অর্থনীতিজাতীয়প্রযুক্তিলাইফস্টাইল

আলী যাকেরের জীবনাবসান: বনানী কবরস্থানেই হবে দাফন

আপেল মাহমুদ :বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রবীণ অভিনেতা আলী যাকের আর নেই। শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ গণমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে আলী যাকেরের জানাজা ও দাফনের স্থান প্রসঙ্গে ছেলে ইরেশ যাকের বলেন, আজ বাদ আসর বনানী কবরস্থান মসজিদে বাবার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বনানী কবরস্থানেই তাকে দাফন করা হবে।

তিনি আরো জানান, চার বছর ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধের পর বাবা আজকে সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে এ চলে গেল। মৃত্যুর দুই দিন আগে বাবার করোনা শনাক্ত হয়। উনি যেই দোয়া এবং ভালোবাসা পেয়েছেন তার জন্য আমরা হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞ।

প্রায় চার বছর ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছেন আলী যাকের। সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে গত ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানকার সিসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

এদিকে ৪ বছর ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব আলী যাকের। বার্ধক্যজনিত নানা রোগেও ভুগছিলেন তিনি।

গত ১৫ নভেম্বর হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসংগ্রামী ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের পর দেশে ফিরে আরণ্যক নাট্যদলে যোগ দেন।

এরপর ১৯৭২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মুনীর চৌধুরীর কবর নাটকে প্রথম অভিনয় করেন আলী যাকের। ওই বছরেরই জুন মাসে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ে যোগ দেন। তখন থেকে নাগরিকই তার নাটকসংক্রান্ত ঠিকানা। একে একে বাকি ইতিহাস, সৎ মানুষের খোঁজে, দেওয়ান গাজীর কিসসা, কোপেনিকের ক্যাপটেন, গ্যালিলিও, ম্যাকবেথসহ অনেক মঞ্চসফল নাটকের সঙ্গে নির্দেশনা বা অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত তিনি। বিশ্বখ্যাত মঞ্চনাটক রূপান্তর করেছেন।

এদিকে মঞ্চের পাশাপাশি টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেও জনপ্রিয়তা পেয়েছেন আলী যাকের। টেলিভিশনে আজ রবিবার, বহুব্রীহি, তথাপি, পাথর দেয়ালসহ অসংখ্য নাটকে অভিনয় করে তুমুল জনপ্রিয়তা পান। ৫০টির বেশি বেতার নাটক করেছেন। বেশ কিছু চলচ্চিত্রেও করেছেন অভিনয়। টেলিভিশনের জন্য মৌলিক নাটক লিখেছেন। সমসাময়িক বিষয়ে পত্রপত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখিও করেন। বের হয়েছে বই, যার মধ্যে আছে সেই অরুণোদয় থেকে, নির্মল জ্যোতির জয়সহ বই। একজন শৌখিন ফটোগ্রাফারও তিনি।

বিজ্ঞাপনী সংস্থা এশিয়াটিক থ্রিসিক্সটি গ্রুপের চেয়ারম্যান তিনি। নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের সভাপতি। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি। যুক্তরাজ্যের রয়াল ফটোগ্রাফিক সোসাইটির পূর্ণ সদস্য। পেয়েছেন একুশে পদক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার, বঙ্গবন্ধু পুরস্কার, মুনীর চৌধুরী পদক, নরেন বিশ্বাস পদকসহ অনেক পুরস্কার। স্ত্রী স্বনামধন্য অভিনয়শিল্পী সারা যাকের, পুত্র ইরেশ যাকের ও কন্যা শ্রেয়া সর্বজয়াকে নিয়ে তার সংসার।

0Shares

Comment here