জাতীয়প্রযুক্তিরকমারিরাজনীতি

চলুন দেখি পদ্মাসেতু পার হতে কত টাকা গুণতে হবে?

দিগন্তর ডেস্ক  : স্বপ্নের পদ্মাসেতু এখন দৃশ্যমান। একে একে প্রায় ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার জুড়ে বসে গেলো সবগুলো পিলার ও স্প্যান। এরপর দ্বিতল এই সেতুর ঢালাইয়ের কাজ, অ্যাপ্রোচ রোড ও ভায়াডাক্ট প্রস্তুত করা, রেলের জন্য স্ল্যাব বসানো হয়ে গেলেই স্বপ্নের পদ্মাসেতু হয়ে উঠবে যানবাহন চলাচলের উপযোগী।

মূলত ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে এ পদ্মাসেতু। গণমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রকল্পের অগ্রগতি ৯০ দশমিক ৫০ ভাগ ও আর্থিক অগ্রগতি ৮৮ দশমিক ০৩ ভাগ। নদীশাসন কাজের অগ্রগতি ৭৫ ভাগ। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৩ সালের জুন মাসের পরে গণমানুষের জন্য উন্মুক্ত হবে এ সেতুটি।

যদিও এর আগে মন্ত্রিপরিষদ সচিব (সাবেক সেতু বিভাগের সিনিয়র সচিব) খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২০২২ সালের জুনে পদ্মাসেতুর উদ্বোধন হবে।

তবে যেদিনই পদ্মাসেতু চালু হউক না কেন; এর আগে অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে, এ সেতুতে যান পারাপারে টোল কত হবে? জানা গেছে, সেতুটি ব্যবহারের জন্য দিতে হবে মোটা অঙ্কের টোল। এক্ষেত্রে বর্তমানে পদ্মা নদী ফেরিতে (শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি) পারাপার হতে যে টাকা লাগে, সেতুতে তার দেড়গুণ হারে টোলের হার নির্ধারণ করা হয়েছে। আর বঙ্গবন্ধু (যমুনা) সেতুর টোলের সঙ্গে তুলনায় তা হবে দ্বিগুণ বা তারও বেশি।

একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে ফেরিতে একটি বড় বাস পদ্মা নদী পার হতে লাগে ১ হাজার ৫৮০ টাকা। তবে পদ্মা সেতু হলে টোল দিতে হবে ২ হাজার ৩৭০ টাকা। আর বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার জন্য বড় বাসের টোল ৯০০ টাকা।

এদিকে পদ্মাসেতু চালুর পর ১৫ বছরের জন্য একটি টোল হারের তালিকা করেছে সেতু বিভাগ। গত বছর এ তালিকা করা হয়। সে তালিকা অনুসারে, পদ্মাসেতু ব্যবহারের জন্য মোটর সাইকেলে টোলের হার ১০৫ টাকা।

এছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ি, জিপ ও মাইক্রোবাসে এ হার এক হাজার ৫০ টাকা। ছোট বাসে (২৯ বা তার চেয়ে কম আসন) টোলের হার দুই হাজার ২৫ টাকা ও বড় বাসে (৩০ আসনের বেশি) দুই হাজার ৩৭০ টাকা।

এদিকে পদ্মাসেতুতে চলাচলের জন্য ছোট ট্রাকের (পাঁচ টনের কম) টোল এক হাজার ৬২০ টাকা, মাঝারি ট্রাকের (৫-৮ টন) দুই হাজার ১০০ টাকা, বড় ট্রাকের (আট টনের বেশি) দুই হাজার ৭৭৫ টাকা। এছাড়া চার এক্সেলের ট্রেইলারের টোল ৪ হাজার টাকা আর চার এক্সেলের বেশি হলে পরবর্তী প্রতি এক্সেলের জন্য দেড় হাজার টাকা করে অতিরিক্ত টোল যোগ হবে।

তবে টোলের হার কেন এত বেশি, এই প্রসঙ্গে সেতু বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, পদ্মাসেতু নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হলেও এজন্য ব্যয়িত অর্থ ঋণ হিসেবে দিচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ ঋণ সুদসহ ৩৫ বছরে সেতু বিভাগকে ফেরত দিতে হবে।

এদিকে গত বছর ২৯ আগস্ট অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সেতু বিভাগের এ নিয়ে চুক্তি হয়। এই চুক্তিতে পদ্মাসেতুতে চলাচলকারী যানবাহনের টোলের হার কী হবে, কত বছরে টোল আদায় হবে, টোলের টাকা কীভাবে পরিশোধ করতে হবে –এর বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। এ ঋণ শোধের খরচ জোগাড় করা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মেটানোর জন্য টোলের হার কিছুটা বেশি ধরা হয়েছে। তবে সরকার চাইলে তা আরও কম নির্ধারণ করতে পারে।

তারা বলছেন, এখন পর্যন্ত পদ্মাসেতু প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে অনুদান রয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে না। ফলে সেতু বিভাগকে আসল হিসাবে ২৯ হাজার ৯০০ কোটি টাকা সরকারকে ফেরত দিতে হবে। এর সঙ্গে বাড়তি ১ শতাংশ হারে সুদ গুনতে হবে।

অর্থাৎ সুদে-আসলে মোট পরিশোধ করতে হবে ৩৬ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা। এছাড়া নকশা সংশোধন ও বাস্তবায়ন বিলম্বের কারণে পদ্মাসেতুর নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। ফলে টোলের হার কমার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, পদ্মা সেতুর টোলের হার ঠিক করা হয়েছে যানবাহন চলাচলের পূর্বাভাস ধরে। এক্ষেত্রে ২০২১ সালে পদ্মাসেতু দিয়ে দৈনিক প্রায় ৮ হাজার যানবাহন চলাচল করবে ধরা হয়েছে। আর ৩৫ বছর পর এ সংখ্যা দিনে ৭১ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। যদিও ২০২১ সালে সেতুটি চালু হচ্ছে না। এতে ঋণ পরিশোধ বিলম্বিত হবে। তবে ব্যয় বৃদ্ধি বা যানবাহন কম চললে টোলের হার নিয়ে পুনরায় ভাবতে হবে বলে মনে করেন তারা।

0Shares

Comment here