জাতীয়প্রযুক্তিলাইফস্টাইল

রাজধানীতে একদিকে করোনা অন্যদিকে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা

আফজাল আহমেদ : ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭১ রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের মধ্যে ৬৫ জন ঢাকায় ও রাজধানীর বাইরে ছয়জন ভর্তি আছেন বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) জানানো হয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৮ ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ঢাকার হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন। ঢাকার বাইরে দুজন রোগী ভর্তির খবর পাওয়া গেছে।

সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ১০৮৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০১০ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) ডেঙ্গু সন্দেহে এখন পর্যন্ত ছয়টি মৃত্যুর তথ্য প্রেরিত হয়েছে। আইইডিসিআর দুটি ঘটনার পর্যালোচনা সমাপ্ত করে একটি মৃত্যু ডেঙ্গুজনিত বলে নিশ্চিত করেছে।

মাসিক পরিসংখ্যান অনুসারে, জানুয়ারিতে ১৯৯ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪৫, মার্চে ২৭, এপ্রিলে ২৫, মে-তে ১০, জুনে ২০, জুলাইয়ে ২৩, আগস্টে ৬৮, সেপ্টেম্বরে ৪৭, অক্টোবরে ১৬৩ এবং নভেম্বরের এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যক ৪৬০ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। অর্থাৎ ২০২০ সালে মোট এক হাজার ৮৭ ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে এক হাজার ১০ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

চলতি মৌসুমে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত সন্দেহভাজন রোগীদের মধ্যে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে উল্লেখ করে ডেঙ্গুতেই মৃত্যু হয়েছে কি না- তা নিশ্চিত করতে তাদের নমুনা আইইডিসিআরে পাঠানো হয়। ৬টির মধ্যে দুটি মৃত্যু পর্যালোচনা করে একজনের ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন দুই হাজার ২৯২ জন। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ছয় হাজার ৫২৪ জনের, আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার লাখ ৫৬ হাজার ৪৩৮ জনে। বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত ৮ মার্চ, তা সাড়ে ৪ লাখ পেরিয়ে যায় ২৪ নভেম্বর। এর মধ্যে গত ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত। দেশে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ৪ নভেম্বর তা ছয় হাজার ছাড়িয়েছিল। এর মধ্যে ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু।

গত বছর দেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় এবং সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে মশাবাহিত এ রোগে তখন ১৭৯ জন মারা যান।

0Shares

Comment here