জাতীয়প্রযুক্তি

পুলিশের এএসপি আনিসুল করিম হত্যায় মাইন্ড এইডের নারী পরিচালক রিমান্ডে

এসকে জামান :পুলিশের এএসপি আনিসুল করিম শিপন হত্যা মামলায় গ্রেফতার মাইন্ড এইড হাসপাতালের নারী পরিচালক ফাতেমা তুজ যোহরা ময়নাকে ৪ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

রোববার (১৫ নভেম্বর) তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম বাকি বিল্লাহ ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


এর আগে গত ১২ নভেম্বর দুপুরে মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে ময়নাকে (৪৫) গ্রেফতার করা হয়। ময়না আদাবর মাইন্ড এইড হাসপাতালের মালিকপক্ষের একজন পরিচালক। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ১২ জন গ্রেফতার হলেন।

প্রসঙ্গত, হাসপাতাল থেকে সংগ্রহ করা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার দিন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আনিসুলকে টানাহেঁচড়া করে একটি কক্ষে ঢোকানো হয়। তাকে হাসপাতালের ছয়জন কর্মচারী মিলে মাটিতে ফেলে চেপে ধরেন। এর পর আরও দুজন কর্মচারী তার পা চেপে ধরেন।

এ সময় মাথার দিকে থাকা দুজন কর্মচারীকে হাতের কনুই দিয়ে তাকে আঘাত করতে দেখা যায়। হাসপাতালের ব্যবস্থাপক আরিফ মাহমুদ তখন পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। একটি নীল কাপড়ের টুকরা দিয়ে আনিসুলের হাত পেছনে বাঁধা হয়। কিছুক্ষণ পর আনিসুলকে উপুড় করা হয়। তার শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ায় একজন কর্মচারী তখন তার মুখে পানি ছিটান। পরে কর্মচারীরা কক্ষের মেঝে পানি দিয়ে পরিষ্কার করেন।

সাত মিনিট পর সাদা অ্যাপ্রোন পরা একজন নারী কক্ষে প্রবেশ করেন। ১১ মিনিটের মাথায় কক্ষের দরজা লাগিয়ে দেয়া হয়। ১৩ মিনিটের মাথায় তার বুকে পাম্প করেন সাদা অ্যাপ্রোন পরা নারী।

হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের খাতায় লেখা রয়েছে ‘ব্রট ডেড’ অর্থাৎ সেখানে নিয়ে আসার আগেই আনিসুলের মৃত্যু হয়েছিল।

এ ঘটনায় আদাবর থানায় হত্যা একটি মামলা করা হয়। মঙ্গলবার আনিসুল করিম শিপনের বাবা বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে এ মামলা করেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের ৩৩ ব্যাচের ছাত্র আনিসুল করিম ৩১তম বিসিএসে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান। এক সন্তানের জনক আনিসুলের বাড়ি গাজীপুরে। সর্বশেষ আনিসুল করিম বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন।

0Shares

Comment here