খেলার মাঠেজাতীয়ধর্মকর্ম

করোনায় ৯২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর।

দিগন্তর রিপোর্ট : যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ায় করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রাখা গেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আর কেউ প্রাণ হারান আমরা চাই না। সৌদি আরবে আল্লাহর বান্দাদের সুরক্ষার জন্য রমজানের তারাবির নামাজ মসজিদে না পড়ার বিষয়ে বলা হয়েছে। আমাদের এখানেও রমজান মাসে ঘরে বসে তারাবি পড়ার জন্য অনুরোধ করছি।

আজ বৃহস্পতিবার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ জেলাসমূহের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের শুরুতে সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কারা দলের ভোটার এই দেখে তালিকা করা যাবে না। আমরা চাই, যারা প্রকৃত অসহায়, তারা তালিকায় আসুক। আওয়ামী লীগ শুধু দলীয় রাজনীতি করে না, আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য রাজনীতি করে। বৃহস্প‌তিবার প্রধানমন্ত্রী সরকা‌রি বাস ভবন গণভবন থে‌কে ভি‌ডিও কনফা‌রেন্স এসব কথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, সারা বিশ্ব বলছে, অর্থনীতিতে বড় মন্দা দেখা দিতে পারে, যার ফলে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। এটি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে ৯২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া আগামী তিন বছরের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। জনসমাগম এড়িয়ে কাজ চালিয়ে নিতে হবে। মন্দা থেকে রক্ষা পেতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব সব নামাজ বন্ধ করে দিয়েছে, এমনকি তারাবিহ নামাজ ঘরে পড়বে তারা। এটি থেকে শিক্ষা নিতে হবে। ঘরে বসে ইবাদত করতে হবে। তাই তারাবিহ নামাজ ঘরে পড়ার আহ্বান জানান তিনি। রমজানে পণ্য পরিবহন ও খাদ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ পর্যন্ত ১৪ হাজার ৮৬৮ জনের পরীক্ষা করা হয়েছে, যার মধ্যে ১ হাজার ২৩১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তবে বিশ্বের অবস্থা আরও ভয়াবহ। আগে থেকে ব্যবস্থা নেওয়ায় আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ধারাবাহিকভাবে দেশের সব জেলার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করছেন প্রধানমন্ত্রী। আগামীকাল ঢাকার আরও কিছু জেলার সঙ্গে কথা বলবেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, করোনার কারণে সারাবিশ্বের মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত। মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। অদৃশ্য ভাইরাসের কারণে সারা বিশ্ব আজ একটা জায়গায় চলে গেছে। অর্থনীতেতে এর বিরুপ প্রভাব পড়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে অমানুষ হয়ে পড়ে। সামান্য জ্বর-কাশি হলে স্বামী-সন্তান মিলে নারীকে জঙ্গলে ফেলে আসা হয়েছে। অসুস্থ হলে ঘর থেকে, এলাকা থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। এটা কেন হবে? অসুস্থ হলে পরীক্ষা করান। স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনা মেনে চলেন। বাংলাদেশের মানুষের তো এমন অমানবিক হওয়ার কথা না।

ভিডিও কনফারেন্সে করোনা পরিস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে সুরক্ষা নিশ্চিত করে কলকারখানা চালু করা যাবে বলে জানান বঙ্গবন্ধুকন্যা। এছাড়া কৃষিকাজ চালিয়ে যাওয়ারও পরামর্শ দেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এমন দুর্যোগে গৃহবন্দীদের আমরা সহায়তা দিচ্ছি। কিন্তু সাহায্যের মধ্যে কেউ থাবা দিক আমরা চাই না। যারা এটা করছে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কোনো অনিয়ম বরদাশত করবো না।

0Shares

Comment here