অর্থনীতিজাতীয়ধর্মকর্মস্বাস্থ্যপাতা

অসামাজিক কার্যকলাপের দায়ে শ্রীমঙ্গলে বিটিআরআই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি
সৈয়দ আমিনুল ইসলাম : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের স্বনামধন্য ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিটিআরআই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শায়েক আহমদ এর বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগে আজ (২ডিসেম্বর) সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

গতকাল (মঙ্গলবার ১ডিসেম্বর) বিকালে উপজেলার বিটিআরআই উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকের বাসভবনে এ ঘটনাটি ঘটে। উক্ত স্কুলের দশম শ্রেণী পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী প্রধান শিক্ষক শায়েক আহমেদের বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ তুলেন।

এ ঘটনাটি মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়,পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায় ওই শিক্ষার্থীকে বাসায় কিছু কাগজপত্র দেখানোর কথা বলে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তার বাসায় আসতে বলেন। পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থী কথামতো উনার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে উনার বাসায় যায়। এ সময় শিক্ষার্থীকে নিয়ে উনি উনার সোয়ার ঘরে নিয়ে যান এবং বলেন আমার হাত-পা টিপে দাও। শিক্ষার্থী শিক্ষকের সম্মানার্থে তার হাত পা টিপে দেওয়া শুরু করে। এভাবে কিছুক্ষণ যাওয়ার পর হঠাৎ করে ঐ শিক্ষক তাকে কু-প্রস্তাব দেন এতে শিক্ষার্থী রাজি না হলে তাঁকে বারবার বুঝানোর চেষ্টা করে এবং এই কু প্রস্তাব মেনে নেওয়ার জন্য চাপ দেন।

ওই শিক্ষার্থী তখন ঘাবড়ে যায়, এবং পরে ঐ শিক্ষককে এক স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতার নাম বলে, সেটা শোনার সাথে সাথে ঐ শিক্ষক‌ও ঘাবড়ে গিয়ে তাকে ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীর হাতে একটি বই ধরিয়ে দিয়ে বলেন এখানে যা কিছু হয়েছে তুমি বাহিরে গিয়ে কিছু বলবে না আর তোমার পরিবার যদি জানতে চায় তোমাকে কেন ডেকে আনা হয়েছে তুমি বলবে তোমাকে এই বইটি উপহার হিসেবে দেওয়ার জন্য তোমাকে ডাকা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে জানাযায়, ওই শিক্ষার্থীর আহ্বানেই স্থানীয় এক ছাত্রলীগ নেতা ওই শিক্ষকের বাসায় গিয়ে প্রায় হাতেনাতেই ওই শিক্ষককে আটক করে এবং জিজ্ঞাসাবাদ করলে উনি সেটা স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে বিটিআরআই স্কুলের পরিচালক এবং বিদ্যালয় সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরা প্রধান শিক্ষক শায়েক আহমদকে আজ সাময়িক বহিস্কার করেছি। এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তাহার অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য কমিটিকে বলা হয়েছে।

 

0Shares

Comment here