অর্থনীতিখেলার মাঠেজাতীয়ধর্মকর্মপ্রযুক্তি

অবশেষে বাংলাদেশে এলো করোনার টিকা

এসকে জামান : অবশেষে বাংলাদেশে এসেছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের টিকা। ভারতের মুম্বাই থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিশেষ ফ্লাইটে করোনা ভাইরাসের টিকা বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকায় পৌঁছেছে।

বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে এ ২০ লাখ ডোজ টিকা (ভ্যাকসিন) দিয়েছে ভারত। মুম্বাই থেকে উপহারের এ টিকা নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার বিশেষ ফ্লাইটটি বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দর থেকে দুইটি ফ্রিজার ট্রাকে করে টিকা নিয়ে রাখা হবে তেজগাঁওয়ে ইপিআই স্টোরেজে।

এদিকে চলতি মাসের শেষদিকে রাজধানীর চারটি হাসপাতালে প্রায় অর্ধ সহস্রাধিক বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের দেহে পরীক্ষামূলক টিকা প্রয়োগ করা হবে। এ কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে উদ্বোধনের কথা রয়েছে।

পরীক্ষামূলক টিকা প্রয়োগকৃত সবাইকে এক সপ্তাহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এরমধ্যেই ২৫ জানুয়ারি করোনার টিকা স্বচ্ছতার সাথে ব্যবস্থাপনার জন্য আইসিটি বিভাগের তৈরি সুরক্ষা প্লাটফর্মটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বুঝে পাবে।


পরদিন থেকে শুরু হবে টিকা প্রাপ্তির রেজিস্ট্রেশন। সেদিনই ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার প্রথম চালান ৫০ লাখ ডোজ বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী মাসের আট ফেব্রুয়ারি সারাদেশে টিকা প্রয়োগের কথা রয়েছে। সেই লক্ষ্যে টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সারা দেশের ৪২ হাজারেরও বেশি কর্মীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। এই কার্যক্রম আগামী ৩০ জানুয়ারির মধ্যে শেষ হবে।

এছাড়াও টিকাদানের অন্যান্য প্রস্তুতি শতভাগ শেষ হয়েছে। টিকা ব্যবস্থাপনায় সার্বিকভাবে সহায়তা করবে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এছাড়াও টিকা বিষয়ে অহেতুক গুজব ও ভয়ভীতি দূর করতে সরকারের পক্ষ থেকে সবার সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়, দেশের মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই হিসেবে দেশের প্রায় আট থেকে ৯ কোটি মানুষকে টিকাদানের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

0Shares

Comment here