জাতীয়প্রযুক্তিরকমারি

কুমিল্লা দেবিদ্বারে ছোট ভাইকে বড় ভাই মেরে নিজ ঘরের মেঝেতে পুতে রাখার অভিযোগ

কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি : কুমিল্লা দেবিদ্বার ভিংলাবাড়ী গ্রামে আপন ছোট ভাইকে হত্যা করে বড় ভাইয়ের ঘরের মেঝেতে পুতে রাখার ১০ দিন পর ছোট ভাই সোহেল রানার নামে গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে দেবিদ্বার থানা পুলিশ । এঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে নিহতের ভাবি রোজিনা বেগমকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১২টায় ভিংলাবাড়ি এলাকার উচা ব্রিজের পাশে বড় ভাই ইব্রাহিমের ঘর থেকে ছোট ভাই সোহেল রানার গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।নিহত মোঃ সোহেল রানা (৩০) উপজেলার দক্ষিণ ভিংলাবাড়ি গ্রামের মৃত. আবুল কাশেমের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, গত ৩০ আগষ্ট উপজেলার দক্ষিণ ভিংলাবাড়ী গ্রামের মৃত. আবুল কাশেমের ছেলে ইব্রাহিম এবং সোহেল রানার মাঝে মারামারি হয়। ইব্রাহিম তার স্ত্রী রুজিনাকে নিয়ে সোহেলকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এতে ঘটনাস্থলেই সোহেল মারা যান। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ইব্রাহিম আপন ভাইয়ের মরদেহ বস্তাবন্দী করে তার নিজ ঘরের মেঝেতে পুতেঁ রাখেন। পরে বেশ কয়েকদিন যাবৎ সোহেলকে খুঁজে না পেয়ে তার ভাগিনা মাঈনউদ্দিন ইব্রাহিমের নিকট সোহেল কোথায় আছে জানতে চাইলে ঘাতক ইব্রাহিম জানান সোহেলকে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে দেওয়া হয়েছে। স্বজনরা কোন নিরাময় কেন্দ্রে তাকে দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে ইব্রাহিম তাদের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে নিজেই আত্মগোপন হয়ে যান। এসময় আশপাশের লোকজন ইব্রাহিমের স্ত্রী রোজিনা বেগমকে চাপ দিলে নিজ গৃহেই সোহেলের মরদেহ পুঁতে রাখা হয়েছে বলে জানান। পরে স্থানীয়রা থানা পুলিশকে খবর পাঠায়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে ঘটনাস্থলে  পৌঁছে ইব্রাহিমের ঘরের মেঝে থেকে সোহেলের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেন এবং ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইব্রাহিমের স্ত্রী রোজিনাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লা দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আনোয়ার জানায়, খবর পেয়ে পুলিশ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের গলিত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় ইব্রাহিমের স্ত্রী রুজিনাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত নিহতের বড় ভাই ইব্রাহিমকে ধরার জন্য গ্রেফতার অভিযান চলছে। পরবর্তীতে এবিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে তিনি জানান।
0Shares

Comment here