জাতীয়প্রযুক্তিরাজনীতিস্বাস্থ্যপাতা

বরগুনার পাথরঘাটায় বাংলাদেশে প্রথমে স্মার্ট বোট উদ্বোধন

জয়নুল আবেদিন টুকু পাথারঘাটা প্রতিনিধি :
বরগুনা জেলার সুযোগ্য জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাইন বিল্লাহ অদ্য (৭ডিসেম্বর) সোমবার বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার বিষখালী নদীর তীরে অবস্থিত বাইনচটকী ফেরিঘাটে দুুুুপুর দেড় টায় জলবায়ু পরিবর্তনকে বিশেষ বিবেচনায় রেখে স্মার্ট বোট স্কীমের শুভ উদ্বোধন করেন। উদ্ধোধনি অনুষ্ঠানে সেখানে উপস্থিত ছিলেন জালাল উদ্দিন, উপ-পরিচালক স্থানীয় সরকার বরগুনা এবং পাথরঘাটা উপজেলা, উপজেলা নির্বাহি অফিসার মোসাঃ সাবরিনা সুলতানা। এছাড়া লোকাল গভর্নমেন্ট ইনিশিয়েটিভ অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (লজিক) প্রকল্পের ইউএনডিপির জেলা কর্মকর্তাসহ পাথরঘাটা উপজেলার প্রকল্পভুক্ত চারটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগন শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন লজিক প্রকল্পটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন,সিডা ইউএনসিডিএফ এবং ইউএনডিপি এর অর্থায়নে দেশের সাতটি জেলায় জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় মোট ৭২ টি ইউনিয়ন পরিষদে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই প্রকল্পের কার্যক্রমের আওতায় জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক পরিকল্পনা প্রণয়নে ইউনিয়ন পরিষদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, জলবায়ু সহনশীল কাজের জন্য দক্ষতাভিত্তিক অনুদান (পিবিসিআরজি) এবং কম্যুনিটি রেলিজিয়েন্স ফান্ড (সিআরএফ) সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম চলমান।

স্মার্টবোট, ইউনিয়ন পরিষদ প্রদেয় পিবিসিআরজি বরাদ্দ দ্বারা বাস্তবায়িত একটি স্কীম।

জেলে জনগোষ্ঠীর বিশেষ দাবিগুলোকে বিবেচনায় রেখে লজিক প্রকল্পের আওতাধীন বরগুনা জেলার বরগুনা সদর, তালতলী ও পাথরঘাটা এই তিনটি উপজেলার ১২ টি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রয় ১০০ টি স্মার্টবোট স্কীম গ্রহণ করা হয়।

করোনা প্রটোকল মেনে একটি স্মার্টবোট উদ্বোধন করা হয় এবং পরবর্তীতে বাকী স্মার্টবোট এই মডেল কে অনুসরণ করে বাস্তবায়ন করা হবে।

 

এই স্মার্ট বোটে মোট ১০ ধরনের সরঞ্জামাদি প্রদান করা হয়েছে। যেমন লাইফ জ্যাকেট, বয়া, পানি নিরোধক ডুয়েল ব্যান্ড রেডিও, হেবি ডিউটির টর্চ লাইট (রাতের উদ্ধারের জন্য), ছোট আয়না (দিনে উদ্ধারের জন্য), হেবি ডিউটির স্ট্রব লাইট (পজিশন সিগন্যালের জন্য), ফার্স্ট এইড কিট, সমুদ্রের লবণাক্ত পানিকে ব্যবহার উপযোগী করার জন্য পোর্টেবল মিনি ওয়াটার ফিল্টার, কম্পাস, সোলার প্যানেল। এই স্কীমের টেকসই নিশ্চিতকরণের জন্য মোট প্রকল্প ব্যয়ে উপকারভোগীদের অংশীদারিত্ব রয়েছে।

এই স্কীমের মূল লক্ষ্য সরাসরি প্রায় ২০০০ জন জেলে ও ১০০ জন জেলে নৌকার মালিককে প্রাথমিক সতর্কতার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া, মানবিক সুরক্ষা বাড়ানো এবং মৃত্যুর হার হ্রাস করার লক্ষ্যে জরুরী পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য জেলেদের নৌকায় কিছু জরুরী উপকরণাদি সরবরাহ করা। পাশাপাশি অন্য সাধারণ জেলে ও জেলে নৌকার মালিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও উৎসাহ জোগান।

উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, মৎস্যজীবীদের মাছধরা ট্রলারকে জলবায়ু অভিযোজিত করার লক্ষ্যে কিছুসংখ্যক প্রাথমিক নিরাপত্তা সরঞ্জামাদির ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার সাহায্যে জেলেরা সমুদ্রে দুর্যোগকালীন জরুরী মুহুর্তে বা দুর্যোগ পরবর্তী কয়েকদিন সমুদ্রে জীবন ও জীবিকার জন্য টিকে থাকতে পারবে বলে আশা করা যায়। এতে মৎস্যজীবীগণ গভীর সমুদ্রে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পাবে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে আঘাত হানার পূর্বে নিরাপদে ফিরে আসতে পারবে।

জলবায়ু পরিবর্তনকে ভাবনায় রেখে বরগুনার জেলাতে তথা বাংলাদেশের প্রথম স্মার্ট বোট স্কীমটি লজিক প্রকল্পের পিবিসি আরজি’র অর্থায়নে ইউনিয়ন পরিষদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বরগুনা জেলা প্রশাসন বাস্তবায়ন করছে। বরগুনার স্মার্ট বোটের এই পরিকল্পিত ধারণাটি লজিক প্রকল্পের অন্যান্য জেলাগুলো উপকূলীয় ১৯ টি জেলায় যদি বাস্তবায়ন করা যায় তাহলে জলবায়ু অভিযোজিত বিষয়টি কিছুটি হলেও নিশ্চিত হবে এবং মৎস্যজীবীরা দুর্যোগকালীন ও অন্যান্য সময় ইতিবাচক ফলাফল পাবে।

উপ-পরিচালক, স্থানীয় সরকার বরগুনা জালাল উদ্দিন বলেন, আমরা চাই জেলা প্রশাসন ও লজিকের যৌথ উদ্যোগে যে স্মার্ট বোট স্কীমটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে তা যেন উপকূলীয় ১৯ জেলাতে ছড়িয়ে দেয়া হয়। এতে করে মৎস্যজীবীরা দুর্যোগকালীন পরিবর্তিতে বিশেষভাবে উপকৃত হবেন।

রায়হানপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রূপক বলেন, আমরা সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ আমাদের বরগুনা জেলার এই ধরনের একটি প্রকল্প উপহার দেওয়ার জন্য। কারণ লজিক প্রকল্পের মাধ্যমে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য খুবই উপকার হচ্ছে এবং আমরা জনপ্রতিনিধিরা জনগণের কাছে মূল্যায়িত হচ্ছি। বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই আমাদের ডিসি স্যার কে, যার ঐকান্তিক সহায়তায় ও দিকনির্দেশনায় আমরা এ স্মার্ট বোট স্কীমটি বাস্তবায়ন করতে পেরেছি।
লজিক প্রকল্প বরগুনা- স্মার্ট বোট প্রকল্পটিতে ইউনিয়ন পরিষদের ডাকে সাড়া দিয়ে স্থানীয় জেলেরা নিজস্ব আয়ের কিছু অংশ প্রদান করে নিজেদেরকে জলবায়ু অভিযোজিত করার কার্যক্রমে অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করেছে। এর ফলে সমুদ্রগামী মৎস্যজীবীদের জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোতে এবং তাদের পরিবারের অন্য সদস্যদের বিশেষ করে মহিলা সদস্যদের স্বজন হারানোর আশঙ্কা হ্রাস করে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী।

0Shares

Comment here