অর্থনীতিখেলার মাঠেজাতীয়প্রযুক্তি

সিনেমা ও হল বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর এক হাজার কোটি টাকার ফান্ড ঘোষণা

এসকে জামান : সিনেমা ও হল বাঁচাতে এক হাজার কোটি টাকার ফান্ড তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার (১৭ জানুয়ারি) সকালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৯ বিতরণ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এখান থেকে অল্প সুদে ঋণ পাবেন হল মালিকরা।

সরকারপ্রধান বলেন, আমরা এ বিষয়ে এরই মধ্যে আলোচনা করেছি। এক হাজার কোটি টাকার একটা ফান্ড আমরা তৈরি করবো। অল্প সুদে সেই ফান্ড থেকে টাকা নিয়ে, হল বা সিনেপ্লেক্স তৈরি করা যাবে। এতে মানুষের বিনোদনের ব্যবস্থাটা করা যাবে।

দেশে অনেকগুলো সিনেমা হল এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। সেগুলো আবার চালু করে আধুনিকায়ন করতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনেক উন্নতমানের সিনেমা তৈরি করা যায়। সেদিকেই আমরা বিশেষভাবে দৃষ্টি দিচ্ছি।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, উপজেলা পর্যন্ত সিনেমাটা যাতে ভালোভাবে প্রচলিত হয়। স্থানীয় মানুষ যেন বিনোদনের সুযোগ পায় সে ব্যবস্থা করে দেয়ার সে চিন্তা থেকেই এই একটা ফান্ড আমরা তৈরি করে দিচ্ছি। এ ছাড়াও চলচ্চিত্রের দুস্থ শিল্পীদের জন্য একটি ট্রাস্ট গঠনের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমাদের পরিবারের সবাই সাংস্কৃতিক জগতের সঙ্গে জড়িত ছিল। অনেককেই আমি অনেক দুর্দশাগ্রস্থ অবস্থা দেখেছি। আমার ছোটবোন রেহানা লন্ডন থাকে, সে নিয়মিত অনলাইনে পত্রিকা দেখবে আর কারও কোনো কষ্ট দেখলে সঙ্গে সঙ্গে সে আমাকে খবর পাঠায়। আমি চেষ্টা করি ব্যবস্থাটা নিতে। আমি জানি, এখন আমি আছি হয়তো সহযোগিতা করে যাচ্ছি। কিন্তু যখন থাকবো না তখন কি হবে? সে বিষয় চিন্তা করেই আমি চলচ্চিত্র শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট নাম দিয়েছি। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সকলেই যাতে সুযোগ পায় সে ব্যবস্থাটা আমি করে দিয়েছি।

সরকারপ্রধান বলেন, যাদের আমরা সরাসরি দেখি না কিন্তু চলচ্চিত্রটাকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে যারা দিনরাত অক্লান্ত কাজ করেন, জীবনের ঝুঁকি নেন যন্ত্রশিল্পী থেকে কলাকুশলী তাদের সকলের বিষয়টিও কিন্তু আমরা এই ট্রাস্টে রেখে দিচ্ছি। এই ট্রাস্ট আইনটা আমরা সংসদে পাশ করবো।

এরপর আমরা সরকারের পক্ষ থেকে একটা সিড মানিও দেব। আমরা চাইবো যারা আছেন চলচ্চিত্রের সঙ্গে তারাও অর্থের যোগান দেবেন। যাতে প্রত্যেকে এই ট্রাস্ট থেকে যেকোনো সময় বিপদে আপদে অনুদান নিতে পারেন।

চিকিৎসা থেকে শুরু করে সব কাজ যাতে করতে পারেন এই লক্ষ্য নিয়েই আমি এই ট্রাস্টটা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ীদের হাতে তুলে দেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

প্রধানমন্ত্রী জানান, কাওরান বাজার থেকে হোলসেল মার্কেট সরিয়ে এফডিসিকে ঘিরে ওই এলাকায় উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। এটা এখান থেকে সরিয়ে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে হোল সেল মার্কেটটা নিয়ে যেতে চাচ্ছি। এখানে হয়তো অল্প কিছু থাকবে কিন্তু মূলটা আমরা সরিয়ে দেবো।

এখনতো হাতিরঝিল হওয়াতে ওই জায়গাটার গুরুত্বও বেড়ে গেছে। এ জায়গাটা আরও সুন্দরভাবে আমরা গড়ে তুলতে চাই। এখানে একটা প্রজেক্ট আমরা নিয়েছি প্রায় তিনশ কোটি টাকার ওপরে। এখানে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা দিয়েই আমরা এ কমপ্লেক্সটা করে দেবো, যাতে শিল্প গড়ে ওঠে।

0Shares

Comment here