খেলার মাঠেজাতীয়রকমারিস্বাস্থ্যপাতা

তিন মাসেই চার্জশীট, ১৬ বছরেও শেষ হয়নি হত্যা মামলার বিচার

বরগুনা প্রতিনিধিঃ বরগুনা সদর উজেলার বদরখালী ইউনিয়নের কুমড়াখালী গ্রামের মোতালেব খান হত্যা মামলার ১৬ বছর অতিবাহিত হলেও বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়নি। বাদির অভিযোগ, উল্টো জামিনে এসে নিহতের স্বজন ও সাক্ষিদের মিথ্যে মামলায় হয়রাণি করছে আসামীরা।

মামলার এজাহারে বর্ণিত বাদির অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে ২৬ মে জমা-জমি বিরোধে মোতালেব খানকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর নিহতের ভাই নেছার উদ্দীন পোনা বাদি হয়ে আবেদ খান, এনায়েত খান, শিউলী বেগম, মাসুদ খান, সবুজ খান, হায়দার টিপু, দেলোয়ার খান, জরিনা ও মাসুমা ও পারুলসহ ১০জনের বিরুদ্ধে বরগুনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আসামীদের গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠায় পুলিশ।

মামলার তদন্ত করেন বরগুনা থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক শাহ নেওয়াজ উদ্দিন। তিন মাসের মাথায় তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। কিন্ত দির্ঘ ১৬ বছর ধরে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটির বিচারাধীন রয়েছে। এজাহারে উল্লেখিত সাক্ষিদের সাক্ষ্য গ্রহন শেষ হলেও এখনও পর্যন্ত তদন্ত কর্মকর্তা ও ময়না তদন্তকারী চিকিৎসকের সাক্ষ্য গ্রহন সম্পন্ন হয়নি। এদিকে আসামীরা উচ্চাদালত থেকে জামিনে বের হয়ে উল্টো নিহতের স্বজন ও সাক্ষিদের হয়রাণি করছে বলে নিহতের পরিবারের দাবি।

নিহতের স্ত্রী দুলু বেগম বলেন,
পুলিশ আসামীদের গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করলেও কিছুদিন পরই তারা জামিনে বের হয়। এরপর তারা একের পর সাক্ষিদের বিরুদ্বে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছে। তিনি বলেন, মামলার দির্ঘসূত্রিতার সুযোগে আসামী শিউলী বেগম আইনজীবী হয়েছেন। এছাড়াও অপর আসামী আবেদ খান আইনজীবী সহকারি। এ দু’জন ক্ষমতা ও অর্থের দাপটে সাক্ষিদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রাণি করে আসছেন। নানাভাবে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমকে বাঁধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে আসছে। আমি ১৬ বছর ধরে স্বামী হত্যার বিচারের জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনছি। কিন্ত বিচার তো দূরে থাক, আমরা উল্টো হয়রাণির শিকার। আমি আমার স্বামী হত্যায় দোষীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রার্থনা করি।

মামলায় রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী (পিপি) আক্তারুজ্জামান বাহাদুর বলেন, নানা জটিলতায় মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমে দির্ঘসূত্রিতা হলেও এখন শেষ পর্যায়ে। দ্রুত তদন্ত কর্মকর্তা ও চিকিৎসকের সাক্ষি গ্রহন দ্রুত শেষ করে এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ করার প্রচেষ্টা করছি আমরা।

এদিকে মোতালেব খান হত্যা মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন ও মামলার স্বাক্ষীদের নিরাপত্তার দাবিতে রবিবার দুপুরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসি। মানববন্ধনে নিহত মোতালেব খানের স্ত্রী দুলু বেগম, ভাই সাহাবুদ্দিন, ইউ,পি সদস্য মিরাজ খান, সাক্ষি রিপন খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

0Shares

Comment here