খেলার মাঠেজাতীয়লাইফস্টাইল

আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা পাচ্ছেনা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা পীযূষ কান্তি দে

সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম হাসান | আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সিলেট জেলা সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা পীযূষ কান্তি দের।

সিলেট নগরীর মির্জাজাঙ্গাল এলাকায় গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর রাতে অভিযান চালিয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি পিযুষ কান্তি দে (৪০) সহ চারজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৯,পরে ১২ সেপ্টেম্বর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ  করা হয়। দীর্ঘ ১০ মাস যাবত কারাগারে রয়েছেন পীযূষ কান্তি দে। রাজনৈতিক সহকর্মী ও পরিবারের অভিযোগে সাজানো ও মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর পীযূষ কান্তি দের শারীরিক ও মানষিক ভাবে বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েন, তখন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা প্রদান করেন জেল কতৃপক্ষ। এতে শারীরিক কিছুটা উন্নতি হলে উনাকে সিলেট ওসমানি মেডিকেলে প্রেরন করেন ঢাকা মেডিকেল এর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগন।  এর পর কিছু দিন সিলেটের ওসমানী মেডিকেলে চিকিৎসা চলা অবস্থায় মহামারী করোনার কারণ দেখিয়ে চিকিৎসা বঞ্চিত করে তাকে পূনরায় সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে আসে কারাগার কর্তৃপক্ষ।

পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায় ডায়াবেটিস, ফেটি লিভার সহ মেরুদণ্ডের বড়ো ধরনের আঘাত রয়েছে পীযূষ কান্তি দের, উনার সোজা হয়ে দাঁড়ানো কষ্ট সাধ্য হয়ে পরেছে।

ঢাকা মেডিকেল এর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গণ উনাকে দীর্ঘ দিন বেড রেস্ট ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দেন, যার মেডিকেল রিপোর্ট সিলেট আদালত ও জেল কতৃপক্ষ এর নিকট জমা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তার পরিবার। এমতাবস্থায় উনাকে চিকিৎসা বঞ্চিত করায় পরিবারবর্গ অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল মেজিস্টেট আদালতের দ্বারস্থ হন।

তখন বিজ্ঞ আদালতে পীযুষ কান্তি দের নিযুক্ত আইনজীবী এ.পি.পি.এডঃ প্রবাল চৌধুরী পূজন চিকিৎসা সংক্রান্ত আবেদন করিলে, আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপারকে কারাবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনিয় চিকিৎসা প্রদানের লিখিত নির্দেশ প্রদান করেন। পরিবারের ও আইনজীবীর অভিযোগ আদালতের এমন আদেশের পরেও উনাকে কোনো চিকিৎসা প্রদান বা মেডিকেলে প্রেরন করা হয়নি যা অমানবিক।

এদিকে পরিবার ও আইনজীবীদের অভিযোগ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিতকরে পরিকল্পিতভাবে তাকে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করে তিলেতিলে শেষ করার কি হেতু তা বোধগম্য নয়।

এ ব্যাপারে মানবাধিকার সংগঠন ও সাংবাদিক সহ সমাজের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করে তার পরিবারের সদস্যরা বলেন জরুরি ভিত্তিতে পীযুষ কান্তিদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা চিকিৎসা প্রদান না করা হলে  তারা সংবাদ সম্মেলন সহ উচ্চ আদালতে বিচার পেতে দ্বারস্থ হবেন।

0Shares

Comment here