জাতীয়রকমারিলাইফস্টাইলস্বাস্থ্যপাতা

শ্রীমঙ্গলে অবৈধ ভাবে বালু উত্তলন, বাধা দিলে গ্রামবাসীদের প্রান নাশের হুমকি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক | মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ফসলি জমি থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে আশপাশের ফসলি জমি ও সড়ক ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া কাছাকাছি থাকা কয়েকটি বসতবাড়িও হুমকির মধ্যে রয়েছে বলে জানাগেছে।

প্রাপ্ততথ্যে জানাযায়, শ্রীমঙ্গল উপজেলায় একটি সাধারণ বালু ও ২৮টি সিলিকা বালুসহ মোট ২৯টি বালুর মহাল রয়েছে। এরমধ্যে বড়ছড়া, ঝলমছড়া, ভুরভুরিয়া ছড়া, জৈনকাছড়া, খাইছড়া, শাওনছড়া, নুলুয়াছড়া, পুটিয়াছড়া, হুগলিছড়া, গান্ধিছড়া ও আমরাইলছড়াসহ ৭-৮ বছরের বেশি সময় ধরে শ্রীমঙ্গলে বালু উত্তোলনে ইজারা বন্দোবস্ত নেই।

অথচ উপজেলাজুড়ে পাহাড়ি ছড়া, ছোট নদী ও ফসলি জমি থেকে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন।

উচ্চ আদালতে পরিবশেবাদী সংগঠন বেলা মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট করেন। যার ফলে শ্রীমঙ্গলে বালু মহালের ইজারা বন্দোবস্ত বন্ধ রয়েছে। কিন্তু, ইজারা বন্দোবস্ত না থাকলেও বালু উত্তোলন থেমে নেই। এতে গত ৭-৮ বছরে সরকার এই খাত থেকে রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে।

(১৩জুলাই) সোমবার উপজেলার ভূনবীর ইউপির জৈতা ছড়ার দুপাশ ঘেঁষে শাসন, ইসলামপাড়া ও ইছামতি গ্রাম এলাকায় সরেজমিন ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

ইসলামপাড়া এলাকার খালিক মিয়ার ছেলে রকিব মিয়া ও আবজল মিয়ার ছেলে সুমন মিয়ার অভিযোগ, ‘বালু উত্তোলনের ফলে রাস্তাঘাটের ক্ষয়ক্ষতি ও কৃষি জমি ধ্বংস হচ্ছে। বার বার অভিযোগ করা হলেও প্রশাসন থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এসব বালু মহাল থেকে বালু ব্যাবসায়িরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে দীর্ঘদিন ধরে কোটি কোটি টাকার বালু বিক্রি করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে।’

শ্রীমঙ্গল এর নানা ছড়া, নদীতে দেখা যাচ্ছে দিন রাত বালু উত্তলনের কাজ চলছে। শ্রীমঙ্গল উপজেলার ১নং মির্জাপুর ইউনিয়নের ছাত্রাবট ও কামাসিদ গ্রামের পূর্ব পাশে গোপলা নদীতে সরকার নিয়ন্ত্রণ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ফসলি জমিন রক্ষায় বাধ নির্মাণ করে দিয়েছেন।কিন্তু কিছু কুচক্র মহল বালু দস্যুর নজর পরেছে গোপলা নদীর বালু উত্তলেনে।

স্থানীয় জামিল মিয়া ও ছানু মিয়া জানন,জুয়েল মিয়া(২৮) পিতা: মনু মিয়া, সাংঃ দক্ষিণ পাঁচাউন,ডাকঃ মির্জাপুর, উপজেলা শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার, নামের এক ব্যাক্তি ও তার বাহিনী  মিলে বালু উত্তলনের জন্য  মেশিন বসায়।

গ্রামবাসীরা আপত্তি দিলে তারা বলে আমরা পার্মিশন নিয়ে বালু উত্তলন করছি।কেউ বাধা দিলে গাড়ীর চাকার সাথে বাইন্ধা নিয়া যাবো। তাদের কাছে অনুমোদনের কাগজ দেখতে চাইলে তারা কোন কাগজ দেখাতে পারেনি।

এলাকাবাসীর দাবী, এখনি যদি এই বালু উত্তলন বন্ধ না হয় তাহলে এলাকার কৃষকের শতশত একর ফসলের জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাবে।ছাত্রাবট ও কামাসিদ গ্রামের মানুষ রাস্তায় এসে দাড়াবে।

গ্রামবাসীরা এ বালু উত্তলনের কাজ বন্ধের দাবীতে মৌলভীবাজার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক তদন্ত করে ব্যাবস্হা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

গ্রামবাসীর দাবীর মুখে গত সপ্তাহে শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী ভূমি অফিসার ও শ্রীমঙ্গল প্রশাসন সরেজমিনে গিয়ে সততা পেয়ে উক্ত বালু উত্তলনের কাজ বন্ধ করে দিয়ে আাসেন।

এদিকে এলাকা বাসীরা অভিযোগ করে বলেন তারা আবার বালু উত্তলনের কাজ শুরু করবে বলে তাদের কাছে খবর আছে। এ বিষয়ে প্রশাসনকে নজর রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নজরুল ইসলাম বলেন ‘শিঘ্রই এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি, নিয়মিত ধরছি ও জরিমানাও হচ্ছে। আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

0Shares

Comment here