অর্থনীতিজাতীয়প্রযুক্তিস্বাস্থ্যপাতা

পাথরঘাটায় আ’লীগ সমর্থক কতৃক সতন্ত্র প্রার্থীর উপর হামলা, পুলিশ সাংবাদিক সহ আহত ৫০

বরগুনা থেকে প্রতিনিধি নুরুল আমিন মল্লিক : মঙ্গলবার বিকেলে পৌর নির্বাচনে বরগুনার পাথরঘাটায় স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) মেয়র প্রার্থীর উপর আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীর প্রায় দুই শত নেতা কর্মীরা পরিকল্পিত হামলা চালায়।

পরবর্তী সময়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা পাল্টা হামলা চালালে পৌর শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিকাল ৩টা থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ চলে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ট পর্যন্ত।

সংঘর্ষে পাথরঘাটা থানার ওসি শাহাবুদ্দিনসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন।

 

পুলিশ স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী উপজেলা শ্রমিক লীগের বহিষ্কৃত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানকে আটক করার পর তার সন্ধ্যায় শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও বসতবাড়িতে হামলা-ভাংচুর করেছে নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৫০টি টিয়ার গ্যাস সেল নিক্ষেপ করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত দুই মেয়র প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান (নারিকেল গাছ) ৫-৭জন নেতাকর্মী নিয়ে লিফলেট বিতরণ করতে গেলে এক পর্যায়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় অতিক্রমকালে পাথরঘাটার বড় বেলি ব্রিজ সংলগ্ন কাঠের দোকানের পেছনে আওয়ামী লীগের কিছু নেতা কর্মী দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঠা নিয়ে ওঁৎ পেতে থাকে। স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল কাঠের দোকানের সামনে গেলেই ওত পেতে থাকা প্রায় শতাধিক আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর সর্মথকরা অতর্কিতভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান সোহেলের উপহার হামলা চালায় এতে সোহেল কিছুটা রক্তাক্ত হন। হামলা চলাকালীন সময়ে কিছু সংবাদকর্মী হামলার ছবি তুলতে গেলে সংবাদকর্মীদের কে আওয়ামী লীগের সর্মথকরা অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে ধাওয়া দেয় এবং কিছু সংবাদকর্মীর মোটরসাইকেল ও ক্যামেরা ভাঙচুর করে মারধর করে যাহাতে মোহনা টেলিভিশনের ঘাটা উপজেলা প্রতিনিধি সুমন ইসলাম আহত হন এবং উপ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সমকাল পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি নাহিদ ইমাম আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দেয়া তথ্যমতে, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান পৌরশহরের তালতলা বাজার থেকে গণসংযোগ শুরু করে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বাজার এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে পৌঁছেন। তার সঙ্গে বিপুল সংখ্যক কর্মী ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন ছিল। এসময় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে থাকা কর্মীরা মোস্তাফিজুর রহমানের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা করেন। আকস্মিক হামলায় মোস্তাফিজুর রহমান প্রতিরোধে টিকতে না পেরে দৌড়ে নিজ বাড়ির দিকে চলে যান। প্রায় ১৫ মিনিট পর শতাধিক নারীসহ কয়েকশ কর্মী-সমর্থক ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটাসহ মোস্তাফিজুর রহমান আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের দিকে ছুটে যান।

আওয়ামী লীগের কর্মীরা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলে দুপক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বেধে যায়। বিকাল ৫টা পর্যন্ত এ সংঘর্ষ অব্যাহত থাকে।

 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পাথরঘাটা থানার ওসি মো. শাহাবুদ্দিনসহ ২০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ওসি শাহাবুদ্দিনকে বরিশাল মেডিকেলে এবং অন্যদের পাথরঘাটা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত হয়েছেন কয়েকজন সংবাদকর্মীও।

পাথরঘাটা থানার ওসি শাহাবুদ্দিন জানানা, বিকালে দুপক্ষের সংঘর্ষ থামাতে ৫০টি টিয়ার সেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানকে।

এদিকে বিকালের দিকে সংঘর্ষ থামলেও সন্ধ্যার পর ফের উত্তপ্ত হয় পাথরঘাটা পৌর শহর। নৌকা প্রতীকের কর্মীরা সন্ধ্যার দিকে পাথরঘাটা মৎস্য বন্দরে মৎস্য শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করেছে। মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান এ সংগঠনের সভাপতি। এরপরই মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতে ঢুকে বসতঘরগুলোতে ব্যাপক ভাংচুর চালায় নৌকার কর্মীরা।

হামলা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নৌকার প্রার্থী বর্তমান মেয়র আনোয়ার হোসেন আকন বলেন, বিকালে ঘটনার সময় তিনি ৩ নম্বর ওয়ার্ডে একটি কর্মীসভায় ছিলেন। তিনি দাবি করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান সন্ত্রাস করার জন্য বরগুনাসহ পাশের জেলা পিরোজপুর ও বাগেরহাট থেকে বিপুল সংখ্যক বহিরাগত এনে পাথরঘাটায় জড়ো করেছেন। এর প্রতিকার চেয়ে তিনি মঙ্গলবার বেলা ১২টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন। বিকাল সাড়ে ৩টায় মোস্তাফিজুর বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা করেছে।

 

 

মোস্তাফিজুর রহমানের পিতা নুরুল হক বলেন, তার ছেলে গণসংযোগে বের হলে আওয়ামী লীগ পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। তারা মোস্তাফিজকে পিটিয়ে জখম ও বসতবাড়িতে ভাংচুর করেছে।

সন্ধ্যা ৭টায় পাথরঘাটা থানার পরিদর্শক সাইদ আহমেদ গ্রেফতারে বিষয়টি নিশ্চিত না করে বলেন, মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান অসুস্থ। তাকে পুলিশ হেফাজতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা সুলতানা বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসাবে পুরো ঘটনাটি তদন্তসাপেক্ষে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ম্যাজিস্ট্রেটসহ অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করছেন।

 

0Shares

Comment here