অর্থনীতিজাতীয়রাজনীতি

ডোপ টেস্টে পজিটিভ ৬৮ পুলিশ সদস্য, বরখাস্ত ১০

এসকে জামান : ডোপ টেস্ট পজিটিভ হওয়ায় ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) কর্মরত দশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

রোববার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. ওয়ালিদ হোসেন বলেন, বর্তমান পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম গতবছর সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার পর পুলিশ সদস্যদের ডোপ টেস্ট করানোর ঘোষণা দেন। এরপর এ পর্যন্ত ৬৮ জনের মাদক নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এতে সাতজন উপ-পরিদর্শক (এসআই), একজন সার্জেন্ট, পাঁচজন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই), পাঁচজন নায়েক এবং ৫০ জন কনস্টেবল। তাদের মধ্যে ৪৩ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের বিভাগীয় মামলা করা হয় এবং ১৮ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

তিনি জানান, মামলা নিষ্পত্তি শেষে ওই ১৮ জনের মধ্যে ১০ জনকেই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, মাদক সংক্রান্ত অন্যান্য অভিযোগ যেমন মাদক বিক্রিতে অভিযুক্ত ১০ জন, মাদক সেবনে অভিযুক্ত ৫ জন, মাদক দিয়ে ফাঁসানোর ঘটনায় অভিযুক্ত ১০ জন এবং উদ্ধারকৃত মাদক উদ্ধারের তুলনায় কম দেখিয়ে অর্থ নেওয়ায় অভিযুক্ত চারজন। মোট এই ২৯ জন অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের মধ্যে মোট ৬ জনকে সাজা দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে নিজেদের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ সদর দফতর। এর অংশ হিসেবে দুই মাস আগে ডিএমপি সদস্যদের ডোপ টেস্ট শুরু হয়।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, ডিএমপি কমিশনারের নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থা (ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস ডিভিশন-এনআইডি) পুলিশের মাদক সেবন ও মাদক কারবারে সম্পৃক্ততার বিষয়ে তদন্ত করছে। ডিএমপির বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্বরতদের অনেকে মাদকাসক্ত হওয়ার পাশাপাশি মাদক কারবারিদের সঙ্গে সখ্য গড়ে আর্থিক সুবিধা নেয় বলেও তদন্ত উঠে এসেছে। তাদেরও তালিকা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ডোপ টেস্টে যাদের পজিটিভ এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারলে বাকিদের জন্য সুস্পষ্ট বার্তা যাবে যে, আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না। পুলিশ সদস্যদের মধ্যে যারা মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন বা মাদক ব্যবসায়ীকে সহযোগিতা করছেন, সরাসরি তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কোনোরকম শিথিলতা দেখানো হচ্ছে না। ‌

তিনি জানান, সাধারণ মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে যেভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয় ঠিক সেভাবেই মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

0Shares

Comment here