অর্থনীতিখেলার মাঠেজাতীয়লাইফস্টাইল

সূর্যোদয়ের আগেই দুঃস্থদের মাঝে ত্রাণ পৌঁছে দিলেন দিনাজপুরের ডিসি।

মোঃ মিজানুর রহমান
দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
দেশের চলমান করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে যখন নাভিশ্বাস উঠেছে দিনাজপুর  জেলার অসহায় খেটে খাওয়া, দুঃস্থ, অসহায়, কর্মহীন, হতদরিদ্র ও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারবর্গ।
ঠিক সেই মুহূর্তেই রাতের ঘন-ঘোর অন্ধকারে সূর্যোদয়ের পূর্বে ঘুমন্ত মানুষের কাছে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে হাজির হয়েছেন, দিনাজপুর জেলার সুযোগ্য জেলা প্রশাসক, প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাসহ তাঁর একনিষ্ঠ সহকর্মীবৃন্দ।
বৃহস্পতিবার (২ ই এপ্রিল ) দিনাজপুর সদর উপজেলার  পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় রাতের অন্ধকারে সূর্যোদয়ের পূর্ব (ভোর ৪:০০ ঘটিকা) থেকেই অসহায় ও দুঃস্থ ৫০০টি পরিবারের মাঝে পাঁচটি টীমে বিভক্ত হয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল আলম। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসনের অন্যান্য একনিষ্ঠ কর্মকর্তাবৃন্দ।
জেলা প্রশাসক স্বয়ং দুঃস্থ পরিবারের দ্বারেদ্বারে কড়া
নেড়ে বলছেন, “ঘুম থেকে উঠুন, দরজা খুলুন,” জেলা প্রশাসন পরিবার সরকারের পক্ষ থেকে
আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে সামান্য কিছু ত্রাণ সামগ্রী।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অত্যন্ত বিনয়ী আচার-আচরণে বিমুগ্ধ ত্রাণ সামগ্রী গ্রহীতা অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে চোখের জল ফেলে তাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া প্রার্থনা করছে।
অনেক ত্রাণ গ্রহীতা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণের উপস্থিতিতে অবাক হয়ে বলছেন, আমরা ভাবতে পারিনি রাতের অন্ধকারে ডিসি স্যার ও আপনারা ত্রাণ নিয়ে আসবেন আমাদের দরজায়। আপনাদের এই মহতী উদ্যোগে, আমরা আপনাদেরকে সাধুবাদ জানাই।
সূর্যোদয়ের পূর্বে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের কারণ জানতে চাইলে জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, এসময় প্রায়ই লোকজন ঘুমিয়ে থাকে বিধায় সুষ্ঠুভাবে ত্রাণ বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে। সামাজিক ও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে কোনো সমস্যা হয়নি। নির্দিষ্ট তালিকাভুক্ত ব্যক্তিকে ত্রাণ সামগ্রী দেয়া সহজ হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল আলম ‘দৈনিক দিগন্তর’কে বলেন, চলমান করোনা পরিস্থিতিতে দিনাজপুর জেলার অসহায় খেটে খাওয়া, দুঃস্থ, কর্মহীন,ক্ষতিগ্রস্থ ও হতদরিদ্র মানুষদের জেলা প্রশাসক বরাবর খাদ্য সামগ্রীর জন্য অনলাইনে প্রাপ্ত আবেদন যাচাইবাছাই করে, ১০ দিনের জন্য একটি পরিবারকে চাল, ডাল, তেল, আলু ইত্যাদি ত্রাণ সামগ্রী তাদের বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আমাদের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরো বলেন, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আমরা চাই দেশের প্রতিটি মানুষ ভালো থাকুক। ত্রাণ বিতরণে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সমাজের ধনী ও বিত্তবান লোকদের এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। সেইসাথে অনেকেই ব্যক্তিগত পর্যায়ে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করছেন, তাদেরকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অসংখ্য  কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
0Shares

Comment here