অর্থনীতিখেলার মাঠেজাতীয়ধর্মকর্মপ্রযুক্তি

মরে গেলে স্ত্রী-ছেলেকে এমপি বানানো যাবে না: কাদের মির্জা

অনলাইন ডেস্ক : ব্যক্তিগতভাবে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নয় কিন্তু উত্তরাধিকার সূত্রে এমপি-মন্ত্রী বানানোর সংস্কৃতির ঘোর বিরোধিতা করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। এ নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমি মরে গেলে আমার ছেলে এমপি হবে, স্ত্রী এমপি হবে- এ সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে তবে কারও যোগ্যতা থাকলে সে এমপি হতে পারে।

সোমবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে বসুরহাট পৌরসভা মিলনায়তনে ভোটারদের সঙ্গে নির্বাচনোত্তর কুশল বিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন কাদের মির্জা।

নির্বাচন পরবর্তী সভায় নবনির্বাচিত মেয়র বলেন, ‘আগামীতে কোম্পানীগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনসহ সকল নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠ এবং নিরপেক্ষ হবে। এখন থেকে নির্বাচনগুলো গণতন্ত্রিকভাবে হবে। প্রতিটি নির্বাচন ভোটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হবে।’ নিজের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘কোম্পানীগঞ্জে মাস্তানি চলবে না, মারামারি, হানাহানি চলবে না, সাবধান করে দিচ্ছি কোনো অস্ত্রবাজি চলবে না, কোনো প্রকার অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।

এ সময় তিনি গতকাল রোববার নির্বাচনে তার বিপক্ষ প্রার্থী বিএনপির কামাল উদ্দিন চৌধুরী ও জামায়াতের মোশাররফ হোসাইনের সঙ্গে দেখা করার কথা বলেন। বসুরহাটের মেয়র বলেন, ‘উনারা আমাকে কোম্পানীগঞ্জের সকল বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। আমি এজন্য উনাদেরকে এ সমাবেশ থেকে ধন্যবাদ জানাই। পাশাপাশি অনুরোধ করবো, আমাদেরকে অপরাজনীতি এখান থেকে বন্ধ করতে হবে। সকল দল এখন থেকে তাদের দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে। কিন্তু এর আগে, অস্ত্রগুলা জমা দিলে সমস্যা আছে, পানিতে ফেলে দেওয়া হোক। না হলে কিন্তু বেঁছে বেঁছে ধরা হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় নেই। এ অস্ত্রগুলো আমাদেরকে ধ্বংস করছে। রাস্তায় মিছিল করেন, এটা আপনাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। শৃখংলা বজায় রাখার জন্য আমি প্রস্তাব দিয়েছি।

কাদের মির্জা বলেন, ‘আমাদের উপজেলা চেয়ারম্যানের ডাকে তারা (বিএনপি-জামায়াত) আসবেন বলে সম্মতি দিয়েছেন। শাহাব উদ্দিন সাহেব সকল রাজনীতিক দলকে ডাকবেন। ডেকে এখানে একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আমরা চালু করবো। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে বিএনপি-জামায়াত এলাকা ছাড়ে, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসলে আওয়ামী লীগ এলাকা ছাড়ে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে, বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে মামলা করে, আবার বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসছে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মামলা করে, এ সংস্কৃতি থেকে আমাদেরকে বের হতে হবে।

নবনির্বাচিত মেয়র নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বিষয়ে বলেন, ‘কোম্পানীগঞ্জে ৫০০ ও কবিরহাটে ৫০০ বেকার ছেলেমেয়ের চাকরি দিতে হবে। এখানে কীভাবে চাকরি দিতে হয়, তা উপজেলা চেয়াম্যান মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন সাহেবসহ আমরা ব্যবস্থা করবো। আবার বলে দিচ্ছি; সরকারি চাকুরি নিয়ম মাফিক হবে। বিভিন্ন প্রজেক্ট আছে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আমরা চাকরি দিতে পারবো না। সরকারি চাকরিগুলোতে মেধা ভিত্তিতে নিয়োগ হবে।

সভায় নিজের বড় ভাই সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ করে কাদের মির্জা বলেন, ‘আমি আজকে আপনাকে অনুরোধ করছি; আপনি মাহমুদুর রহমান বেলায়েত ও খাইরুল আলম সেলিমকে দিয়ে নোয়াখালীতে কমিটি গঠন করেন। প্রধানমন্ত্রী ও তাদেরকে ভালো জানেন। তাদের দিয়ে কমিটি ঘোষণা করেন, যোগ্য নেতাদের ও ত্যাগী নেতাদেরকে দলের টানুন।

এলাকার উন্নয়নের ব্যাপারে সেতুমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি মন্ত্রী মহোদয়কে বলছি, চরবালুয়া থেকে স্বন্দ্বীপ পর্যন্ত ক্রস ড্যাম নির্মাণ করতে হবে, এটার কোনো বিকল্প নেই। এটা না হলে আমাদের কোম্পানীগঞ্জে বড় একটা অংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। স্বদ্বীপ থেকে ভূমিদস্যুরা এসে আমাদের হাজার হাজার একর জমি দখল করে নিচ্ছে, মাননীয় মন্ত্রীর নিকট দাবি করব যে, সেখানে ভূমি দস্যুদের বিতাড়িত করে ভূমিহীন ও অসহায়দেরকে ভূমি দিতে হবে। আমি আপনাদেরকে নির্বাচনে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি তা রক্ষা করব, সময়ে প্রমাণ করে দিব, আজকে আমাদের দাবি হচ্ছে গ্যাস, এ গ্যাস বসুরহাট পৌরসভাসহ কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলায় দিতে হবে।

সভায় উপস্থিত এক মসজিদের ইমামকে উদ্দেশ করে কাদের মির্জা বলেন, ‘আপনি যে দল করেন কোনো সমস্যা নাই, কিন্তু মসজিদের মিম্বরে বসে বঙ্গবন্ধুর বিরোধীতা করবেন না, শহীদ মিনারের বিরোধীতা করবেন না।

নোয়াখালীর এমপি একরাম চৌধুরীর দিকে ইঙ্গিত মেয়র বলেন, ‘নোয়াখালীর কিছু এমপিরা মদের সাথে জড়িত, নারীর সাথে জড়িত, জুয়ার সাথে জড়িত। আমার বোনেরাও মদের সাথে জড়িত। একরাম চাকরি বাণিজ্য করে, টেন্ডার বাণিজ্য করে, সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ করে এবং নানা অনিয়মের সাথে সে জড়িত। পুলিশ প্রশাসন তাদেরকে এসব অপকর্মের সহযোগিতা করে। আমি দেখেছি একজন এসপি নোয়াখালীর আওয়ামী লীগ অফিসে গিয়ে এমপিকে পাহারা দেয়, সেখানে যাবে ছোট ছোট অফিসার, দারোগা, একজন এসপি কি করে সেখানে যায়? এগুলো করলে এদের ওপর থেকে জনগণের আস্থা উড়ে যাবে। একরাম চৌধুরী প্রতিপক্ষ একজন সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী আমাকে ফোন করে ধন্যবাদ জানায়।

কাদের মির্জা আরও বলেন, ‘বসুরহাট বাজারের ১৫-২০টা ব্যবসায়ী সংগঠন আছে, সে সংগঠনের নেতা নির্বাচিত হবে ভোটের মাধ্যমে। আগের মত ওমুককে সভাপতি, তমুককে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সিলেকশন করা হবে না।’

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খানের সভাপতিত্বে ও চরপার্বতী ইউনিয়ন দলের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম তানভীরের সঞ্চালনায় কুশল বিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহাব উদ্দিন।

এ সময় অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আ. লীগের সাধারণ সাম্পাদক নূর নবী চৌধুরী, শিল্পপতি বাবু অরবিন্দ ভৌমিক, আ. লীগ নেতা ও শিল্পপতি গোলাম শরিফ চৌধুরী পিপুল, আ. লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ইস্কান্দার মির্জা শামীম, বসুরহাট পৌরসভা আ. লীগের সভাপতি জামাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আজম পাশা চৌধুরী রুমেল প্রমুখ।

0Shares

Comment here