জাতীয়ধর্মকর্মরকমারিরাজনীতি

রাজধানী ঢাকায় এক ঘণ্টার মধ্যে পাঁচটি বাসে অগ্নিকাণ্ড

দিগন্তর ডেস্ক : রাজধানী ঢাকায় এক ঘণ্টার মধ্যে পাঁচটি বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টা থেকে আড়াইটার মধ্যে এ ঘটনাগুলো ঘটেছে।

মতিঝিল, প্রেসক্লাব সংলগ্ন সচিবালয় মোড়, বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ও শাহবাগ এলাকায় দুটি বাসে আগুন লাগে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার।

তিনি জানান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দুপুর দেড়টার দিকে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। এর কিছুক্ষণ পরই আবার খবর আসে শাহবাগে বাসে আগুন লেগেছে। খবর পেয়ে শাহবাগ আজিজ সুপার মার্কেটের সামনে ১টা ৩৮ মিনিটে একটি ইউনিট পাঠানো হয়। অন্যদিকে জাতীয় প্রেসক্লাব সংলগ্ন সচিবালয় মোড়ে আরেকটি বাসের আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। ২টা ১০ মিনিটে পাওয়া আগুনের খবরে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট পাঠানো হয় তিনি জানান।

রোজিনা আক্তার জানান, আওয়ামী লীগ পার্টি অফিসের সামনে ও শাহবাগে দুটি বাসে লাগা আগুন সম্পূর্ণ নেভানো গেছে। প্রেসক্লাবে লাগা বাসের আগুন নোভানোর চেষ্টা চলছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ, ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের ব্যাপারে প্রাথমিকভাবে এখনও কিছু জানা যায়নি।

এদিকে ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। উপনির্বাচনে আব্দুল্লাহপুর মালেকা বানু আদর্শ বিদ্যানিকেতন স্কুল ভোট কেন্দ্রের সামনে ১৭টি ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছেন।

বৃহস্পতিবার ককটেল বিস্ফোরণের এ ঘটনা ঘটে। এসময় ভোটারা আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করে। পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন কয়েকজন ভোটার।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ সকাল ৮টায় ভোট শুরুর পর সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে উত্তরার ৮ নম্বর সেক্টরের মালেকা বানু আদর্শ বিদ্যানিকেতন কেন্দ্রের সামনে অনেকগুলো ককটেল ছোড়া হয়। এর মধ্যে ১৭টি ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। এসময় আতঙ্কে ভোটারটা দিক-বিদিক ছুটতে শুরু করলে পড়ে গিয়ে কয়েকজন আহত হন। পরে অবিস্ফোরিত ককটেলগুলো পানিতে ভিজিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

ঘটনার পরপর মালেকা বানু আদর্শ বিদ্যানিকেতন স্কুল কেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবীব হাসান। তিনি বলেন, আমার প্রতিপক্ষ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভোটারদের ভয় দেখিয়ে ভোট দিতে বিরত রাখতে চান। কারণ তারা জানেন যে মানুষ নৌকায় ভোট দেবে, ধানের শীষে নয়।

ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে এ কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আলম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে সেখানে উপস্থিত আরেক পুলিশ কর্মকর্তা আলিম জানান, কারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন, তা এ মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়।

এদিকে ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে ভোটের পরিবেশ নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ হাবিব হাসান সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে বিএনপির প্রার্থী এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার এজেন্টদের ‘ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে’ বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

বিএনপি প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন সকাল পৌনে ১০টার দিকে উত্তরার ৮ নম্বর সেক্টরের মালেকা বানু হাই স্কুল কেন্দ্রে ভোট দেন। ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসতে ‘বাধা দেওয়া হচ্ছে’ বলেও অভিযোগ করেন ধানের শীষের এ প্রার্থী।

সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, আশপাশের সব ডিস্ট্রিক্ট থেকে লোক এসেছে; সাধারণ ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যেতে পারছে না। ভোটকেন্দ্রের একেবারে কাছাকাছি তারা ক্যাম্প করে রেখেছে, যেটা বেআইনি। তারা কোনোভাবেই চায় না জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করুক। তারা কোনোভাবেই চায় না ভোটাররা ভোট দিক।

এ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেছেন, সকাল থেকে ‘শান্তিপূর্ণ’ ভোট চলছে এবং কোথাও কোনো অভিযেগ তারা ‘পাননি’।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে উত্তরার আইইএস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে উপস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিব হাসান। তিনি বলেন, আমি বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতিও ভালো দেখেছি। সকাল থেকে অনেকগুলো কেন্দ্রে ঘুরেছি। গ্রামাঞ্চলে ভোটারের উপস্থিতি বেশি। শহরাঞ্চলে মানুষ এখনো আসেনি। শহরে সাধারণত ভোটাররা একটু দেরিতে আসেন।

ঢাকা-১৮ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৭৭ হাজার ১৮৮ জন। এ আসনে ছয় প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ হাবিব হাসান, বিএনপির এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, জাতীয় পার্টির নাসির উদ্দিন সরকার, গণফ্রন্টের কাজী মো. শহীদুল্লাহ, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ওমর ফারুক ও প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল (পিডিপি) মবিবুল্লাহ বাহার।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাহারা খাতুন গত ৯ জুলাই মারা যাওয়ায় ঢাকা-১৮ আসনটি শূন্য হয়। বিধি অনুযায়ী কোনো সংসদীয় আসন শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হয়। তবে দুর্যোগ বা কোনো অনিবার্য কারণে সেই সময়ে নির্বাচন আয়োজন না করতে পারলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মহামারি করোনার কারণে প্রথম ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব না হওয়ায় পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা পূরণে গত ২৮ সেপ্টেম্বর এই দুই আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

0Shares

Comment here