জাতীয়প্রযুক্তিস্বাস্থ্যপাতা

বরগুনার ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট হতে পারে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এরিয়া

নুরুল আমিন মল্লিক, বরগুনা জেলা প্রতিনিধি |উপরে নীল আকাশ, নিচে চারপাশে জলরাশি আর মাঝখানে প্রকৃতি সাজিয়েছে অপরূপে একটি দ্বীপ যার নাম ‘টুলুর চর’। সবুজে ঘেরা এ দ্বীপটির একদিকে রয়েছে ধু-ধু বালুচর, অন্যদিকে শীতল বালু। যেখানে প্রকৃতি এঁকে ধরে রাখে বিভিন্ন ধরনের ফুল। রয়েছে ঢেউয়ের গর্জন, পাখির কিচিরমিচির আর হরিণের ছোটাছুটি তো আছেই। কাঁকড়া, শামুকের অবাধ ছোটাছুটি আর বিভিন্ন পাখির কলকাকলি মুহূর্তেই মুগ্ধ করে দেয় যে কাউকে।

ধুলোময় আর ইট পাথরের শহরের বাতাসের বদলে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সমৃদ্ধির নিশ্বাস নেয়ার সুযোগ রয়েছে এই চরে। এখানেও শব্দ আসবে কানে, তবে তা দূষিত শব্দের মতো বিরক্তিকর নয়। সাগরের মায়াবী গর্জন, বিষখালি নদের পানি চিকচিক আলোও দেখা যাবে। হাজারো প্রজাতির বৃক্ষ সমৃদ্ধ চিরসবুজ বন ভূমিতে পাখিদের অবাধ বিচরণ মন আর চোখ দুটোকেই শীতল করে দেবে। চরের চারপাশ হেঁটে যেতে যেতে অনুভূত হবে এ যেন প্রকৃতির এক মায়াবী সান্নিধ্য।

এমন প্রকৃতি আর প্রশান্তির সন্ধান দেবে বরগুনায় পাথরঘাটার কাকচিড়া বাইনচটকীর এই চর। এখানে সামুদ্রিক কাঁকড়ার আলপনা অবাক ও বিমোহিত করবে। শিল্পী আলপনা আঁকেন কলা-কৌশলের মাধ্যমে। কিন্তু কাঁকড়া কোথা থেকে এ আলপনা শিখলো যার হিসাব মেলাতে পারবে না কেউ। যারা বন ভালোবাসেন, প্রকৃতিকে আপন করে নেন। যারা খুব অল্পতেই ক্লান্ত হওয়ার নন তাদের জন্যই টুলুর চর।

নাম আর বাস্তবে যেন পুরো মিল। যেখানে পাখিরা উড়ে এসে জুড়ে বসে এই চরে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে সাগরের মাঝে বড় কোনো সবুজ পাহাড়। সাদা বালুচরের লাল কাঁকড়ার গালিচা, দূরে সাদা গাংচিল, বকসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। বনের মধ্যে পায়ে হাঁটা পথে কিছু দূর গেলে পাখির কলোরব আর চোখের সামনে দৌঁড় দিয়ে যাবে মায়া হরিণের পাল। এছাড়া রয়েছে কাশফুল ও বিশাল আকৃতির সৈকত। বাইনচটকী,রুপধন সংলগ্ন বিষখালি নদের মাঝখানে লম্বাকার প্রায় ১৫০ একরে জেগে উঠেছে বিশাল এ চর।

এছাড়া এ চরে দেখা যাবে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকারের দৃশ্য। গোধূলি বেলায় যখন সূর্য সাগরের মাঝে ডুব দেয় তখন পশ্চিমের আকাশটা সোনালী আবাহ মেখে যায়। চরের পাশে জেলেরা জাল দিয়ে ইলিশসহ নানা প্রজাতির মাছ ধরেন।

কাকচিড়া ইউনিয়ান আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক সামসুল আলম সেন্টু এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাবেক সংসদ সদস্য (রবগুনা ২) মরহুম আলহাজ্ব গোলাম সবুর টুলু ২০১২ সালে এই চরে হরিন অবমুক্ত করেন এবং একই বছরেই এই চরে হরিন থাকার জন্য পুকুর কেটে তিনটি (৩) টিলা তৈরি করে দেন তিনি।

সংসদ সদস্য (রবগুনা ২) মরহুম আলহাজ্ব গোলাম সবুর টুলু এই চরটিতে হরিন অবমুক্ত করার পর থেকেই এই চরকে বরগুনার সাধারণ জনগন টুলুর চর বলেই চিনে।

তিনি আরো বলেন ২৬ জুলাই ২০১৩ সালে সংসদ সদস্য (রবগুনা-২) মরহুম আলহাজ্ব গোলাম সবুর টুলু সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুর পরে এই চরে আর কোন উন্নয়ন মূলক কার করা হয়নি। এই চরটি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার মতোএকটি জায়গা।

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে যুগে যুগে ভ্রমণকারীরা মুগ্ধ হয়েছেন। স্বাভাবিকভাবে এ সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাংলাদেশে পর্যটন শিল্প উন্নয়নের সম্ভাবনা অপরিসীম। নতুন করে কৌশল ঠিক করে সম্ভাবনার সবটুকুকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পর্যটনে মডেল হতে পারে। তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশ স্বল্প আয়তনের দেশ হলেও বিদ্যমান পর্যটক আকর্ষণে যে বৈচিত্র্য তা সহজেই পর্যটকদের আকর্ষণ করতে পারে। পৃথিবীতে পর্যটন শিল্প আজ বৃহত্তম শিল্প হিসেবে স্বীকৃত। পর্যটন শিল্পের বিকাশের ওপর বাংলাদেশের অনেকখানি সামগ্রিক উন্নয়ন নির্ভর করছে। দেশে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটলে কর্মসংস্থান ঘটবে ও বেকারত্ব দূরীকরণের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন সফল হবে। ভিন্ন ভিন্ন দেশের প্রাচীন যুগের ইতিহাস ও শিল্প, সাহিত্য, কালচার ও প্রথার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ঐতিহাসিক স্থান দেখার জন্যও পর্যটকরা নিজ দেশের সীমানা পেরিয়ে দূর-দূরান্তে ছুটে চলে প্রতিনিয়ত। পর্যটন হলো একটি বহুমাত্রিক শ্রমঘন শিল্প। এ শিল্পের বহুমাত্রিকতার কারণে বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্ভাবনা তৈরি হয়। ফলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি অনুদান ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় সাধন করার পাশাপাশি উন্নত অবকাঠামো, সঠিক পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীল অবস্থা দরকার পর্যটনের জন্য। পর্যটন শিল্পের উপাদান ও ক্ষেত্রগুলো দেশে ও বিদেশে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে পর্যটন শিল্পের অধিকতর বিকাশ ঘটানো সম্ভব।

সামসুল আলম সেন্টু আরো বলেন, এই চরটাকে পর্যটন কেন্দ্র করার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সওকত হাচানুর রহমান রিমন ও সংরক্ষিত আসন ৩১৫ এর সংসদ সদস্য মোসাঃ নাদিরা সুলতানা টুলুর সুদৃষ্টি ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করে এই উপকূলীয় এলাকা কাকচিড়া ও কালমেঘার জনসাধারন।

ইতোমধ্যে ‘হীয়া ফাউন্ডেশন’ এর চেয়ারম্যান মোঃ জহিরুল ইসলাস রাছেল জেলা প্রশাসক এর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তার নিকট চিঠি প্রধান করেন।

0Shares

Comment here