জাতীয়রুপসী বাংলালাইফস্টাইল

বন্যায় ক্ষতবিক্ষত ইসলামপুর পৌরসভা সহ ১২টি ইউনিয়ন

এস এম হোসেন রানা ইসলামপুর প্রতিনিধি | এবার জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় বন্যায় ক্ষতবিক্ষত হয়েছে গোয়ালেরচর, গাইবান্ধা, চরগোয়ালিনী, কুলকান্দি, বেলগাছা, চিনাডুলী, নোয়ারপাড়া, ইসলামপুর সদর, পার্থশী, সাপধরী চর ও পুটিমারী সহ মোট ১২টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার বেশিরভাগ রাস্তাঘাট । এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষ। কোন কোন এলাকায় ভাঙ্গা রাস্তার উপর স্থানীয়ভাবে তৈরি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলছে যাতায়াত।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইসলামপুর বন্যার পানি কমার সাথে সাথেই জেগে উঠছে বিধ্বস্ত বাড়ি-ঘর ও রাস্তাঘাটের ধ্বংসাবশেষ। উপজেলার গোয়ালেরচর, সভারচর, বোলাকীপাড়া, গাইবান্ধা, চিনাডুলী, উলিয়া, মলমগঞ্জ- মোরাদাবাদ বাজার, জারুলতলা-কুলকান্দি, ইসলামপুর-গুঠাইল, নোয়ারপাড়া-মাহমুদপুর, ইসলামপুর-উলিয়া,শংকরপুর তিন রাস্তা-কাচিহারা বাজার, ইসলামপুর-ঝগড়ারচর বাজারসহ বেশীর ভাগ রাস্তা ভেঙ্গে বন্ধ হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। টানা দেড়মাস বন্যায় পানির তোড়ে রাস্তা লন্ডভন্ড হওয়ায় ইসলামপুর উপজেলার সদরের সাথে বেশিরভাগ ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যানবাহন চলাচল অচল হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে গোয়ালেরচর ইউপির চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ, বেলগাছা ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক, চিনাডুলি ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম বলেন,তাদের ইউনিয়নে এবারের বন্যায় অসংখ্য ঘরবাড়ি,রাস্তা ঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যেই পানি নামার সাথে সাথেই এসব রাস্তাঘাট-ঘরবাড়ি মেরামত করে তাদের দূর্ভোগ কমিয়ে আনতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শাহজাহান, আব্দুল খালেক বলেন, তাদের মতে এবারের বন্যায় অসংখ্য মানুষের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে তাদের কোন কাজ কর্ম নেই। অর্থও নেই তাই তারা কিভাবে বাড়িঘর মেরামত করবে। কোথায় গিয়ে আশ্রয় নিবে তারা, তাও জানেন না। এমতাবস্থায় সরকারের প্রতি তাদের দাবী, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের ঘরবাড়ি মেরামত করে বসবাসের উপযোগী করে বানভাসিদের দূর্ভোগ কমিয়ে আনার অনুরোধ জানিয়েছেন। ইসলামপুর উলিয়া বাজারের ব্যবসায়ী মোঃ রুহুল আমিন বলেন, উলিয়া বাজারে আসতে ৭-৮ জায়গায় বন্যায় রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ায় আমাদের চলাচলে বেঘাত ঘটছে।সোনামুখীর ফজলুল হক জানান, সোনামুখী, পচা্বহলা ও উলিয়া বাজারে যাওয়ার সময় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বন্যার পানিতে ভেঙ্গে গেছে। বন্যার পানির তোড়ে জন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বেশিরভাগ রাস্তাঘাট। ফলে অটোরিক্সা,ভ্যান, লেগুনা, ও যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল করতে পারতেছে না। তাই আয় রোজগার কম থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের । এমতাবস্থায় রাস্তা-ঘাট দ্রুত সময়ের মধ্যে মেরামতের দাবী জানিয়েছেন তারা।

নোয়ারপাড়া ইউনিয়নে একতা বাজার থেকে আগত আব্দুল আলিম বলেন, একতা বাজার থেকে ইসলামপুর উপজেলা সদরে যাতায়াত করা খুবই কঠিন। কখনও নৌকা,কখনও পায়ে হেঁটে আবার কখনও রিক্সায় চড়ে আসতে হয় ৪০ টাকার স্থলে ৮০ টাকা দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। হঠাৎ কেউ যদি অসুস্থ্য হয়ে পড়ে তাকে সুচিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসতে খুব কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আমিনুল হক বলেন,গোয়ালেরচর ইউনিয়েনে সভারচরের সংযোগ রাস্তার কালভার্ট পানির স্রোতে ভেঙে যাওয়ায় তাৎক্ষণিক সরজমিনে তদন্ত করেছি, পানি কমে গেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি জানান  বন্যার তীব্র স্রোতে উপজেলার বিভিন্ন পাকা রাস্তার প্রায় ৯০ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানি নেমে গেলে এসব রাস্তাগুলো সংস্কার করা হবে।

0Shares

Comment here