জাতীয়ধর্মকর্মপ্রযুক্তিরাজনীতিস্বাস্থ্যপাতা

অনুমোদনহীন প্রসাধনীতে বাজার সয়লাব, মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি

সিলেট ব্যুরো : ত্বকের সুরক্ষা ও বিশেষ যত্ন নিতে শিশু থেকে বয়স্ক সব বয়সি মানুষ সব ঋতুতে নানা রকম প্রসাধনী সামগ্রী ব্যবহার করে থাকে। অথচ সিলেটের বাজারে নকল প্রসাধনী সামগ্রীর ভিড়ে আসল প্রসাধনী খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। মোড়ক দেখে কারো বোঝার উপায় নেই কোনটি আসল আর কোনটি নকল।

গতকাল বুধবার দুপুরে সিলেট নগরীর নামিদামি কয়েকটি প্রসাধনী দোকানে সিসিকের ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক পরিচালিত অভিযানে এ চিত্র ফুটে ওঠেছে। চিকিৎসকরা বলছেন, ভেজাল এসব প্রসাধনী ব্যবহারের ফলে ত্বকে ক্ষত, চুল পড়া, অ্যালার্জিসহ নানা জটিল রোগ দেখা দিতে পারে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি কেউ কেউ ত্বক ক্যানসারেও ভোগতে পারেন।

আর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী পরিচালক জানান, ‘বাজার মনিটরিংয়ে আমরা অনেকটা অসহায়। পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় মাত্র দুটি টিম দিয়ে পুরো জেলার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। সাধারণ মানুষ বিভিন্ন দেশি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের তেল, সাবান, শ্যাম্পু, মেহেদি, লিপস্টিক, নেইল পলিশ, বিভিন্ন ধরনের লোশন, ক্রিম, ভ্যাসলিন, বডি স্প্রেসহ আরও অনেক প্রসাধনী সামগ্রী ব্যবহার করে। ভোক্তাদের বিপুল চাহিদাকে পুঁজি করে অধিক লাভের আশায় কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী নকল ও মানহীন প্রসাধনী সামগ্রী বাজারজাত করে আসছে।

একদিকে ভোক্তারা ঠকছেন অন্যদিকে শিশুসহ সব বয়সি ব্যবহারকারীদের ঠেলে দেয়া হচ্ছে নানারকম ক্ষতির মুখে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রয়েজনীয় উপাদান এবং প্রহণযোগ্য মাত্রা নীতি অনুসরণ না করে প্রস্তুতকৃত এসব প্রসাধনী সামগ্রীতে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন নামিদামি প্রতিষ্ঠানের নাম ও লোগো ব্যবহার করা হয়। ফুটপাত থেকে শুরু করে স্থানীয় বাজারের দোকানগুলোতে এসব ভেজাল ও নকল সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। আবার গ্রামে গ্রামে ফেরি করেও বিক্রি করা হয় ক্ষতিকর এসব প্রসাধনী সামগ্রী। অভিযোগ রয়েছে, নকল ও মানহীন সামগ্রী প্রস্তুত ও বাজারজাতকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান না চালানোর ফলে প্রতিনিয়ত নকল পণ্যের ছয়লাব বেড়েই চলেছে। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, এখনই সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপশি সাধারণ ক্রেতাদের সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

অভিযানে দেখা যায়, নগরের জিন্দাবাজারে কাকলী শপিং সেন্টারের কসমেটিকস দোকানগুলোতে বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে দেশীয় মানহীন ও ভেজাল পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। এসব দোকানে শিশুদের ব্যবহারের লোসন, জেল, ওলিভয়েলের পাশাপাশি রয়েছে নারীদের রূপচর্চায় ব্যবহার্য বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী। যা একেবারেই মানহীন বলে জানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় কয়েকটি দোকান মালিককে জরিমানা করা হয়। একই সাথে প্রায় লক্ষাধিক টাকার প্রসাধনী জব্দ করে তা ধ্বংস করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমন চন্দ্র দাস। তাকে সহায়তা করে সিলেট মহানগর পুলিশের একটি দল।

এ বিষয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমন চন্দ্র দাস বলেন, নামি-দামি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে এসব কসমেটিক সামগ্রী বিক্রি করে আসছিল দোকানগুলো। ঢাকার চকবাজারসহ সিলেটের ভিন্ন জায়গায় এ সব পণ্য তৈরি করা হয়। যা শিশুর জন্য এবং ব্যবহারকারীর জন্য ক্ষতিকর। এজন্য কয়েকটি দোকানমালিককে জরিমানা করা হয়েছে। একই সাথে ভেজাল এ সব পণ্য ধ্বংস করা হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী পরিচালক আমিরুল মাসুদ জানান, ‘পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় মাত্র দুটি টিম দিয়ে পুরো জেলার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। একটি জেলায় কমপক্ষে ১০টি টিম কাজ করার কথা থাকলেও সেখানে কাজ করছে মাত্র দুটি টিম। এছাড়া আমাদের যাতায়াতের জন্য নেই কোনো যানবাহন। পণ্যের মান পরীক্ষার জন্য নেই কোনো ল্যাব, সরঞ্জামাদি। এসব নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন করেও কোনো কাজ হয়নি বলে অভিযোগ এ কর্মকর্তার।

0Shares

Comment here