগাচ্ছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার কারণে দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চালের দাম কমছে না, বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা অভিযোগ করেন, দাম বাড়ানোর পেছনে নানা অজুহাত দেখাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। একের পর এক নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। খুচরা চাল বিক্রেতারা দুষছেন মিলারদের। তারা বলছেন, মিলারদের কারসাজিতে এখনো চালের দর বাড়তি। তারা সিন্ডিকেট করে মিলপর্যায় থেকে সব ধরনের চালের দর বাড়িয়ে দিয়েছে। যে কারণে পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায়ে চালের দর বেশি।

প্রতি কেজি আটাশ চাল ৫০-৫৫ টাকায়, পায়জাম ৪৮-৫০ টাকায়, মিনিকেট ৬২-৬৫ টাকায়, নাজিরশাইল ৬০ টাকায়, পোলাওয়ের চাল ৯০-১০০ বিক্রি হচ্ছে। গত এক মাসে চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০-১২ টাকা। খোলা ভোজ্যতেল বেড়ে বিক্রি হচ্ছে লিটার ১২৭-১৩০ টাকায়। দুই লিটার বোতলজাত ২৪০, ৫ লিটার ৫৯০ টাকা। গত একমাসে তেলের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০-৩০ টাকা।

লক্ষ্মীবাজারের খুচরা তেল বিক্রেতা ইয়াসিন বলেন, তেলের দাম কমছে না আমরা বাড়তি দামে কিনতেছি সে জন্য বাড়তি দামে বিক্রি করছি। এদিকে কারওয়ানবাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম বলেন, বাজারে এখন দেশি পেঁয়াজের অভাব নেই। এর পরও পেঁয়াজের দাম বাড়লো কেন বুঝতেছি না। তিনি বলেন, বাড়তি দামে কিনেছি বলে বাড়তি দামে বিক্রি করছি।

গত সপ্তাহের চেয়ে ৫ টাকা বেড়ে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা। আলুর দাম ২ টাকা বেড়ে ১৮-২০ টাকা।

সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে পাঁচ-১০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে প্রতি কেজি মুলা এখন ১৫-২০ টাকা, শালগম ২০ টাকা, গাজর ৩০-৪০ টাকা, শিম ৩০-৪০ টাকা, বেগুন ৩০ টাকা, করলা ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০-৪০ টাকা, পাকা টমেটো ৩০ টাকা, কেজি প্রতি কাঁচা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকা, বরবটি ৪০-৫০ টাকা। প্রতি পিস লাউ আকার ভেদে বর্তমানে ৪০-৫০ টাকা, বাঁধাকপি ও ফুলকপি ২০ টাকা করে। কাঁচকলা ২০-৫৫ টাকায়, প্রতি কেজি জালি কুমড়া ৩০ টাকা, ছোট মিষ্টি কুমড়া ২৫ টাকা। কাঁচা মরিচ ৮০-৯০ টাকা কেজি। এছাড়াও আদা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, রসুনের কেজি ১১০-১২০ টাকা।

এক ডজন লাল ডিম ৯০-৯৫ টাকা, হাঁসের ডিম ১৫০ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ডজন ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

১০ টাকা দাম বেড়ে সোনালী মুরগি ১৯০ টাকা কেজি, ব্রয়লার ১৪০ টাকা কেজি। এসব বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে গরু ও খাসির মাংস। এছাড়া মসলাসহ অন্যান্য পণ্যের দামও স্থিতিশীল রয়েছে।

বাজারে প্রতি কেজি খাসি ও বকরির মাংস ৭০০-৭৫০ টাকা, গরুর মাংস ৫৫০, মহিষের মাংস ৫৫০-৫৮০ টাকায়। এসব বাজারে প্রতি কেজি শিং মাছ (আকার ভেদে) ৩০০-৪৫০ টাকায়, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকার ভেদে) ১৮০-৩২০ টাকা, মাগুর মাছ ৫০০ টাকা, মৃগেল ১১০-১৫০ টাকা, পাঙাস ১২০-১৫০ টাকা, ইলিশ প্রতি কেজি (আকার ভেদে) ৮০০-১০০০ টাকা, চিংড়ি প্রতি কেজি ৪০০-৬০০ টাকা, বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৩০০-৫০০ টাকা, কাতল ১৭০-২৮০ টাকা, ফোলি মাছ ৩০০-৪০০ টাকা, পোয়া মাছ ২০০-২৫০ টাকা, পাবদা মাছ ১৫০-২৫০ টাকা, টেংরা ১৮০-২০০ টাকা, টাটকিনি মাছ ১০০ টাকায়, তেলাপিয়া ১৫০ টাকায়, সিলভার কার্প ১০০-১৫০ টাকা, দেশি কৈ মাছ ৭০০ টাকা, কাঁচকি ও মলা ২৫০-৪০০ টাকা, গুড়া বেলে ১২০ টাকা, রূপচাঁদা মাছ ৫০০-৬০০ টাকা, আইর মাছ ৫০০ টাকা, রিঠা মাছ ২২০ টাকা ও কোরাল ৩০০-৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

0Shares

Comment here