জাতীয়প্রযুক্তিরাজনীতিস্বাস্থ্যপাতা

জমে উঠেছে পৌরসভা নির্বাচন : বিরামহীন প্রচারণায় প্রার্থীরা

দিগন্তর ডেস্ক : জমে উঠেছে পৌরসভা নির্বাচন। বিরামহীন প্রচারণায় প্রার্থীরা। দিনরাত ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। তীব্র শীত উপেক্ষা করেই কাকডাকা ভোরে প্রার্থীরা বেরিয়ে পড়ছেন ভোটারদের কাছে, দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতি। স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশ এখন সরগরম, উৎসব নগরী। নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণের কারণে ভোটারের মাঝেও আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনি উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র।

তথ্যমতে, ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপের এবং ৩০ জানুয়ারি তৃতীয় ধাপের নির্বাচনের প্রচারণায় নতুনভাবে সেজেছে পৌরসভা। অলিগলি ছেয়ে গেছে পোস্টারে। দফায় দফায় প্রার্থী ও সমর্থক আসছেন বাড়ি-বাড়ি। প্রার্থীদের পদচারণা আর প্রতিশ্রুতিতে ভাসছে পৌরসভাগুলো। প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা ভোটারদের আকৃষ্ট করতে নানা ধরনের কথার ফুলঝুড়ি ছোটাচ্ছেন। সব প্রার্থীই দিচ্ছেন পৌর নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মেয়র আর কাউন্সিলর প্রার্থীদের পদচারণায় রীতিমতো রোমাঞ্চিত ভোটাররা। ভ্যান, পিকআপ, সিএনজি ও রিকশায় মাইক বেঁধে প্রচার-প্রচারণা চালাতে গিয়ে অনেকে তোয়াক্কা করছেন না আচরণবিধি। যা নিয়ে ইসিতে শতাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। সৎ ও যোগ্য মেয়র নির্বাচনে হিসাব-নিকাশ করছেন ভোটাররা। হোটেল, চায়ের দোকান, বাসা, অফিস সর্বত্র এখন আলোচনায় কে হচ্ছেন পরবর্তী মেয়র। কে এগিয়ে আছেন।

শরীয়তপুর সদর পৌরসভার ভোটার দেলোয়ার হোসেন বলেন, পৌরসভা নির্বাচনের প্রচারণা এখন তুঙ্গে। শীত উপেক্ষা করে প্রার্থী ও সমর্থকরা সারাদিনই বাড়িতে আসছেন। নির্বাচন এলেই সুযোগ-সুবিধার গল্প শুনি। নির্বাচনের পর এসব বালাই থাকে না। এবারেই দ্বিতীয়বারের মতো পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে দলীয়ভাবে। দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ইসি নিবন্ধিত বেশ কয়েকটি দল। নির্বাচনি মাঠে ক্ষমতাসীনদের শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে পৌরসভায় মাঠে নেমেছে বিএনপি। ফলে দীর্ঘদিনের নির্বাচনি জড়তা কাটিয়ে মাঠে দেখা যাচ্ছে নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীক। যা নির্বাচনে ভোটদানে ভোটারদের আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। প্রায় প্রতিটি পৌরসভায় মূল লড়াই হচ্ছে নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকের। আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পোস্টারে শেখ হাসিনা আর বিএনপি প্রার্থীর পোস্টারে বেগম খালেদা জিয়ার ছবি শোভা পাচ্ছে। নির্বাচন পৌরসভার হলেও হিসাব-নিকাশ চলছে জাতীয় রাজনীতির মাঠ নিয়ে। প্রার্থীরাও পৌরসভার সুযোগ-সুবিধা থেকে দলীয় প্রচারণা বেশি চালাচ্ছেন। উভয়দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন দলীয় প্রার্থী নির্বাচনে।

ইসি সূত্র জানায়, করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে এবার পৌর নির্বাচনি আচরণবিধিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আইনানুযায়ী দল ও প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো জনসভা বা শোভাযাত্রা করা যাবে না, শুধু পথসভা ও ঘরোয়া সভা করা যাবে। তবে জনগণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে সড়কে পথসভা করা যাবে না, বানানো যাবে না মঞ্চও। কোনো প্রার্থী প্রতিপক্ষের পথসভা ও ঘরোয়া সভায় বাধা দিতে পারবে না। কোনো প্রার্থী একটি ওয়ার্ডে একই সঙ্গে পথসভার জন্য একটি ও প্রচারণার জন্য একটির অধিক মাইক ব্যবহার করতে পারবেন না।

দল মনোনীত প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক ও দলীয় প্রধানের ছবি পোস্টারে রাখতে পারবেন, তবে রঙিন পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। মিছিলে নেতৃত্ব দেয়ার কিংবা প্রার্থনা বা ‘বিশেষ ভঙ্গির’ ছবিও পোস্টারে দেয়া যাবে না। কোনো প্রার্থী সরকারি সার্কিট হাউজ, ডাক-বাংলা ব্যবহার করতে পারবে না।

পৌর নির্বাচনে নির্বাচনি মাঠে থাকবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটরা। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে প্রতিটি পৌরসভায় একজন করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন। প্রার্থীরা আচরণবিধি প্রতিপালন করছেন কি-না তা দেখভাল করছেন।

এছাড়া প্রতিটি পৌরসভার তিনটি ওয়ার্ডের জন্য একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকছেন। তারা ভোটের আগের দিন, ভোটের দিন ও ভোটের পরের দিন দায়িত্ব পালন করবেন। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা নির্বাচনি বিধি ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় তাৎক্ষণিক সাজা দেয়ার এখতিয়ার রাখবেন।

ইতোমধ্যে দ্বিতীয় ধাপের ৬২ পৌরসভার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে এনেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের আগের দিন ১৫ জানুয়ারি মধ্য রাত ১২টা থেকে ১৬ জানুয়ারি মধ্য রাত পর্যন্ত নৌযানসহ যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের ৩০টি পৌরসভায় ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ করা হবে।

পৌরসভাগুলো হলো— দিনাজপুরের বীরগঞ্জ, নীলফামারীর সৈয়দপুর, বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও সান্তাহার, নওগাঁর নজিপুর, রাজশাহীর কানসাট ও আড়ানী, নাটোরের নলডাঙ্গা, সিরাজগঞ্জের কাজিপুর, পাবনার ফরিদপুর, মেহেরপুরের গাংনী, কুষ্টিয়ার কুমারখালী, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, বাগেরহাটের মংলা পোর্ট, মাগুরা সদর, পিরোজপুর সদর, টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া, নেত্রকোনার কেন্দুয়া, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর, নরসিংদী জেলার মনোহরদী, নারায়ণগঞ্জের তারাব, শরীয়তপুর সদর, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর, কুমিল্লার চান্দিনা, ফেনীর দাগনভূঞা, নোয়াখালীর বসুরহাট, খাগড়াছড়ি সদর, গাজীপুরের শ্রীপুর। এসব পৌরসভায় ইভিএম পদ্ধতি সম্পর্কে প্রার্থী ও ভোটারদের সচেতন করতে প্রচারণার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

0Shares

Comment here