খেলার মাঠেজাতীয়ধর্মকর্মরাজনীতি

কে এই খুনি মাজেদ?

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন ক্যাপ্টেন মাজেদ। হত্যাকাণ্ড শেষে অপর আসামি মেজর শাহরিয়ারসহ অন্য সেনা সদস্যদের সঙ্গে রেডিও স্টেশনে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

তাছাড়া দেশত্যাগের আগ পর্যন্ত ক্যু করা সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বঙ্গভবনে বিভিন্ন দায়িত্বও পালন করেছিলেন। জেলে জাতীয় চারনেতার হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন মাজেদ। জেলহত্যা মামলায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।

বঙ্গবন্ধুর এই পলাতক খুনি বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত দ্বীপ জেলা ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বাটামারা গ্রামের মরহুম আলী মিয়া চৌধুরীর ছেলে। আবদুল মাজেদ ৪ মেয়ে আর এক ছেলের বাবা। তার স্ত্রী সালেহা বেগম বর্তমানে বাড়ি ১০/এ, রোড-১, ক্যান্টনমেন্ট আবাসিক এলাকা ঢাকা সেনানিবাসে বসবাস করছেন।

খুনি মাজেদ তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানের আদেশে হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী অফিসারদের সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে ব্যাংকক হয়ে লিবিয়া গিয়েছিলেন। সেখানে তিনমাস অবস্থান করেছিলেন। সেখানে অবস্থানকালেই হত্যাকাণ্ডের পুরস্কার হিসেবে তাকে জেনারেল জিয়া সেনেগাল দূতাবাসে বদলির আদেশ দেন।

পরবর্তীতে ১৯৮০ সালের ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমান সরকার মাজেদকে বিআইডব্লিউটিসিতে চাকরি দিয়েছিলেন। উপসচিব পদে বসাতে সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে তাকে অবসর গ্রহণ করানো হয়। পরে সচিব পদে তার পদোন্নতি হয়। এরপর তিনি যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের পরিচালক পদের জন্য আবেদনের পর যোগদান করেন। সেখান থেকে তিনি ডাইরেক্টর অব হেড অব ন্যাশনাল সেভিংস ডিপার্টমেন্টে বদলি হন।

সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের আমলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ রুদ্ধ করে দেয়া হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর বিচারের পথ খুলে যায়। মামলা দায়ের হওয়ার পর বিচারও শুরু হয়।

সে সময়ই আটক হওয়ার ভয়ে আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন মাজেদ। এরপর ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় গেলে ফের শ্লথ হয়ে যায় মামলার গতি। আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে পুণরায় ক্ষমতায় ফিরলে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার দায়ে সর্বোচ্চ সাজার আদেশ পাওয়া আসামিদের মধ্যে সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান, মহিউদ্দিন আহমদ (ল্যান্সার), এ কে বজলুল হুদা ও এ কে এম মহিউদ্দিনের (আর্টিলারি) ফাঁসি কার্যকর করা হয় ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি। তবে ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে পলাতক ছিলেন মাজেদসহ খন্দকার আবদুর রশিদ, এ এম রাশেদ চৌধুরী, শরিফুল হক ডালিম, এসএইচএমবি নূর চৌধুরী ও রিসালদার মোসলেম উদ্দিন খান।

গত দু্দশকের বেশি সময় ধরে মাজেদ ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। সেখানে তিনি থাকতেন কলকাতায়। মার্চের মাঝামাঝি তিনি দেশে ফেরেন। তবে কীভাবে ফেরেন, ফিরে কোথায় ছিলেন সে ব্যাপারে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩টার সময় মাজেদকে মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বর এলাকা থেকে আটক করে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে তাকে সিএমএম আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দেন।

আইনজীবীরা বলছেন, আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ বহু আগেই পেরিয়ে গেছে। তবে সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সুযোগ তার থাকবে। সেই আবেদন তিনি না করলে বা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে সরকার এই আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে পারবে।

0Shares

Comment here