অর্থনীতিখেলার মাঠেজাতীয়ধর্মকর্মপ্রযুক্তি

দীর্ঘ ১০ মাস পর প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে মন্ত্রিসভা বৈঠক

অনলাইন ডেস্ক :করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে প্রায় ১০ মাস পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে সোমবার (২৫ জানুয়ারি) সরকারের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম মন্ত্রিসভা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জাতীয় সংসদের মন্ত্রিসভা কক্ষে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে অংশ নেন সরকারপ্রধান। ওই বৈঠকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ছয়জন মন্ত্রী ও ছয়জন সচিব অংশ নিয়েছেন। বৈঠকে দুটি আইন ও একটি নীতিমালা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব (মন্ত্রিসভা বৈঠক অধিশাখা) মনিরা বেগম বলেন, করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে দীর্ঘদিন পর স্বশরীরে মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী অংশ নিয়েছেন। বৈঠকে এজেন্ডা রিলেটেড মন্ত্রী ও সচিবরা অংশ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ছয়জন মন্ত্রী এবং ছয়জন সচিব মন্ত্রিসভা বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকে অংশ নেওয়া আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ দিন পর বের হতে পেরেছেন এবং সুস্থ আছেন বলে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছেন। তিনি সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মন্ত্রিসভা ও রিপোর্ট অনুবিভাগ) মো. আব্দুল বারিক জানান, দীর্ঘ দিন পর মুখোমুখি বসলো মন্ত্রিসভা বৈঠক। কোভিড শুরু হলে একটির পর আর মুখোমুখি বৈঠক হয়নি। আজকে ফিজিক্যাল মিটিং করা শুরু হলো।


তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি) সরবরাহকৃত সোমবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকের ছবিতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীর বাম পাশে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আর ডান পাশে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বসেছেন। আর সামনের দিকে এক পাশে অন্য চারজন মন্ত্রী এবং আরেক পাশে মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ অন্য সচিবরা বসেছেন, সবার মুখেই মাস্ক।

গত বছরের ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্তের পর ১৭ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। টানা ৬৬ দিনের ছুটি শেষে অফিস-আদালত সচল হয়। মাঝে করোনাভাইরাস সংক্রমণ কিছুটা কমলেও শীতে আবার বাড়তে শুরু করে। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন, তাদের মধ্যে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম মারা গেছেন।

করোনা সংক্রমণের মধ্যে গত বছরের ৬ এপ্রিল সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সর্বশেষ মুখোমুখি বসেছিল মন্ত্রিসভা। গণভবনে সীমিত পরিসরে ওই বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিকে দেখা যায়। সবাই মাস্ক পরে বসেছিলেন আলাদা আলাদা টেবিলে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউসসহ কয়েকজন সচিবও স্বাস্থ্যবিধি মেনে আলাদা টেবিলে ছিলেন।

এরপর করোনা পরিস্থিতির মধ্যে প্রথমবার ভার্চ্যুয়ালি মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ১৩ জুলাই। ওই দিন গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং সচিবরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে অংশ নেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামও সচিবালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন বৈঠকে। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন। আর শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করে নির্ধারিত আসনে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস। আর সচিবালয় প্রান্তে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কনফারেন্স রুমে যুক্ত ছিলেন মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা।

0Shares

Comment here