অর্থনীতিখেলার মাঠেজাতীয়

দ্বিতীয় দিনে করোনার টিকা নিলেন ৫৪১ জন

দিগন্তর ডেস্ক রিপোর্ট :করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়া শুরুর দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর পাঁচটি হাসপাতালে আরও ৫৪১ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ কামরুল কিবরিয়া স্বাক্ষরিত ‘ডেইলি ভ্যাকসিন আপডেট’ শীর্ষক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে মোট ৫৮ জনকে টিকা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪৯ জন পুরুষ এবং ৯ জন মহিলা রয়েছে। এ দিন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে মোট ১০০ জনকে করোনা ভাইরাসের টিকা দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে পুরুষ ৫৯ এবং নারী ৪১ জন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২০ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ১০০ ও নারী ২০ জন। মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মোট ৬৫ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ ৫৫ ও নারী ১০ জন রয়েছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ১৯৮ জনকে টিকা দেওয়া হয়। এর মধ্যে পুরুষ ১৬৮ জন এবং মহিলা ৩০ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে রাজধানীর পাঁচ হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর টিকার প্রয়োগ শুরু হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চারটি বুথে এবং কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে একটি বুথে টিকা দেওয়া হয়।

এদিন সকাল ৯টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বুথে প্রথম টিকা নেন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া। এরপর বেলা ১১টার দিকে টিকা নেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। দেশের একজন সংসদ সদস্য এবং সরকারের প্রতিমন্ত্রী তিনিই প্রথম টিকা নিলেন। এদিন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান, তথ্য সচিব খাজা মিয়া বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে গিয়ে টিকা নেন।

এছাড়া সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদও এদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনাভাইরাসের টিকা নেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এদিন বেলা ১১টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে টিকা দেওয়া হচ্ছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ মানুষ’ টিকা নিচ্ছেন। একটা আনন্দঘন পরিবেশে টিকা দেওয়া কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অনেকেই টিকা নিয়েছেন, অনেকেই এসেছেন। যে পরিবেশ, মনে হল যে ঈদের ভাব। যেভাবে ঈদ হয়, সেরকম আনন্দমুখর পরিবেশে টিকা নেওয়া হচ্ছে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত যারা টিকা নিয়েছেন, তারা সবাই সুস্থ আছেন, ভালো আছেন এবং কারও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা শোনা যায়নি।

এর আগে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের একজন নার্সকে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়ার মধ্য দিয়ে বুধবার বিকালে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয় বাংলাদেশে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন এবং প্রথম পাঁচজনকে টিকা দেওয়া দেখেন। প্রথম দিন সব মিলিয়ে মোট ২৬ জনকে টিকা দেওয়া হয়।

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন।

এদিকে টিকা নিতে বাধ্যবাধকতা রয়েছে ডিজিটাল নিবন্ধনের। বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধনের পর ডিজিটাল নিবন্ধন প্ল্যাটফর্ম ‘সুরক্ষা’ অ্যাপে অনলাইন নিবন্ধনে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। উন্মুক্ত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত প্রায় ২৪ ঘণ্টা সময়ে এক হাজার ২৫৩ জনের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সিস্টেম অ্যানালিস্ট মাসুম বিল্লাহ বলেন, এখন পর্যন্ত ১২৫৩ জনের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। যারা ফ্রন্টলাইনার ক্যাটাগরিভুক্ত এবং যাদের বয়স ৫৫ বা ৫৫ বছরের বেশি এখন শুধু তাদেরই নিবন্ধন হচ্ছে। যারা ফ্রন্টলাইন পেশায় আছেন এবং ফ্রন্টলাইনার হিসেবে যাদের তথ্য আমাদের কাছে ইতোমধ্যে এসেছে শুধু তাদেরই নিবন্ধন হচ্ছে।

অনলাইন নিবন্ধন নিয়ে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, এই সুরক্ষা প্ল্যাটফর্ম আমাদেরই মেধাবী তরুণরা তৈরি করেছে। এর সকব তথ্য জমা হচ্ছে ন্যাশনাল ডাটা সেন্টারে। কাজেই সব তথ্য আমাদের কাছেই থাকছে।

তিনি বলেন, আমি নিজেও অনলাইনে নিবন্ধন করে টিকা নিয়েছি। আপনারা দেখেছেন যে, টিকা নেওয়ার আগে আমার জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে যাচাই করা হয়েছে। আমি সবাইকে অনুরোধ জানাবো যেন সবাই এখানে নিবন্ধন করেন। নিবন্ধন হলে টিকা কার্যক্রম আরো সহজতর হবে।

0Shares

Comment here