জাতীয়প্রযুক্তিরকমারিরাজনীতিস্বাস্থ্যপাতা

শরীরে মাদকের প্রমাণ মিললে, চাকরী হবেনা কোনো প্রতিষ্ঠানে

দিগন্তর ডেস্ক  : শরীরে মাদকের প্রমাণ মিললে সরকারি, বেসরকারি কিংবা স্বায়ত্তশাসিত কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি জুটবে না। ভর্তি হওয়া যাবেনা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। উপযুক্ত প্রতিষ্টান থেকে ড্রাগ টেস্টের পর সনদ নিয়ে চাকরি কিংবা ভর্তির আবেদন করতে হবে।

জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিষয়টিতে ঐকমত্য পোষণ করে ডোপ টেস্টের জন্য ‘বাংলাদেশ ড্রাগ টেস্টিং ইনস্টিটিউট’ নামে একটি পৃথক সংস্থা গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এটির কাজ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শামসুল হক টুকু বলেন, আমরা প্রস্তাব করেছি বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য একটি বোর্ড গঠন করা যেতে পারে। তাদের দায়িত্বই থাকবে ড্রাগ টেস্ট করা। একটি আলাদা বোর্ড থাকলে তাদের সার্টিফিকেট নিয়েই সব চাকরি ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে। ‘বাংলাদেশ ড্রাগ টেস্টিং ইনস্টিটিউট’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় একমত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তারা কাজ করছে। এ ছাড়া সবার জন্য ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করতে এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। আগামীতে এটি আরও কড়াকড়ি করা হবে বলেও জানান সাবেক এ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

জানা গেছে, সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির আগে প্রস্তাবিত ওই প্রতিষ্ঠান থেকে ডোপ পরীক্ষা করে সনদ নিতে হবে। কারও শরীরে মাদকের উপস্থিতি পেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করতে পারবে প্রতিষ্ঠানটি। বিএসটিআই যেমন ভেজালবিরোধী অভিযানও পরিচালনা করে, এই প্রতিষ্ঠানও তেমনি প্রয়োজন মনে করলে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করতে পারবে।

২০১৮ সালে সব শ্রেণির সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সময় বিদ্যমান ব্যবস্থার সঙ্গে ‘ডোপ টেস্ট’ অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগে চিঠি দেয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সুরক্ষা সেবা বিভাগ ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সব মন্ত্রণালয়/বিভাগে চিঠি দেয়। এ ছাড়া উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসার আগে ডোপ টেস্ট/বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে গত ৫ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগকে চিঠি দিয়েছে। সেই চিঠির বাস্তবায়ন অগ্রগতি না পাওয়ায় গত বছরের ২০ আগস্ট সংশ্লিষ্ট বিভাগে তাগিদপত্র দেয়া হয়। তবে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ গত ২৪ জুন তাদের আওতাধীন দপ্তরগুলোয় ওই বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছে বলে জানা গেছে।

ইতোমধ্যেই ভর্তি প্রক্রিয়ায় ডোপ টেস্ট চালু করেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। তারা শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়ায় ডোপ টেস্টের শর্ত জুড়ে দিয়েছে এবং সেই সিদ্ধান্তের আলোকে ভর্তি চলছে।

এদিকে দেশব্যাপী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও গতিশীল ও জোরদার করার লক্ষ্যে ৬২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন বছরমেয়াদি ‘মাদকাসক্ত শনাক্তকরণ ও ডোপ টেস্ট প্রবর্তন (প্রথম পর্যায়)’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি ১৯ টি জেলায় বাস্তবায়ন হবে। জেলাগুলো হচ্ছে- ঢাকা, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রাঙামাটি, নোয়াখালী, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, বরিশাল, পটুয়াখালী, সিলেট, রংপুর ও দিনাজপুর।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ৫ ডিসেম্বর সরকারি চাকরিতে যোগ দেয়ার আগে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়। এর পর থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন শাখায় সরকারি- বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চাকরি প্রত্যাশীদের ডোপ টেস্টের জন্য তালিকা পাঠানো হচ্ছে।

এই ডোপ টেস্টে মুখের লালা পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ ৭ দিন, রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ দুই মাস, চুল পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ ১২ মাস এবং স্প্যাইনাল ফ্লুইড পরীক্ষার মাধ্যমে গত পাঁচ বছরের মধ্যে কেউ মাদক গ্রহণ করলেও তা ধরা পড়বে। কিন্তু বর্তমানে শুধু মূত্র পরীক্ষার মাধ্যমে ডোপ টেস্ট করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কেউ শেষ ১০ দিনের ভেতর কোনো মাদক গ্রহণ করেছেন কিনা তা ধরা পড়ে।

0Shares

Comment here