খেলার মাঠেজাতীয়ধর্মকর্মরাজনীতি

বাংলাদেশ পুলিশের জন্য ভালবাসাটুকু লেগে থাকুক আগামী দিনগুলোতেও।

বিপুল কুমার বিশ্বাস: পুলিশকে মানুষ বলাই মানুষ ভুলে গিয়েছিল।সাধারন মানুষ তিরস্কার করে পুলিশ একটা আলাদা গোত্র বা জাতি হিসেবে অবহিত করত। ওরা মানুষ নয় পুলিশ। পুলিশ মানেই অত্যাচারী,পুলিশ মানেই গরিবের দুশমন।

কিন্তু আজ দেশের এই ক্রান্তিময় সময়ে করোনা প্রাদুর্ভাব কালিন সকল প্রশংসিত আমাদের এই বাংলাদেশ পুলিশ। তাদের সদাচরণ, মহানুভবতা যা সত্যিই আজ প্রশংসনীয়। পুরনো ধারনাকেই পাল্টে দিয়েছে এই সময়কার পরিস্থিতিতে পুলিশের কার্যধারা।।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে চলছে সাধারণ ছুটি। কিন্তু ছুটি নেই পুলিশের । দিন রাত কাজ করছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে। শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নয়। কাজ করছে সব শ্রেনীর মানুষের জন্য। সব রকম কাজ।

সাধারণ মানুষের যাতে কষ্ট না হয় সে জন্য ঘরে ঘরে খাবার পৌছে দিচ্ছেন। আমেনা বেগমের বাসায় গিয়ে গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) শামসুন্নাহার খাদ্যসামগ্রী দিয়ে এসেছিলেন।
বৃদ্ধা মহিলাতো বাড়িতে পুলিশ সুপারের আকস্মিক আগমনে অবাক হন অনেকে। হঠাৎ খাবার নিয়ে বাড়িতে এসপি আসায় তার মন ভরে গেছে।

তিনি মন ভরে এসপি ও পুলিশের জন্য দোয়া করেন। শুধু পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারই নয় এরকমটা দেশের সব পুলিশই চেষ্টা করছে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা গেছে, করোনার ভয়ে ছেলে-মেয়েরা মাকে জঙ্গলে ফেলে দিয়ে গেছে অথবা চরে ফেলে আসা হয়েছে করোনাক্রান্ত মনে করে।
এমন সব মানুষদের তুলে নিয়ে সেবা দিচ্ছে পুলিশ। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে বিষয়টি স্পষ্ট আমাদের দেশে এত বড় সংকট পূর্ণ মুহূর্তে নিজের জীবন বাজি রেখে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে পুলিশ।

এই মহামারিতে আমরা যখন শান্তিতে এসির ভিতরে বাসায় শুয়ে তখন আমার গলির মাথায় আপনাকে আমাকে পাহাড়া দেয় এই পুলিশ।

রোনাভাইরাস এ কেউ মারা গেলে স্থানীয় লোকজন পরিবারের লোকজন পর্যন্ত কাছে আসছে না এখানে পুলিশ জানাযা থেকে দাফন পর্যন্ত করছে।

আজ তাদের সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় প্রায় ৯ শতাধিক পুলিশ সদস্যকে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে।ইতি মধ্যে মারাও গিয়েছে পুলিশের ৫ সদস্য। সংক্রমক ঠেকাতে চিকিৎসকদের পরই পুলিশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।
দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেবার পর তা আরো স্পস্টই হয়ে উঠছে। মানবিক পুলিশের আচরনে পুলিশের প্রশংসা মানুষের মুখে মুখে।

এদিকে, দিন রাত এক করে দেওয়া পুলিশের মধ্যেও করোনাতাংক বিরাজ করছে ইতিমধ্যে। আক্রান্ত হয়েছে অনেক পুলিশ সদস্য।

জানা যাচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকা অনেক পুলিশের জন্য করা হয়নি তেমন কোন সুব্যবস্থা। রাখা হয়েছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশবন্ধী গোটাল কক্ষে। যদি এমন হয় আর যদি এ মুহূর্তে পুলিশ সদস্যদের মনবল ভেঙ্গে যায়, তবে হয়ত দেশের এমন অবস্থায় আরেক রকম সংকটাবস্থা তৈরি হবে।। তাই আমাদের চাওয়া, তাদের মনবল কোন কারনেই দুর্বল না হয়ে পরে সেদিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখা।

পুলিশের সুরক্ষার বিষয়ে এখন পর্যাপ্ত পরিমাণ সুরক্ষাসামগ্রী সরবরাহ করা যায়নি। আবার দায়িত্ব পালনের সময় ‘অসাবধানতাবশত’ সাধারণ মানুষের সংস্পর্শে এসেও অনেক পুলিশ সদস্য সংক্রমিত হয়েছেন। এতে ঝুঁকিও বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরী।
বিশ্বের এমন পরিস্থিতি একসময় বদলে যাবে। বদলে যাবে বাংলাদেশও। শুধু মানুষের চাওয়া পুলিশের ভাবমুর্তি অক্ষুন্ন থাকুক বিপদ কেটে গেলেও। বাংলাদেশ পুলিশের জন্য ভালবাসাটুকু লেগে থাকুক আগামী দিনগুলোতেও।।

লেখকঃ
কবি, সাংবাদিক- বিপুল কুমার বিশ্বাস।।
প্রকাশনা সম্পাদক “সাহিত্য নিকেতন”(বাংলাদেশ ও ভারত)
___________________________

0Shares

Comment here