জাতীয়প্রযুক্তিরকমারিস্বাস্থ্যপাতা

খোকন-তাপসের দ্বন্দ্ব, যা বললেন এলজিআরডি মন্ত্রী

আফজাল আহমেদ :ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ও সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের মতপার্থক্য সময়ের ব্যবধানে নিরসন হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের নিজ কক্ষে চুয়াডাঙ্গা ও নওগাঁ জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের সদস্য মো. মিজানুর রহমান এবং নওগাঁ জেলা পরিষদের সদস্য নিপন বিশ্বাস এদিন শপথ গ্রহণ করেন। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

রাজধানীর গুলিস্তান এলাকার বিভিন্ন মার্কেটের অবৈধ দোকান উচ্ছেদ নিয়ে সাবেক ও বর্তমান মেয়রের বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। দোকান উচ্ছেদ শুরু হলে সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলে মালিকরা। প্রায় ৩৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে খোকনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়।

এরপর ফুলবাড়িয়া মার্কেটে সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মানববন্ধনে যোগ দিয়ে মেয়র তাপসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন।

তারপর ক্ষমতাসীন দলের এই দুই নেতার পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে সোমবার সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে মামলার আরজিও হয় আদালতে।

তবে মেয়র তাপস মঙ্গলবার বলেছেন, অতি উৎসাহীদের‘ ওই মামলায় তার সায় নেই।

এ বিষয়ে মন্ত্রী তাজুল বলেন, সাঈদ খোকন ও শেখ ফজলে নূর তাপসের দায়িত্ব পালনকালে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। জানতে পেরেছি বিষয়টি নিয়ে মামলা হোক, তা শেখ ফজলে নূর তাপস চাননি। এই মামলা প্রত্যাহার করবেন বলে আমি সংবাদ পেয়েছি।

এ নিয়ে বিএনপির বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপির অযৌক্তিক কোনো ইস্যু অথবা নেতিবাচক মন্তব্য দলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না এবং এ নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ঐতিহ্যবাহী একটি বৃহৎ দল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে নেতৃত্বে দিচ্ছেন। দুই মেয়রের মধ্যে মতপার্থক্যে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে না।

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘কিছু কিছু খালতো সরকারও দখল করেছে। কোথাও কোথাও খালের মধ্যে রাস্তা হয়ে গেছে, এবং সে রাস্তা এখন জনবহুল রাস্তা। এগুলো চ্যালেঞ্জিং ইস্যু।

গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্ব দুই সিটি করপোরেশনকে খালগুলো হস্তান্তর করা হয়। এর আগে ওই দায়িত্ব পালন করত ঢাকা ওয়াসা।

খালগুলোর দায়িত্ব হাতে পেয়েই উদ্ধার অভিযানে নেমে করেছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। খাল দখল করে কোথাও কোথাও সুউচ্চ ভবনও হয়েছে। এমন অবস্থায় উচ্ছেদ কতটা সম্ভব হবে?

জবাবে মন্ত্রী তাজুল বলেন, ‘সেগুলো কখন কিভাবে হয়েছে স্পেসিফাইডলি পরীক্ষা করে দেখব। কিছু কিছু খালতো সরকারও দখল করেছে।

কোথাও কোথাও খালের মধ্যে রাস্তা হয়ে গেছে, এবং সে রাস্তা এখন জনবহুল রাস্তা। এগুলো চ্যালেঞ্জিং ইস্যু। তবুও যেসব খাল অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে, সেগুলো নিয়ে সিটি করপোরেশন তাদের দায়িত্ব পালন করবে সেটাই স্বাভাবিক।

0Shares

Comment here