অর্থনীতিজাতীয়লাইফস্টাইল

পাথারঘাটায় সেতুটি সংস্কার হয়নি আট বছরেও, প্রাণ হাতে নিয়েই হতে হয় পারাপার

জয়নুল আবেদিন টুকু, পাথরঘাটা প্রতিনিধি:
বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার শহর থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে কাকচিড়া ইউনিয়নের রূপধন গ্রামের বাজারে খালের উপরে জীর্ণ কংক্রিটের নির্মিত সেতুর মাঝ বরাবর ভেঙে একটা অংশ দেবে গেছে। বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়েই ৫টি গ্রামের বাসিন্দাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন ওই সেতু দিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে।

জীর্ণ কংক্রিটের সেতুর ভাঙ্গা অংশ কাঠ দিয়ে মেরামত করে কোন রকম জোড়াতালি দিয়ে চলছে স্থানীয়রা। চলছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ভারি জানও। তবে যেকোনো মুহূর্তে সেতুটি ধসে পড়ে হতাহতের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় লোকজন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একযুগেরও বেশি দিনের পুরোনো এই সেতুটি নড়বড়ে হয়ে পড়েছে বছর দুয়েক আগে। এরপরে আর সেতুটির সংস্কার করা হয়নি। ভগ্নপ্রায় সেতুটি যে কোনও দিন ভেঙে পড়তে পারে। স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের কাছে জনসাধারনরা দীর্ঘদিন নতুন সেতু তৈরির দাবি জানানো হচ্ছে। তবে নতুুুন সেতু কবে হবে সে বিষয়ে কোনও আশ্বাস মেলেনি।

জানাযায় রূপধন খালের একধারে বাংলাদেশ নৌবাহিনী নির্মিত আবাসন প্রকল্প আরেক ধারে ডেনমার্ক প্রকল্পিত বাজার, ঈদগাহ মাঠ ,জামে মসজিদ, রূপধন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় , রূপধন বন্দর আমিরে মাধ্যমিক বিদ্যালয়, জালিয়াঘাটা কাসেমিয়া দাখিল মাদ্রাসা, মালালা ইউসুফজাই একাডেমি। সাথে রয়েছে বাস স্টাপেজ। এখান থেকে ছোট বড় শহর সহ দেশের বড় বড় শহরের সাথে সংযোগ স্থল। বিশেষ করে দক্ষিণ অঞ্চলের বৃহত্তম আলু চাষ হয় এই গ্রামে, তবে সবথেকে বেশি ক্ষতি হয় চাষীদের ও ছাএ- ছাত্রীদের।। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৫০ ফুট দীর্ঘ ও ৫ ফুট চওড়া সেতুর মাঝ বরাবর ভেঙে গছে। ভাঙা সেতু দিয়ে চলছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও জিপ গাড়িসহ ভারি জান । তবে বেশির ভাগ লোকজন হেঁটেই পার হচ্ছে।
রূপধন এলাকার অটোরিকশা চালক আবদুল মতিন বলেন, সেতু ভেঙে গেলেও করার কিছু নেই। বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা সেতু পারাপার করতে হয় গাড়ি নিয়ে।


শিক্ষার্থী মোঃ সজিব, লামিয়া,রুহি ইসলাম ময়না ও সাকিলসহ একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ভাঙা সেতু পার হয়েই তারা বিদ্যালয়ে যায়। তবে সেতুটি পার হতে ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে হেঁটে পার হওয়া খুব ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। তখন তাদের বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।
রূপধন গ্রামের বাসিন্দা ডাঃ বিজয় কৃষ্ণ হালদার বলেন, ‘‘প্রতিদিন সেবা দিতে এবং নিতে আসা মানুষদের ভোগান্তির শেষ নেই। জালিয়াঘাটার বাসিন্দা গোলাম হায়দার একজন বীজ ডিলার তিনি বলেন তাহার প্রতিদিন এই বাজারে আসতে হয় যেহেতু তার এই বাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জীবিকার তাগিদে প্রতিনিয়ত সেতুটি পারাপার করতে হচ্ছে। মাছ ব্যবসায়ী সোনা মিয়া বলেন তারা প্রতিদিন বিপদের আশঙ্কা নিয়েই এই সেতুর উপর দিয়ে যাতায়াত করছেন।

সেতু সংক্রান্ত বিষয়ে সমস্যার কথা স্বীকার করে ৫, ৬ ও ৭নং, ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যগন বলেন, ‘‘বেহাল সেতু দিয়ে এলাকার বাসিন্দাদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। তারা আরও বলেন, ‘‘রেশনের খাদ্য সামগ্রী, স্কুলের মিড-ডে মিলের চাল বহনের জন্য গাড়ি পারাপার করতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সমস্যার কথা জানিয়ে নতুন পাকা সেতু তৈরির জন্য সেচ দফতরে একাধিকবার জানিয়েও কোন লাভ হয়নি।


কাকচিড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন পল্টু বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ মাসিক সমন্বয় মিটিংয়ে সেতুর বিষয়ে জানানো হয়েছে। বিকল্প রাস্তা না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ পারাপার করছে সেতু দিয়ে।

 

0Shares

Comment here