অর্থনীতিজাতীয়রাজনীতিস্বাস্থ্যপাতা

দায়িত্ব পেলে ধর্ষণকে যাদুঘরে পাঠাবো, বিদিশা এরশাদ

আবুল বাশার  : দেশজুড়ে চলমান ধর্ষণ মহামারি নিয়ে এবার গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে মুখ খুলেছেন জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা এরশাদ। ধর্ষণ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি। কেবল তাই-ই নয়, আগামী ৩ মাসের আল্টিমেটামের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেছেন, “দায়িত্ব অর্পণ করুক, আমি বাংলাদেশ থেকে ধর্ষণ নামক শব্দটিকে জাদুঘরে পাঠিয়ে দিতে পারবো বলে আমার বিশ্বাস”।

সাবেক রাষ্ট্রপতির সাবেক এই স্ত্রী বলেন, ধর্ষণ প্রতিরোধে যদি প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মনে করেন আমার পরামর্শ নেবেন, তাহলে আমি অবশ্যই আমার পলিসি নিয়ে কথা বলবো। যেমন একটি পলেসি হলো, মেয়েদের সুরক্ষার জন্য প্রতিটি জেলার প্রত্যেকটি থানায় নারীদের স্পেশাল অভিযোগ বক্স স্থাপন করবো। ওই বক্সে বা সরাসরি নারীরা যে অভিযোগ করবেন, তা যেন কেবল পড়ে না থাকে, বরং সেইসব অভিযোগ ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত করে পুলিশ যেন ব্যবস্থা নেয়। বিশেষ করে ধর্ষণ, ইভটিজিং, শ্লীলতাহানিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। কেবল তদন্ত করে থেমে থাকা যাবে না, এর জন্য কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষণের মতো অপরাধের শাস্তি অবশ্যই জনসম্মুখে হতে হবে, যার ফলে মানুষ ভয় পাবে। এই ভয়ের কারণে যেন তারা এমন জঘন্য অপরাধে আর না জড়ায়। এমনটি করলেই এসব ঘটনা অনেক কমে আসবে। আমি দায়িত্ব পেলে এমনটিই করে দেখাতাম। এখানে তো কেবল একটি পলেসির কথা বললাম, আমার এমন অনেক পলেসি রয়েছে, যে কারণে আমি ৩ মাসের আল্টিমেটাম দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, অবশ্য এসব অপরাধ দমন কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়। পরিবার, বিশেষ করে মা-বাবা’রও দায়িত্ব রয়েছে তার সন্তানকে সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে সহায়তা করার। এছাড়াও আমাদের গণমাধ্যমগুলোতে সচেতনতামূলক প্রচারণাও থাকতে হবে। কেবল আমাদের দেশে নয়, প্রতিবেশী দেশ ইন্ডিয়াসহ পৃথিবীর সকল দেশেই ধর্ষণের ঘটনা আছে। পার্থক্য হলো, পৃথিবীর অন্য দেশগুলোতে ধর্ষণের বিচারের হার বেশি, কিন্তু আমাদের দেশে ধর্ষণের বিচারের হার খুবই কম।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দেশ পরিচালনার সময়ে ধর্ষণ ও দুর্নীতির পরিসংখ্যান খুবই কম ছিলো উল্লেখ করে বিদিশা এরশাদ বলেন, ওই সময়ে কেবল ধর্ষণ-দুর্নীতি নয়, অন্যান্য অপরাধও অনেক কম ছিলো। ওই সময়ে কোনো নারী ধর্ষিত বা নির্যাতিত হলে যথাযথ শাস্তি দেওয়া হতো।

এদিকে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) মধ্যরাত ১ টা ১০ মিনিটে ধর্ষণ সংক্রান্তে সরকারের সমালোচনা করে বিদিশা এরশাদ তার ফেসবুক পেইজে একটি স্ট্যাটস পোস্ট করেছেন। নিচে বিদিশা এরশাদের সেই ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

“ধর্ষণ নির্মূলে বিদিশার তিন মাসের আল্টিমেটাম।

রাষ্ট্র চাইলে সবই সম্ভব।

আমি হলফ করে বলতে পারি সরকার যদি আন্তরিক হয় তাহলে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ বাংলাদেশের বুক থেকে চিরতরে মুছে ফেলা সম্ভব। আসলে রাষ্ট্রযন্ত্র বিকল হয়ে গেছে,,,,পঁচে গেছে রাষ্ট্রের সকল সচল ইউনিটগুলো। কে কার কথা ভাবছেন,,,,,,? সবাই নিজের আখের গোছানো নিয়ে ব্যস্ত। কে কাকে ধর্ষণ করলো বা কে ধর্ষিত হলো তা জেনে লাভ কী ,,,,,,?

মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আপনাকে উদ্দেশ্য করে বলছি,,,, রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করার দায়িত্ব আপনার উপর ন্যস্ত, আপনি যদি তা পালন করতে ব্যর্থ হন তাহলে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানো উচিৎ, এভাবে আর কত তামাশা দেখবে জাতি,,,,, আপনাকে আগে মনে রাখতে হবে আপনি কোনো দলের দায়িত্ব পালন করার জন্য এ-ই আসনটিতে বসেননি, গোটা জাতির নিরাপত্তা আপনার হাতে,,,,, নিজের পরিবারে কথা, এদেশের নিরীহ মানুষের কথা চিন্তা করে আপনাকে কঠোর থেকে কঠোরতম পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিৎ, আর যদি আপনি অপারগতা প্রকাশ করেন তাহলে নিজ দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করুণ।

গণমাধ্যম কর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই,,,, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ ক্ষমতা বলে আমাকে মাত্র তিন মাসের প্রশাসনিক দায়িত্ব অর্পণ করুক,আমি বাংলাদেশ থেকে ধর্ষণ নামক শব্দটিকে জাদুঘরে পাঠিয়ে দিতে পারবো বলে আমার বিশ্বাস,,,,।

পরিশেষে বলতে চাই মানববন্ধন আর মিটিং মিছিল করে ধর্ষণ দমানো সম্ভব নয়, ধর্ষণ কমাতে হলে ধর্ষকদের সমূলে উৎপাটন করতে হবে।

0Shares

Comment here