খেলার মাঠেজাতীয়প্রযুক্তিরকমারিস্বাস্থ্যপাতা

যশোরে দু’সপ্তাহে সিলগালা ২০টি অবৈধ বেসরকারি ক্লিনিক-প্যাথলজি

যশোরের প্রতিনিধিঃ যশোরের চৌগাছা উপজেলা শহরে ১১টি প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টার রয়েছে। যার মধ্যে একটি মালিকানা দ্বন্দ্বে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। বাকি ১০ ক্লিনিকের তিনটির কোনো অনুমোদন নেই। আর সাতটির রেজিস্ট্রেশন অনেকদিন ধরেই মেয়াদোত্তীর্ণ।

এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠানের মালিক সাবেক সিভিল সার্জন, উপজেলা আবাসিক মেডিকেল অফিসারের মতো বিশিষ্ট চিকিৎসকরা যেমন রয়েছেন, তেমনি আছেন ল্যাব টেকনিশিয়ান, গ্রাম্য হাতুড়ে ডাক্তাররাও। সাইনবোর্ড সর্বস্ব এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মনীতির কোনো বালাই নেই। হাতুড়ে টেকনিশিয়ান দিয়েই চালানো হয় রোগ নির্ণয়ের যাবতীয় পরীক্ষা। দেয়া হয় মনগড়া রিপোর্ট। অপারেশনের জন্য ভাড়া করে আনা হয় চিকিৎসক। নেই বিশেষজ্ঞ সেবিকাও। মানহীন এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসাসেবা নিয়ে প্রতিনিয়ত রোগীরা অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছেন।

শুধু চৌগাছা নয়, এমন চিত্র যশোর জেলাজুড়ে।
তবে আশার কথা, নামসর্বস্ব এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে যশোরের স্বাস্থ্য বিভাগ। ইতিমধ্যে যশোর সদর উপজেলা, চৌগাছা, শার্শা, মণিরামপুর ও বাঘারপাড়া উপজেলার ২০টি ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টার সিলগালা করে দেয়া হয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ বলছে, সাইনবোর্ড ঝুলিয়েই এখন থেকে আর চিকিৎসা বাণিজ্য করা যাবে না। নামসর্বস্ব এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এজন্য গত ২১ জুলাই জেলার বেসরকারি মালিকানাধীন সব প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরিচালিত না হওয়ায় ২০টির মতো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় বর্তমানে ২৬২টি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টার রয়েছে। যার মধ্যে মাত্র ৫১টির হালনাগাদ লাইসেন্স আছে। বাকি ২১১টির মধ্যে ১০৫টির লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। আর ১০৬টির কোনদিন লাইসেন্স ছিলই না। করোনাকালে সারাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠার পর জেলায় এসব অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মাঠে নেমেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

৫ আগস্ট যশোর শহরের ল্যাব এইড, নোভা ডায়াগনোস্টিক, জেনারেল হাসপাতালের সামনে অসীম ডায়াগনোস্টিক এন্ড ক্লিনিক, দেশ ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনোস্টিক, পপুলার মেডিকেল ও স্ক্যান হসপিটাল এন্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে প্যাথলজি কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়।

৬ আগস্ট অভিযান চালানো হয় চৌগাছার ৬টি প্রাইভেট ক্লিনিকে। যাদের মধ্যে কপোতাক্ষ ক্লিনিক, মায়ের দোয়া পাইভেট ক্লিনিক, বিশ্বাস ডায়াগনোস্টিক ও পল্লবী ক্লিনিককে পরবর্তী নির্দেশ দেয়া পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়।

গত ২৭ জুলাই যশোর শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের সততা ডায়াগনোস্টিক সেন্টার, আধুনিক হাসপাতাল, মণিরামপুরে মুন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের দুইটি শাখা, নিউ প্রগতি হাসপাতাল ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টার, নিউ লাইফ ডায়াগনোস্টিক সেন্টার সিলগালা করে দেয়া হয়।

এর আগের দিন ২৬ জুলাই বাঘারপাড়ার খাজুরার মাতৃভাষা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টার সিলগালা করা হয়। আর ২১ জুলাই সিলগালা করা হয় সদর উপজেলার বসুন্দিয়ার মহুয়া ক্লিনিক। ৩১ জুলাই অভিযান চালানো হয় শার্শা উপজেলায়। অভিযানে উপজেলার নাভারণের জহুরা ক্লিনিক ও পল্লবী ক্লিনিক সিলগালা করা হয়।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন বলেন, ‘জেলায় বেশিভাগ বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টার বর্তমানে অবৈধভাবে চলছে। অনেকেরই হালনাগাদ লাইসেন্স নেই। অনেকে আবার অনলাইনে আবেদন করেই চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে। অনুমোদনহীন এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসার নামে চলছে ব্যবসা। তাদের ফাঁদে পড়ে অনেক রোগীই অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছেন। এসব অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের ব্যাপারে আমরা কঠোর অবস্থান নিয়েছি।
ইতিমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

0Shares

Comment here