জাতীয়রকমারিরাজনীতিস্বাস্থ্যপাতা

রাতের আঁধারে পুকুরে বিষ প্রয়োগে ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষি খায়রুল

জেলা প্রতিনিধি বরগুনাঃ গত বছরের অক্টোবর থেকে ৭৫ শতাংশ জমিতে পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে সমন্বিত মৎস্য খামার গড়ে তোলেন খায়রুল। খামার করার পর থেকেই স্থানীয় লিটন, মিরাজ, নাসির ও তার ছেলে নাহিদ ও তাদের সহযোগী সুলতান খামারের জমি নিজেদের দাবি করে আসছেন।

‘মাছ মেরেছি, এরপর মারব মানুষ।

রাতের আঁধারে পুকুরে বিষ প্রয়োগে মাছ নিধনের পর সকালে এসে এভাবেই হুমকি দেন খামারের জমির মালিকানা দাবি করা এক ব্যক্তি। এ অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষি খায়রুল আলম মনিরের।

খায়রুল বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের বাইনচটকি ফেরিঘাট এলাকার বাসিন্দা।

তিনি বলেন, গত বছরের অক্টোবর থেকে ৭৫ শতাংশ জমিতে পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে সমন্বিত মৎস্য খামার গড়ে তোলেন খায়রুল। খামার করার পর থেকেই স্থানীয় লিটন, মিরাজ, নাসির ও তার ছেলে নাহিদ ও তাদের সহযোগী সুলতান খামারের জমি নিজেদের দাবি করে আসছেন।

এ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় উভয়পক্ষ আদালতে যায়। এ নিয়ে দেওয়ানি আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

সেপ্টেম্বর মাসে খামার পাহারার জন্য একটি ঘর তোলার কাজ শুরু করেন খায়রুল। ১৮ সেপ্টেম্বর প্রতিপক্ষ লিটনের নেতৃত্বে কয়েকজন এসে বাঁধা দেন ও শ্রমিকদের মারধর করেন বলে অভিযোগ খায়রুলের।

যোগাযোগ করা হলে লিটন জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি স্বীকার করেন। তাঁর ভাষ্য, ‘আমাদের ফাঁসাতে খায়রুল নিজেই পুকুরে বিষ ঢেলে মাছ মেরেছেন। এর আগেও তিনি আমাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দিয়েছেন। আসলে আমরা এমন কাজ করিনি।’

খায়রুলের স্ত্রী হাসিনা হাসি বলেন, “আমাদের মাছ মেরেছে ওরা, এরপর সকালে রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে আমাকে দেখে ‘মাছ মেরেছি এরপর মানুষ মারবো’ বলে হুমকি দিয়ে যায়। আমার স্বামী একজন উচ্চ শিক্ষিত ভদ্র্রলোক। তিনি এলাকার আইটি ফার্ম (তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান) ও কৃষি খামার গড়ে তোলা স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলেন। কিন্ত স্থানীয়দের এমন আচরণে আমরা হতাশ। আমি এর প্রতিকার চাই।

পাথরঘাটা থানার ওসি মো. শাহব উদ্দীন রোববার দুপুরে মুঠোফোনে গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, ‘বিষ প্রয়োগে মাছ মেরে ফেলার বিষয়টি শুনেছি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি অভিযোগ করলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

0Shares

Comment here