অর্থনীতিজাতীয়প্রযুক্তিলাইফস্টাইলস্বাস্থ্যপাতা

জামালপুরে চতুর্থ ধাপে ফের বাড়ছে বানের পানির চাপ, কৃষকের মাথায় হাত

ইসলামপুর প্রতিনিধি || সাম্প্রতিক কালে উজানের ঢল ও অতি বৃষ্টির কারণে জামালপুরে ইসলামপুর যমুনা নদীতে চতুর্থ ধাপে আবারও বন্যার পানি বৃদ্ধি, পানির নিচে গেছে ১৪০ হেক্টর ফসলি জমি।

আজ (৩ অক্টেবর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বন্যার কারণে কৃষি ফসলের ক্ষতির পরিমাণ দাড়িয়েছে প্রায় ১৩০ হেক্টর আমন ধান, ০৫ হেক্টর সবজি ও ০৫ হেক্টর মাসকলাই জমির। অতিরিক্ত ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে এলাকার কৃষক। ক্ষতি পুষিয়ে উঠার কোনো রাস্তা খুঁজে পাচ্ছেনা ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকগণ।

চলমান দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা বন্যায় ইসলামপুর ৭টি ইউনিয়ন কুলকান্দি, বেলগাছা, চিনাডুলী, সাপধরী, নোয়ারপাড়া, পাথর্শী ও ইসলামপুর সদর সহ আমনের বীজতলা, পাট, সবজিসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়েছে। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আশার আলো বুকে নিয়ে পুনরায় চাষাবাদ শুরু করেলে চতুর্থ দফা বন্যায় আবারও প্লাবিত হয়ে কৃষকের আবাদী জমির রোপা আমন, মরিচের প্লট, মাসকলাই ক্ষেত, বেগুনের চারা ও বিভিন্ন শাকসবজি সহ অন্যান্য ফসলি জমি পানির নিচে পঁচে নষ্ট হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্থ চাষীগণ জানান- কয়েক দফায় ফসল নষ্ট হওয়ার পর পানি চলে যাওয়ায় নতুন করে ফসল লাগানোর পর ফসলের অবস্থা মোটামুটি ভালো হতে চলে ছিল কিন্তু চলতি বন্যায় সব ফসল নষ্ট হয়ে গেলো। ধান সহ যেসব ফসল লাগিয়েছি, এসব এখন বন্যার পানির নিচে। কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এবছর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে আমনের চাষাবাদ করা হয়। ধার দেনা করাসহ এলাকার বাইরে থেকে চারা সংগ্রহ করে আমন চাষ শুরু করেছিলেন অনেক কৃষক। সেই ফসল এখন পানিতে তলিয়েছে ।

সাম্প্রতিক বন্যার কবলে পড়া কৃষকের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সহায়তার আশ্বাস দেন স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা মোঃ এএসএম রেজুয়ান, তিনি জানান- ৩ দফা বন্যায় কৃষি ফসলের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছিল, তা পুষিয়ে ওঠার মত ফসল হয়েছিল, কিন্তু চতুর্থ দফা বন্যায় সে সব ফসল পানির নিচে নিমজ্জিত হয়েছে। কৃষকের রোপা আমন, মাসকালাই, মরিচ, আগাম কপি সহ শাকসবজি পানির নিচে নিমজ্জিত হয়েছে। কৃষকে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেয়ার জন্য কৃষি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আমরা সাধ্য অনুযায়ী সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করবো।

 

 

0Shares

Comment here