খেলার মাঠেজাতীয়

আমতলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনায় আমজনতার মানববন্ধন

এস এম আবুল হাসান,নিজস্ব প্রতিনিধি || বরগুনার আমতলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম সরোয়ার ফোরকানকে অনৈতিকভাবে ষড়যন্ত্রমুলক অনাস্থা প্রস্তাবের প্রতিবাদে আজ সোমবার কুকুয়া ইউনিয়ন বাসীর উদ্যেগে আমতলী-পটুুয়াখালীর মহাসড়কের মহিষকাটা বাজারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

জানাগেছে, গত বছর ৩১ মার্চ উপজেলা পরিষদ নিবার্চনে বরগুনা জেলা আওয়ামীলীগ সদস্য আলহাজ্ব গোলাম সরোয়ার ফোরকান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নিবার্চিত হন এবং ২৪ এপ্রিল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে শপথ নেন তিনি। শপথ নেয়ার পর থেকে গত এক বছর চার মাস তিনি সুষ্ঠুভাবে উপজেলা পরিষদ পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা অনৈতিক সুবিধা নিতে না পারায় তার উপর ক্ষুদ্ধ হন বলে মনে করেন উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার ফোরকান।
পরিষদের অন্যান্য প্রার্থীদের দাবি উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নেয়ার পর থেকে গোলাম সরোয়ার ফোরকান ঠিকমত পরিষদ পরিচালনা করছেন না এবং বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক সুবিধা নিয়ে আসছেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে আমতলী পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃমজিবুর রহমানসহ ৭ টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সহ মোট ১২ জন সদস্য মিলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম সরোয়ার ফোরকানের বিরুদ্ধে ১০ টি অনিয়মের অভিযোগ এনে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার বরাবর অনাস্থা প্রস্তাব দেন।
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দেয়ায় সাধারণ জনগন ক্ষুদ্ধ হয়ে এর প্রতিবাদে আজ সোমবার আমতলী-পটুয়াখালীর মহাসড়কের মহিষকাটা বাজারে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেন। ওই কর্মসূচীতে কুকুয়া ইউনিয়নের অন্তত পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশগ্রহন করেছেন।

স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ হাবিবুর রহমান হাওলাদারের সভাপতিত্বে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি সাবেক কাউন্সিলর মোঃমোয়াজ্জেম হোসেন খান, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি প্রভাষক জিএম ওসমানী হাসান, বরগুনা জেলা পরিষদ সদস্য মোঃনাসির উদ্দিন হাওলাদারসহ আরো অনেকে।

এব্যাপারে আমতলী উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ সমিতির সভাপতি ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মোতাহার উদ্দিন মৃধা বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যানের অনৈতিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আমরা অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছি। ওই অনাস্থা প্রস্তাব তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানাই। তিনি আরো বলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের জনসমর্থন থাকলে তিনি উপজেলা সদরেই মানববন্ধন করতে পারতেন। গুটি কয়েক লোক সমাগম করে গ্রামের বাজারে মানববন্ধন করতেন না।

এব্যাপারে আমতলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম সরোয়ার ফোরকান বলেন, পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানসহ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের অনৈতিক প্রস্তাব আমি মেনে নেইনি বিধায় আমার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছে। উপজেলা পরিষদ নিবার্চনে তারা আওয়ামীলীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে নিবার্চন করেছেন। আমি নিবার্চিত হওয়ার পর থেকেই তারা আমার বিরুদ্ধে একটার পর একটা ষড়যন্ত্র করে আসছেন। যারা আমার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন তাদের বিগত দিনের কর্মকান্ড তদন্ত করে দেখার দাবী জানাই।
0Shares

Comment here