জাতীয়রকমারিরাজনীতি

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ৪০তম জাতীয় সম্মেলন

আফজাল আহমেদ ।। “আলোকে চিনে নেয় আমার অবাধ্য সাহস” এই স্লোগানকে ধারণ করে আজ ১৯ নভেম্বর সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ছাত্রদের অধিকার আদায়ের লড়াই-সংগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ৪০তম জাতীয় সম্মেলন।

সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন আন্দোলনরত পাটকল ও চা শ্রমিকবৃন্দ।


মেহেদী হাসান নোবেল এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অনিক রায়ের সঞ্চালনায় সম্মেলনের উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, আন্দোলনরত পাটকল ও চা শ্রমিকবৃন্দ, সম্মেলন প্রস্তুতি পরিষদের চেয়ারম্যান দীপক শীল, আহবায়ক মনীষী রায়।

সমাবেশের পর একটি সুসজ্জিত র‌্যালী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে শাহবাগ হয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন ভবন প্রাঙ্গনে এসে শেষ হয়। ১৯ নভেম্বর বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন মিলনায়তনে বিকেল ৩টা থেকে শুরু হবে দু’দিনব্যাপী কাউন্সিল অধিবেশন। ৪০০ কাউন্সিলের উপস্থিতিতে সংগঠনের ৪০তম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে।

সম্মেলন সফল করতে সারাদেশের ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অংশগ্রহণ করেন। ১৬টি উপ-পরিষদের মাধ্যমে সম্মেলনের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেন। সম্মেলনকে সফল করতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল ও সাধারণ সম্পাদক অনিক রায়, প্রাক্তন, শুভানুধ্যায়ী, দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, ক্যাম্পাসের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবিসহ আপামর ছাত্র সমাজকে অংশ্রগ্রহণ করার আহ্বান জানান।

সম্মেলনে সংগঠনের নিম্নোক্ত দাবিসমূহ- অবিলম্বে ছাত্র ইউনিয়ন প্রস্তাবিত সার্বজনীন, গণমুখী, বিজ্ঞানভিত্তিক, একই ধারার, অসাম্প্রদায়িক শিক্ষানীতি প্রণয়ন করতে হবে। বাজেটে শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় আয়ের ৮ ভাগ বরাদ্দ দিতে হবে। সামরিকখাতসহ অনুৎপাদনশীল খাতে বরাদ্দ কমিয়ে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র সমাজের ১০ দফা বাস্তবায়ন করতে হবে। ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে আন্দোলন থেকে উত্থাপিত ৯ দফা বাস্তবায়ন করতে হবে। সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম ৫০% টিউশন ফি মওকুফ করতে হবে। সকল শিক্ষার্থীকে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এককালীন শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করতে হবে। করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীর বিনামূল্য চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে। স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বিশেষ প্রণোদনা ও চিকিৎসা ভাতা প্রদান করতে হবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে মুনাফালোভী শিক্ষাব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে। কৃষিভিত্তিক কারিগরী এবং ভোকেশনাল শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। অবিলম্বে ইউজিসি’র ২০ বছর মেয়াদী কৌশলপত্র বাতিল করতে হবে। প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে ছাত্র শিক্ষক অনুপাত কমাতে হবে। শিক্ষকদের প্রাইভেট পড়ানোর প্রবণতা বন্ধ করতে হবে ও তাদের বেতন ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে। গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে, গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে।

0Shares

Comment here