জাতীয়রকমারিরুপসী বাংলাস্বাস্থ্যপাতা

আক্কেলপুরে কাল বৈশাখী ঝড়ে ধান সহ ফসলের ব্যপক ক্ষতি।

 

আক্কেলপুর প্রতিনিধিঃ জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে হঠাৎ কাল বৈশাখী ঝড়ে ইরি বোরো ধান সহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

আজ ৫ ই মে দুপুর ২ টায় উত্তর পশ্চিম দিক থেকে ধেয়ে আসা এক কাল বৈশাখী ঝড় প্রায় ৬০- ৭০ কিলোমিটার বেগে আক্কেলপুরের উপর দিয়ে বিভিন্ন অঞ্চল হয়ে পূর্ব দিকে চলে যায়।

এতে করে ইরি বোরো ধান মাটির সংঙ্গে পরে যাওয়া সহ কাঁচা মরিচ, বেগুন, পোটল, কলা, ভুট্টা, আম সহ বাড়ি ঘরের ব্যপক ক্ষতি হয়।

এ আকর্ষিক ঝড়ে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ছুটা ছুটি সুরু করে ৩০ মিনিট কাল স্বাস্থায়ী এই ঝড়টির ফলে বড় বড় গাছ মাটিতে আছড়ে পড়ে এবং অর্ধ পাকা ও কাঁচা বাড়ি ঘরের টিনের চালা উড়ে যায়।

আক্কেলপুর পৌর সদরের ফকির পাড়া গ্রামের আতাউর রহমান একজন প্রান্তিক চাষি অনেক কষ্টে করে তিন বিঘা জমিতে ইরি ধানের ফসল ফলিয়েছেন কিছু দিনের মধ্যে তার ইরি বোরো ধান ঘরে উঠানোর কথা কিন্তু এই হটাৎ কাল বৈশাখী ঝড়ের ফলে তার ফসলের ব্যপক ক্ষতি হওয়ায় মাথায় হাত দিয়ে আহাজারি করতে দেখা গেছে।

আক্কেলপুর পৌর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এলাকায় বসবাসরত মোঃ রশিদ মিয়া বলেন এক দিকে করোনার প্রভাবে কাজ কর্ম বন্ধ হয়ে বসেছে, যাও একটু ধান লাগিয়ে ছিলাম তা ঝড়ের প্রভাবে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে নষ্ট হওয়ার আশংঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আওয়ালগাড়ী গ্রামের উজ্জ্বল মন্ডল বলেন আমি ৩ বিঘা জমিতে ইরি বোরো ধান ও ১৬ শতক জমিতে বেগুন চাষ করেছিলাম যাহা এই ঝড়ের কারণে নষ্ট হয়েছে। করোনার প্রভাবে একদিকে শ্রমিক সংকট অপর দিকে এই ঝড়ের ফলে দিন মজুর না পাওয়ার আশংঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শ্রমিক পেলেও দিন প্রতি ৮০০- ৯০০ টাকা দিতে হবে বলে জানান।

আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি অফিঅস সূত্রে জানা গেছে , এ বছর ১০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান ও ৫০ হেক্টর জমিতে আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইরি-বোরো ফসল ঘরে উঠানোর পূর্ব মহূর্তে হটাৎ এই কাল বৈশাখী ঝড়ে আক্কেলপুর পৌর সভা সহ উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের হাজার হাজার জমির ফসলের ক্ষতি হওয়ায় কৃষক কূল দিশাহারা হয়ে পড়েছে। রোয়াইর গ্রামের আতিকুজ্জামান মুম বলেন তার বাগানের শতাধিক গাছের আম এবং বাড়ি ঘর সহ সম্পূন্ন রূপে বিনষ্ট হয়েছে

করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব পরায় কৃষকের ফসলের নায্য মূল্যের আশংঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন সংস্থা থেকে ঋণ দেনা করে এই ইরি ফসল ফলিয়ে ছিলেন দুই মুঠো ভাতের আশায়, কিন্তু হটাৎ এই ঝড় কৃষকের সকল আশা লন্ডভন্ড করে দিয়েছে।

অত্র অঞ্চলের কৃষকরা জানান এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আউশ ধানের পাশাপাশি পাট ও ভুট্টা ব্যপক চাষ করা প্রয়োজন।

কৃষক আতাউর হক বলেন অবিলম্বে ক্ষুদ্র প্রান্তিক চাষি সহ সকল প্রকার কৃষকের মাঝে বিনা মূল্যে বিজ, সার ও সকল প্রকার কৃষি সমগ্রী সরবরাহ অতিবঃ জরুরি তা নাহলে কৃষক কূল আগ্রামী মৌসুমে ফসল ফলাতে সম্পূর্ণ রূপে ব্যর্থ হবে।

চৈতন্য চ্যাটার্জী
আক্কেলপুর, জয়পুরহাট।

0Shares

Comment here