জাতীয়রকমারিরাজনীতিস্বাস্থ্যপাতা

দেওয়ানগঞ্জে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কেটে মাটি বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে জমির মালিকদের বিরুদ্ধে

এস এম হোসেন রানা, ইসলামপুর প্রতিনিধি: জামালপুর দেওয়ানগঞ্জে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের মাটি কেটে চাষের জন্য জমি তৈরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রসাশনের নীরব ভুমিকা নিয়ে স্থানীয় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।


বিগত ২০১৮ সালে দেওয়ানগঞ্জ পৌর মেয়র শাহ্ নেওয়াজ শাহানশাহ্ পৌরসভার অর্থায়নে ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ইসলামপুর দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সীমান্তে দেওয়ানগঞ্জ অংশে যমুনার বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্প ঘেষে প্রায় ৫০০ মিটার বাঁধ নির্মাণ করেন। গত শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দেওয়ানগঞ্জ ইসলামপুর সীমান্তে দেওয়ানগঞ্জ অংশে ডাকরাপাড়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের (২০০ গজ) মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চুকাইবাড়ি ইউনিয়নের টাকিমারি গ্রামের তাহাজলের ছেলে মাটি ব্যবসায়ি মোঃ নিশান মিয়া(৩২)।

এ বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, জমির মালিক আমার কাছে মাটি বিক্রি করেছেন তাই নিয়ে যাচ্ছি এখানে আমার কি অপরাধ।

নিশানের বক্তব্য অনুযায়ি বাঁধ সংলগ্ন জমির মালিক দেওয়ানগঞ্জ পৌরশহরের মন্ডল পাড়া গ্রামের মৃত হযরত আলীর ছেলে উজির আলীর (৬০) সাথে যোগাযোগ করা হলে-তিনি বলেন, এটাতো বাঁধ নয়। পৌর মেয়র শাহানশাহ্ ইসলামপুরের শশারিয়াবাড়ি খাঁ পাড়া থেকে দেওয়ানগঞ্জের ফুটানির বাজার পযর্ন্ত মাটি কেটে আমার জমির উপর দিয়ে একটি আইল বেঁধে দিয়েছিল। এখানে আমার ১০-১২শতাংশ জমি আইলের মধ্যে পড়েছে। আমি মেয়রের অনুমতি নিয়েই আইলের মাটি বিক্রি করে দিয়েছি।

এছাড়াও এ বাঁধের সংলগ্ন অন্যান্য জমির মালিকেরাও মাটি কেটে সমান করে চাষাবাদ করছে, তাদের কোন অপরাধ হয় না? আর আমার বেলায় তা অন্যায় হয়েছে! তিনি আরও বলেন, আমার মাটি আমি বিক্রি করবো তাতে আপনাদের কি?

সরেজমিনে গিয়ে আরো দেখা গেছে, অনেকেই বাঁধ কেটে চাষের জমি তৈরি করে ফসল ফলাচ্ছেন। এদিকে ভুলু মেম্বার নামে জনৈক ইউপি সদস্য বাঁধ কেটে অবৈধ বালুর মাঠ তৈরি করে বালুর সিন্ডিকেট পরিচালনা করছে বলে জানাগেছে। বাঁধের মাটি সমান করে একটি পাকা দুতলা রংমহল নির্মাণ করেছেন ওই বালু সম্রাট খ্যাত ভুলু মেম্বার। মূলত এখান থেকেই তিনি অবৈধ জমজমাট বালুর ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন ভুলু মেম্বার।

এ ব্যাপারে ভুলু মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান যমুনা নদীর দূরবর্তীতে চর জেগে উঠেছে সেখান থেকে নৌকা যোগে বালু এনে বিক্রি করি তাতে সমস্যার তো কিছু দেখছি না!
এভাবে বাঁধ কেটে সমতল ভূমি তৈরি করে চাষাবাদ করা হলেও স্থানীয় প্রশাসন যেন দেখেও না দেখার ভান করছে। প্রশাসনের এ নীরবতায় স্থানীয় জনমনে হতাশা বিরাজ করছে।

এব্যাপারে সহকারি কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামানের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এবিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। তবে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো। অপরদিকে দেওয়ানগঞ্জ পৌর মেয়র শাহনেওয়াজ শাহানশাহ্’র সাথে যোগাযোগ করা হলে-অনুমতি প্রদানের কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমি অনেক কষ্ট করে বাঁধ বেঁধে দিয়েছি- সেই বাঁধ কেটে সমান করার অনুমতি দেব? এটা কি বিশ্বাস যোগ্য কথা!

 

এস এম হোসেন রানা
ইসলামপুর, জামালপুর।

0Shares

Comment here