খেলার মাঠেজাতীয়ধর্মকর্ম

দেশের সব কিছুতে পরেছে করোনার প্রভাব,তবুও থেমে নেই N.G.O এর কিস্তি’র চাপ!’

 

বিপুল কুমার বিশ্বাস কচুয়া প্রতিনিধিঃ বিশ্ব যখন করোনা মহামারিতে আতঙ্কিত, সব কিছুতেই পড়েছে করোনার প্রভাব ´উদ্বেগ বাংলাদেশও তবুও রেহাই নেই কিস্তি প্রদানে।

সারাদিনে কোন বেচাকেনা নেই। হত দরিদ্ররা সামান্য খাবার সংগ্রহে হিমসিম খাচ্ছে, কি খাবে, কি করে বাঁচবে এ নিয়েই ভাবছে সারক্ষণ। তারপরও মরার উপর খাড়ার ঘা। ব্যাংক, এনজিও’ ও সুদ কারবারিদের দেনার চাপ। রোববার দুপুরে এমনটাই জানালেন বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার কিছু সাধারন দিনমজুরেরা,রিক্সা-ভ্যান চালকেরা,সাধারন মুদি ব্যবসায়ীরা,চা-পানের দোকানদার।

তারা আরও জানান, সারা বিশ্বে ” করোনা ভাইরাস” প্রতিরোধে সবাই যখন সোচ্চার। সরকার যেখানে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে। সেখানে বহাল তবিয়াতে চলছে ব্যাংক, এনজিও ও মহাজনি সুদে কারবারিদের কিস্তি আদায়। “করোনা ভাইরাস” এর প্রভাবের পর থেকে কচুয়া উপজেলার প্রতিটা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া অন্য সব কিছুর বেচা কেনা এক প্রকার বন্ধ হয়ে গেছে। তারপর থেমে নেই কর্মীদের কিস্তি আদায়।

এ উপজেলায় সকল ব্যাংক, এনজিও এবং সকল সমবায় সমিতি এবং অনেক গ্রাম্য মাসিক মুনাফা আদায় ভিত্তিক মহাজনি সমিতি রয়েছে। বাজারের প্রতিটি ব্যবসায়ী কমপক্ষে ৪-৬টি এনজিও’র ঋণের জালে জড়িত। তাই বর্তমানে কিস্তির চাপে ব্যবসায়ী ও সাধারন মানুষেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সরকারের এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলেও সাধারন মানুষ উল্লেখ করেন।

একই বাজারের এক চায়ের দোকানদার (৪৫)। তার পাঁচ সদস্যর পরিবার । চা বিক্রির উপরই তাদের জীবন ও জীবিকা নির্ভর। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে এবং দেশের এ পরিস্থিতিতে এখন আবার চায়ের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এ সময়ে কি খেয়ে বাঁচবেন তা নিয়েই তিনি দিশেহারা। তবুও রয়েছে কিস্তির চাপ। কিভাবে এ বিস্তির্ন টাকা পরিশোধ করবো !
চায়ের দোকানি বলেন, এনজিও ব্র্যাকে তার লোন নেওয়া ১৫ হাজার টাকা, সপ্তাহে কিস্তি ৪৫০ টাকা, গ্রামীণ ব্যাংকের ৩০ হাজার টাকার কিস্তি ১,৫০০ টাকা, সিএস-এর ৪০ হাজারের কিস্তি এক হাজার ২০০ টাকা, জাগরণী চক্রের ৩০ হাজারের এক হাজার, কোডেকের ৫০ হাজারে এক হাজার টাকা ও এসডিএফ-এর ২০ হাজারে সপ্তাহে ৫০০ টাকা করে কিস্তি দিতে হয়। গড়ে প্রতিদিন তার কোন না কোন এনজিওর কিস্তির তাড়া থাকে। এ অবস্থায় তিনি কিস্তির চাপে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছেন।

বাজারের অনেক ফল বিক্রেতা , কাপড় ব্যবসায়ী, , মুরগি বিক্রেতা এরকম না ব্যবসায়ীর একই অবস্থা। তাই তারা এই মুহুর্তে দেশের ঋণদানকারী সকল ব্যাংক, এনজিও, সমিতি ও সুদে কারবারিদের কিস্তি ও সুদের টাকা বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আপাতত আদায় পর্ব স্থগিত রাখার অনুরোধ করেছেন।

তাছাড়া গ্রামে সমিতির কিস্তি আদায়ের লক্ষ্যে অনেক লোকের জর হয়,সেখানে কেহ আক্রান্ত ব্যক্তি থাকার কারনেও এ ভাইরাস সংক্রমণে সংক্রমিত হতে পারে।

এ ব্যপারে কয়েকটি এনজিও ও ব্যাংকের কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলে নাম না প্রকাশ করার শর্তে তারা বলেন, এখনও উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কোন নির্দেশনা আসেনি। নির্দেশনা পেলে কিস্তি আদায় বন্ধ করা হবে।

0Shares

Comment here