প্রযুক্তিলাইফস্টাইলস্বাস্থ্যপাতা

বরগুনায় নিষিদ্ধ মাছ বিক্রি হচ্ছে দেদারসে, নেই কোনো বাধা কিংবা তদারকি

এস এম আবুল হাসান নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
করোনা ভাইরাসের এই দুর্যোগের সময় বরগুনা জেলার প্রধান বাজারসম্মুহসহ গ্রামাঞ্চলের হাট বাজার গুলোতে রূপচাঁদা মাছ নামে বিক্রি করা হচ্ছে নিষিদ্ধ ভয়ানক ও রাক্ষুসে পিরানহা। দাম কম বলে সাধারণত নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ এই মাছ কিনে খাচ্ছেন। অথচ এ মাছটির ক্ষতিকর দিক বিবেচনা করে সরকারিভাবে (পিরানহা মাছ) চাষ, ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নিষিদ্ধ এ মাছটি যাতে কেউ চাষবাদ কিংবা বিক্রয় করতে না পারে তা তদারকির দায়িত্ব রয়েছে মৎস্য বিভাগের। কিন্তু বরগুনা জেলা মৎস্য অফিস এ ব্যাপারে নির্বিকার থাকায় ব্যাপকহারে বিক্রি হচ্ছে পিরানহা।
বেশ কয়েকটি জায়গায় ঘুরে দেখা যায়, আমতলী উপজেলার চুনাখালী বাজার, বাদুরা বাজার, গাজীপুর বাজার, গুলশাখালী বাজার, কলাগাছিয়া বাজারসহ বিভিন্ন বাজার  ও রাস্তায় বসে এই মাছ বিক্রি করতে দেখা গেছে। শুধু পিরানহা নয়, বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ আফ্রিকান মাগুরও। বাজারে দিনমজুর ফয়সাল এসেছিলেন মাছ কিনতে। মাছের কেজি কত জানতে চাইলে বিক্রেতা তাকে বলেন, একদম তাজা সামুদ্রিক চান্দা ১৬০ টাকা কেজি। দরদাম করে হামিদ ১৫০ টাকায় কেজি কিনলেন।এবং  অনেকেই জানেনা তারা কি মাছ কিনছে।
এবিষয়ে মাছ বিক্রেতা মোঃজাকির হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ক্রেতাদের কাছে মিথ্যা কথা বলেছি। রূপচাঁদা বলে পিরানহা বিক্রি করছিলাম। তিনি আরো বলেন, আমতলী পটুয়াখালী বাধঘাটেও প্রশাসনের সামনেই বিক্রি করা হয় এ মাছ। কেউ এব্যপারে তাকে নিষিদ্ধ করেনি।
এক ব্যবসায়ী জানান, মৎস্য অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করেই পিরানহা মাছ রূপচাঁদা হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। তাছাড়া উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে তদারকি না থাকায় মাছ ব্যবসায়ীদের মধ্যে এ নিয়ে কোনও সচেতনতা নেই। কর্তৃপক্ষ কোনও তথ্যই জানায় না।
অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, মৎস্য অফিসের লোকজন কোনও অনুষ্ঠানেই আমাদের ডাকেন না। মাঠ পর্যায়ে তাদের কোনও কর্মকাণ্ডই আমরা দেখি না। মাঝে মাঝে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হলেও তা অফিস পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে। মাছচাষী, ব্যবসায়ী বা সাধারণ জনগণ কেউ জানেন না। যত রকম প্রচার প্রচারণা ও অনুষ্ঠান হয় তা শুধুমাত্র উপজেলা চত্বরে হয়ে থাকে। তাছাড়া এ মাছগুলো নিষিদ্ধ হলে তা আমদানি হচ্ছে কীভাবে এমন প্রশ্নও করেন মাছ বিক্রেতারা ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মৎস্য অফিসের তদারকি না থাকায়  দিন দিন নিষিদ্ধ এ মাছের বিক্রি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে সাধারণ জনগণ রূপচাঁদা মাছ মনে করে নিষিদ্ধ ও বিষাক্ত মাছটি অবলীলায় কিনে খাচ্ছেন। এর ফলে তারা অজান্তেই চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন।
আমতলী মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, আমতলীতে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৭ টি বাজার রয়েছে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে পিরানহা ও আফ্রিকান মাগুর যাতে বাজারে বা কোনো এলাকায় বিক্রি করতে না পারে তারা সেই চেষ্টা করছেন। প্রতিদিন সম্ভব না হলেও মাঝে মাঝে তারা অভিযান পরিচালনা করেন।
উল্লেখ্য ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে পিরানহা এবং ২০১৪ সালের জুন থেকে আফ্রিকান মাগুরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় পিরানহা ও আফ্রিকান মাগুর মাছ রাক্ষুসে স্বভাবের। অন্য মাছ ও জলজ প্রাণীদের খেয়ে ফেলে। দেশীয় প্রজাতির মাছ তথা জীববৈচিত্র্যের জন্য এগুলো হুমকিস্বরূপ। এ কারণে সরকার ও মৎস্য অধিদপ্তর আফ্রিকান মাগুর ও পিরানহা মাছের পোনা উৎপাদন, চাষ, উৎপাদন, বংশ বৃদ্ধিকরণ, বাজারে ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করে দিয়েছে।
0Shares

Comment here