জাতীয়রকমারিস্বাস্থ্যপাতা

কোরবানির হাটে ‘ক্রেতা নেই’, লোকসানের ‌শঙ্কায় বেপারিরা

 

আপেল মাহমুদ | করোনা সংকটে বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের শঙ্কায় ব্যাপারিরা। খামার ও হাটগুলোতে ক্রেতা সমাগম না হওয়ায় দুশ্চিন্তা পিছু ছাড়ছে না তাদের। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, করোনা সংক্রমণ রোধে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে পশুর হাট না বসাতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে অনুরোধ করা হয়েছে।

এদিকে, এখনো রাজধানীতে পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি সিটি করপোরেশেন। তাই রাজধানীর সবচেয়ে বড় পশুর হাট গাবতলিতে স্থায়ীভাবেই গরু বেচাকেনা হচ্ছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে গাবতলি পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, বিক্রেতারা গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া বিক্রি করছেন। কোরবানি উপলক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাপারি পশু এই হাটে নিয়ে আসেনি।

কথা হয় গাবতলি পশুর হাটের ইজারাদার মো. লুতফর রহমানের সঙ্গে। তিনি দিগন্তরকে  বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে এবার পশুর হাট বসবে কিনা সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত পাইনি। শুনেছি আগামী সপ্তাহে সিটি করপোরেন একটি বৈঠক করবে। বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হবে এবার পশুর হাট বসবে কিনা।


তিনি বলেন, ইজারাদারের পক্ষ থেকে হাট বসানোর জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতি বছর রাজধানীর সবচেয়ে বড় পশুর হাট বসে গাবতলিতে। আমরা অনেক ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে থাকি। কিন্তু এবার করোনার কারণে ক্রেতা কম হওয়ার আশঙ্কা করছি। গরুর ব্যাপারিরাও আশঙ্কায় রয়েছেন।

কথা হয় গাবতলি স্থায়ী পশুর হাটে নিয়মিত গরু বিক্রেতা কুষ্টিয়া থেকে আসা মোহাম্মদ লিটন হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, গাবতলিতে নিয়মিত গরু, ছাগল বিক্রি করে থাকি। করোনার কারণে গত কয়েক মাস ধরে ক্রেতা খুব কম। সামনে কোরবানি। স্বাভাবিক সময়ে আমরা কোরবানির আগে গরু আনার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে থাকি। কিন্তু এবার হাট বসবে কিনা—এটা এখনও নিশ্চিত না।

তিনি বলেন, করোনার কারণে ক্রেতা যেমন কম, ঠিক তেমনি পশুর দামও অনেক কম। ক্রেতারা দামই বলছে না। এক লাখ টাকার গরুর দাম বলছে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। আবার ৫০ হাজার টাকার গরুর দাম বলে ৪০ হাজার টাকা। এমন হলে এবার অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।

গরু ব্যাপারী মোহাম্মদ মোসলেম বলেন, এবার কোরবানির সময়ে চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি পশু বিক্রির জন্য প্রস্তুত আছে। কিন্তু এরপরও আমরা চিন্তায় আছি, কারণ করোনার কারণে সবকিছু বিপর্যস্ত। মানুষের পকেটে টাকা নেই। অনেকে ঠিকভাবে বেতন পাচ্ছেন না। অনেকে কোরবানি দিতে পারবে না।

এর আগে গত বুধবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব শামীমা নাসরীন স্বাক্ষরিত চিঠিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদকে হাটে না গিয়ে অনলাইনে পশু কেনাবেচার পরামর্শ দিয়ে দেশের অন্য জেলার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের পক্ষ থেকে বিধি-নিষেধ দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, ঈদুল আজহা সামনে রেখে পশুর হাট স্থাপন করার ক্ষেত্রে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি সুপারিশ করেছে। সংক্রমণের হার বেশি থাকায় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে যেন পশুর হাট স্থাপন করা না হয়। এক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পশু কেনাবেচার পরামর্শ দেওয়া হয়। অন্য জেলার জন্য পরামর্শ হলো-কোরবানির পশুর হাট শহরের ভেতরে স্থাপন না করা।

একইদিন অন্য এক চিঠিতে করোনাভাইরাস বিস্তার রোধে ঈদুল আজহার ছুটিতে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রাম থেকে অন্যান্য জেলায় যাতায়াত বন্ধ রাখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ।

0Shares

Comment here