জাতীয়রাজনীতিস্বাস্থ্যপাতা

খুলনা সিটি মেডিকেল হাসপাতালে ভূল সার্জারিতে অর্ধশত সিজারিয়ান রোগীর জীবন সংকটপন্ন

 

আফজাল আহমেদ : খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভূল সার্জারিতে প্রায় অর্ধশত সিজারিয়ান রোগীর জীবন সংকটাপন্ন বলে খবর পাওয়া গেছে। একটি বিশ্বস্ত সুত্রে জানা যায় খুলনার বাসিন্দা আফিয়া হুমায়রা নামে জনৈক একজন রুগী গত ১৩ই মে প্রসবজনিত জটিলতা নিয়ে ভর্তি হন খুুুুলনা মহানগরীর সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার পেটের শিশু ও তার জীবনের ভয় দেখিয়ে ঐ সময় হুমায়রাকে সিজার করান। হাসপাতালে হুমায়রাকে ৭ দিন রেখে ১ লাখ ৪ হাজার টাকা বিল দিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন তার পরিবার। ঘটনা হয়তো এখানেই শেষ হতে পারতো কিন্তু না, বাড়িতে আসার পর শুরু হয় হুমায়রার ক্ষতস্থানে জ্বালাপেড়া। ইনফেকশন এর কারনে তার সারা শরীর অবস হয়ে পড়ে। এর ফলে শরীরে সৃষ্টি হয় মাসেল টিউমার (টিভি) এর।


এরপর নগরীর সন্ধানী ক্লিনিকে দীর্ঘ তিন মাসের বেশি সময় ধরে চিকিৎসা নেওয়ায় এখন কিছুটা সুস্থ বলে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন হুমায়রা।
তিনি বলেন শুধু আমি নই, আমার মতো এরকম আরো অনেক রোগীর জীবন বর্তমানে সংকটাপন্ন। তারা অনেকেই ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মৃত্যুর যন্ত্রণা নিয়ে কাতরাচ্ছে। শুধু তাই নয় হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা রিতিমতো ভয়াবহ। একজন সিজারিয়ান রুগীর বেডশীট ৫/৭ দিনেও পরিবর্তন হয়না বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এমনকি করোনাকালীন সময়ে ডাক্তার বা নার্স রোগীর রুমে বা ওয়ার্ড ভিজিটে আসলে তাদের মুখে মাস্ক বা স্যানিটাইজার ব্যাবহারে দেখা গেছে উদাসিনতা। রোগীরা তাদের ক্ষতিপুরনের দাবী জানিয়েছেন।


আমরা এবিষয়ে বেস কয়েকজন রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি চিকিৎসা সেবার নামে সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মৃত্যু পুরীর গল্প।
সেলিনা নামে একজন রুগী জানান তারও অপারেশন হয়েছিলো ঐ কসাইখানায়। গত ৭ই মে অপারেশনের পর হুমায়রার মতো একই অবস্থা তার। বর্তমানে তিনি ঢাকা উত্তরার একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। দীর্ঘ দিন ধরে ক্লিনিকে চিকিৎসা নেওয়ায় শারীরিক মানসিক ও অর্থনৈতিক ভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি। হেমা, তন্নি, জেবিন নামে আরো কয়েকজন রুগী আক্ষেপ করে জানান এমন হবে আগে জানলে ঐ কসাইখানায় যেতাম না। নরমাল কোন হাসপাতালে গিয়ে সিজার করাতাম।


এ বিষয়ে সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তার ফারজান ইয়াসনিন লুনা বলেন সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ বছরের মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত যতগুলো রোগীকে সিজার করা হয়েছে তার মেক্সিমাম রোগীর ইনফেকশন হয়েছে। এর জন্য আমরা দায়ী নই বলে তিনি দাবী করেন। তিনি বলেন এর জন্য দায়ী ওটি ব্যবস্থাপনা। আমরা এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে বার বার বলা সত্বেও তারা বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। যে কারনে পরবর্তীতে আমি ঐ হাসপাতালে সিজার করা ছেড়ে দিয়েছি। এখানে চিকিৎসকের কোন গাফিলতি নেই, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারনেই এমনটা হয়েছে বলে জানান কর্মরত ঐ ডাক্তার। তিনি বলেন আর এ কারনেই আমার রুগীরা সাফার হচ্ছে।
এতগুলো রোগীর জীবন সংকটপন্নের কি হেতু এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক ডাক্তার এম এ আলির সঙ্গে কথা হলে তিনি দায় স্বীকার করে জানান কিছু রুগীর ইনফেকশন হওয়ার খবর জেনেছি তবে এর জন্য আমরা দায়ী নই। নিয়োগকৃত ডাক্তাররাই বলতে পারবে কি কারনে এমনটি হয়েছে।


এ বিষয়ে খুলনা’র সিভিল সার্জন ডাঃ সুজাত আহমেদ দৈনিক দিগন্তর প্রতিনিধিকে জানান, অভিযোগটি আমি বিভিন্ন সূত্রে জানতে পেরেছি, দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন পূর্বক অভিযুক্ত হাসপাতাল কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে যথাযত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

0Shares

Comment here