খেলার মাঠেজাতীয়ধর্মকর্ম

গুরুত্ব কমছে সরকারি নির্দেশের,পাড়ার চায়ের দোকানে উপচেপরা ভিড়।

খুলনা থেকে নিজস্ব সংবাদদাতাঃ প্রতিনিয়ত মানুষ নানা অযুহাতে বের হচ্ছে ঘরের বাহিরে।আড্ডাও জমেছে পাড়ার পাড়ার চায়ের দোকানে।

দেশে করোনা-সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারি নির্দেশনা জারি করেছেন তার গুরুত্ব কমছে ধীরে ধীরে। নিজে যেমন মানছেনা এক শ্রেণীর মানুষ আবার অন্যকেও নানা কথা বলছে।ফোনে ডেকে ডেকে মজলিস বসাচ্ছে পাড়ার চায়ের দোকানে। অর্থাৎ সরকার ঘোষিত হোম কোয়ারেন্টাইন মানছে না কেউ।নানা অজুহাতে বালাইয়ে ঘরের বাইরে রাস্তাঘাটে পাড়া,মহল্লার চায়ের দোকানগুলোতে ভীড় জমাচ্ছে।সরকার ঘোষিত নির্দেশে যে সকল শিষ্টাচার মানুষে-মানুষে ‘সামাজিক নিশ্চিত দূরত্ব’ ৩/৬ ফুট দুরত্ব বজায় রেখে চলতে বলা হয়েছে তা আর মানছে না কেহই। বরং গা ঘেসে গলায় হাত রেখেও বসে থাকতে দেখা যায়।।

বরাবরের মতই মানুষ রাস্তায় বের হচ্ছে, আড্ডা দিচ্ছে। তবে প্রধান সড়কগুলোতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ প্রশাসনের প্রহরা থাকার কারনে,প্রতি এলাকা, পাড়া – মহল্লার চায়ের দোকানে ভিড় বাড়ছে সকাল – সন্ধ্যায়। একই সিগারেট ভাগ করে পান করছে,একই গ্লাসে পানি পান করছে, তেমনি মানছেনা হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার কেহই।যেখানে সেখানে কাশির কফ কিংবা থুথু ফেলছে। খুলনার বিভিন্ন এলাকা,পাড়া,মহল্ল ঘুরে দেখা গেছে এসব চিত্র।

শহরের প্রধান সড়কগুলো ও সড়ক সংলগ্ন বাজারগুলোতে মানুষের উপস্থিতি তেমন না থাকলেও ছোট ছোট অলিগলিতে ভিড় চোখে পড়ার মত। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর মোড়ে মোড়ে চায়ের দোকানগুলোতে বসছে মানুষের জমজমাট আড্ডা।

আজ সকালে ও দুপুরে নগরীর অবস্থিত হরিণটানা বাজার,রিয়া বাজার,রূপসা নতুন বাজার, সেখ পাড়া বাজার, বয়রা ববাজার, গল্লামারি বাজার, বড় বাজারসহ অধিকাংশ বাজারে উপচে পড়া ভিড়। প্রয়োজনীয় কাঁচা বাজার ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি নিতে এসেছে অধিকাংশ লোকজন। দেখা যায় গায়ে গা ঘেঁষে দাড়িয়ে কেনাকাটা করছেন তারা। যেখানে বলা হয়েছে ৩/৬ ফুট দুরত্ব বজায় রাখার জন্য কিন্তু তাদের দুরত্বতা নাই বললেই চলে। ১ ফুট জায়গাও ফাঁকা নেই। অনেকেই মাস্ক ব্যবহার না করে হাঁচি কাশি নিয়ে ঘুরে চেরাচ্ছেন ।দোকানির হাতে নেই কোন গ্লাভস। তেমনি দোকানি ও ক্রেতার মাঝখানেও নেই তেমন কোন দূরত্ব, রক্ষা করা হয়নি নির্দষ্ট কোন দুরত্ব। এছাড়া, ক্রেতা-বিক্রেতাকে যেখানে-সেখানে কফ-থুথু ফেলতেও দেখা গেছে।কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, তারা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়ে জানেন। কিন্তু কেনাকাটা করতে এসে পরিস্থিতির কারণে ঠিকমতো সেই দূরত্ব রক্ষা করতে পারেন না বলে দাবি করেছেন তারা। আর বিক্রেতারা বলছেন, ক্রেতাদের দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলেও তারা কেউ শোনেন না।

মাস্ক ও গ্লাভস পরা প্রসঙ্গে বিক্রেতারা বলছেন, এগুলো পরলে কাজে অসুবিধা হয়। তাই কম ব্যবহার করেন তারা। তাছাড়া করোনায় তো আর কোন সংক্রমিত হচ্ছে না তাই ভয়ের কিছু নেই।

নগরীর সোনাডাঙ্গার ২২তলা ডেল্টা লাইফ টাওয়ারের পাশের গলিতে যেন বেশ ভীড় চোখে পড়ল।এই এলাকায় কিছু কারখানা থাকায় কারনে এখানকার শ্রমিকরা চা খেতে বাইরে আসে এবং আড্ডায় বসে।

শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়,তাদেরকে দিয়ে নাকি জোর করে কাজ করানো হচ্ছে।তারা হোম কোয়ারেন্টাইন মানতে চায়,কিন্তু কাজের চাপে মালিকের ভয়ে পারছেন না। গত দু’দিন থেকে আবার এসব কারখানা মালিক পক্ষ খুলে রেখেছে।

করোনায় সংক্রমিত হওয়ার বিষয়ে এক ব্যক্তি বলেন, কপালে থাকলে ভাইরাসে মরব, কপালে না থাকলে কেউ মারতে পারবে না।

সরকারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা মোতাবেক করোনা ভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে একজন মানুষ থেকে অন্য মানুষের দুরত্ব সর্বনিম্ন ৩/৬ ফুট পর্যন্ত দূরত্বে বজায় রাখতে বলা হয়েছে। কারন এ দুরত্বের নিচে চলা ফেরা করলে ভাইরাস ছড়াতে পারে এবং অধিকতর ঝুকির থাকে। তাই মানুষে-মানুষে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি।’

তদারকির বিষয়ে খুলনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আসলাম বাহার বুলবুল বলেন, প্রশাসনের পক্ষথেকে সব এলাকার দোকানপাট বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। তবুও কিছু কিছু চায়ের দোকানদাররা তাদের চোখ এড়িয়ে দোকান খোলা রেখে যাচ্ছে।

0Shares

Comment here